২২ অক্টোবর ২০২৬, ১৪:০৮

সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, কারণ খুঁজতে ব্যর্থ সরকার: সিপিবি

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির নেতাদের বিক্ষোভ  © সংগৃহীত

সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় সরকারের কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)। একই সঙ্গে সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশে কারাবন্দি ২০ হাজারেরও বেশি বাংলাদেশিকে মুক্ত করার জন্য কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে দলটি।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক বিক্ষোভ সমাবেশে এসব দাবি জানান সিপিবির কেন্দ্রীয় নেতারা।

সমাবেশে কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল ক্বাফী রতন বলেন, সৌদি আরব বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আলোচনা না করে দুই বাংলাদেশি নাগরিককে গলা কেটে হত্যা করেছে। সরকার এই হত্যাকাণ্ডের কারণ খুঁজে বের করতে ব্যর্থ হচ্ছে। এই হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে সরকারকে ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় সৌদি দূতাবাস ঘেরাও করা হবে।

তিনি বলেন, নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তারের মতো কর্মীদের সৌদি আরব থেকে নির্যাতিত হয়ে ফিরতে হচ্ছে। অনেক নারী গর্ভবতী হয়ে দেশে ফিরছেন। এসব কুকর্মের জবাব সৌদি আরবকে দিতে হবে। একটি দেশকে না জানিয়ে কীভাবে সেই দেশের নাগরিককে হত্যা করতে পারে? এসব প্রশ্নের জবাব দিতে হবে।

কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ড. ফজলুর রহমান বলেন, আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসলে কার লোক? তিনি দেশের স্বার্থে, নাকি আমেরিকার স্বার্থে কাজ করছেন, তা দেখা দরকার।

তিনি আরও বলেন, দেশের গরিব ছেলেমেয়েরা তাদের সবকিছু বিক্রি করে বিদেশে যান। এ দেশের যারা বড়লোকি দেখান, তাদের জোগানদাতা এসব কর্মীরাই। তারা দেশে টাকা পাঠান বলেই এরা বড়লোকি দেখাতে পারেন। সৌদি সরকার দেশের দুই ছেলেমেয়েকে হত্যা করেছে। অথচ আমাদের সরকার কিছুই করছে না। সৌদি আরব যে অন্যায় করেছে, সরকার যথাযথ ব্যবস্থা নিতে না পারলে আমরা দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলব।

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য রাগীব আহসান মুন্না বলেন, দেশের মাটিতে কাজ না পেয়ে জমিজমা বিক্রি করে লোকজন বিদেশে যান। তারা সৌদি আরবে দাসত্ব করে টাকা পাঠান। আবার পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়ে চলেও আসেন। দেশে এসে কোনো প্রতিকারও পান না। সরকার নীরবে বসে থাকে। শরিয়াহর নামে যে শিরশ্ছেদ হলো, সরকারের তা প্রতিবাদ করার সাহস নেই। বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশের সরকারগুলো দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবের অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলে না।