১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৮:১২

নিজেই প্রধানমন্ত্রীর কাছে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন ইশরাক

ইশরাক হোসেন   © সংগৃহীত

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে নিজেই অনুরোধ করেছেন বলে জানিয়েছেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। 

সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তিনি। 

ইশরাক হোসেন বলেন, আজকের দিন থেকে আমি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি চেয়েছি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে। আমার কারণে প্রধানমন্ত্রীর কর্মকাণ্ড কিংবা দল যেন বিব্রত না হয়, সেজন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগের ইচ্ছা পোষণ করি। আমি তাকে বলেছি, পুরো সময়টাতে ঢাকা-৬ আসন, পার্শ্ববর্তী এলাকা, পরবর্তী সময়ে আরও যদি এলাকা থাকে, সেখানকার মাদক নির্মূল এবং আমাদের জাতীয় জনজীবনের অন্যান্য সমস্যা নিয়ে কাজ করতে চাই। তিনি সদয় সম্মত হয়েছেন এবং আমাকে সুযোগ করে দিয়েছেন—‘ঠিক আছে যাও, এলাকা ঠিক করে এলাকায় কাজ করো’।

তিনি বলেন, আমার দ্বারা কোনও ভুল হয়ে থাকলে, কাউকে আঘাত দিলে আমি দুঃখ প্রকাশ করছি। কিন্তু দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি আমি কোনও ভুল করিনি। শুধু নিজের নিরাপত্তার জন্য কিছু সময় ব্যক্তিগত অস্ত্র হাতে রেখেছিলাম। আমি জমি দখল বা চাঁদা তুলতে যাই নাই, মাদক নির্মূলের জন্য গিয়েছিলাম। আন্তর্জাতিক সিন্ডিকেটের সঙ্গে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রকদের যোগসাজশ আছে।

ইশরাক হোসেন বলেন, পুলিশ বাহিনী যেহেতু ইকুইপ্ট নয়; সুতরাং পুলিশ ও এলাকাবাসীদের সঙ্গে নিয়ে মাদক নির্মূলের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। থানাকে জানিয়ে ঘুণ্টিঘর এলাকায় মাদক নির্মূলের অভিযানে গিয়েছিলাম। ব্যক্তিগত নিরাপত্তার স্বার্থে আমি ব্যক্তিগত লাইসেন্স করা অস্ত্র হাতে রেখেছিলাম।

তিনি আরও বলেন, পুলিশ বাহিনী ঘুণ্টিঘর এলাকায় যেতে সাহস পান না, কারণ ওরা ওপর থেকে গুলি করে। গেন্ডারিয়ার ঘুণ্টিঘর এলাকায় স্কুল কলেজে শিক্ষার্থীদের মাঝে মাদক ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছিল। এলাকাবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে মাদকের হাব ধ্বংস করতে গিয়েছিলাম।

অভিযান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য অল্প সময়ের জন্য নিজের বৈধ আগ্নেয়াস্ত্র হাতে নিয়েছিলেন। তার অভিযোগ, গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাদকবিরোধী অভিযানের মূল উদ্দেশ্যের পরিবর্তে অস্ত্র প্রদর্শনের বিষয়টিকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এর আগে, গত শনিবার ঢাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে সন্দেহভাজন মাদকসেবীদের ধাওয়া করার সময় ইশরাকের হাতে পিস্তল দেখা যাওয়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিতর্ক শুরু হয়। একজন দায়িত্বশীল জনপ্রতিনিধি ও প্রতিমন্ত্রীর এভাবে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া নিয়ে সমালোচনা হয়।

রবিবার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে মাদকবিরোধী অভিযানে বিতর্কের জেরে ইশরাককে পদত্যাগ করতে বলা হয়েছে সংবাদ প্রচার হয়। তবে সেদিন তার দপ্তর পদত্যাগের খবরকে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রত্যাখ্যান করে।

পরবর্তীতে আজকের সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক দায়িত্ব ছাড়ার অনুরোধ জানানোর কথা স্বীকার করলেও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তাকে পদত্যাগ করতে বলেননি; বরং সিদ্ধান্তটি তার নিজের।