১৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩:২৮

শেখ হাসিনার সময় তাফসির মাহফিলে বাধা দেওয়া হত, আজও কেন?

আমির হামজা  © সংগৃহীত

কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামী নেতা মুফতি আমির হামজা রাজশাহীতে তার তাফসির মাহফিলের অনুমতি না দেওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, শেখ হাসিনার সরকারের সময় তাফসির মাহফিলে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ছিল, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও কেন একই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে? আজ রবিবার (১৮ অক্টোবর) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।

পোস্টে প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে আমির হামজা লেখেন, রাজশাহীতে তার একটি তাফসির মাহফিলের অনুমতি না দেওয়ার ঘটনায় তিনি গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। প্রশাসনের কাছে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, কোন আইনি ও সুনির্দিষ্ট কারণে একটি ধর্মীয় মাহফিলের অনুমতি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে, তা স্পষ্ট করা প্রয়োজন। নিরাপত্তার কোনো বাস্তব উদ্বেগ থাকলে তা যথাযথভাবে ব্যাখ্যা করারও আহ্বান জানান তিনি।

আমির হামজা আরও লেখেন, অস্পষ্ট অভিযোগ বা অজুহাতে ধর্মীয় সমাবেশের অধিকার সীমিত করা হলে সেই সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। রাজনীতি কি কোরআনের বাইরে? রাষ্ট্র, সমাজ, সুশাসন, দুর্নীতি, জুলুম ও মানুষের অধিকার নিয়ে কথা বলা কি ইসলামী শিক্ষার বাইরে? পবিত্র কোরআন ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, অন্যায় থেকে বিরত থাকা, জুলুমের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া এবং মানুষের অধিকার রক্ষার শিক্ষা দেয়। সমাজ ও রাষ্ট্রের অসংগতি নিয়ে আলোচনা কিংবা অন্যায়ের প্রতিবাদকে রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবে বিবেচনা করা হলে তার জবাব যুক্তি ও নীতির ভিত্তিতে দেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক বক্তব্যের অভিযোগ তুলে একটি তাফসির মাহফিলের অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত কেন নেওয়া হয়েছে, তার সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন। ন্যায়বিচার, সুশাসন ও মানুষের অধিকার নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ থাকবে কি না। অতীতে শেখ হাসিনার সরকারের সময়ও ধর্মীয় বক্তাদের বক্তব্য ও মাহফিল ঘিরে বাধা এবং বিধিনিষেধের অভিযোগ উঠেছিল। রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ধর্মীয় অধিকার এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে আরও স্বচ্ছ ও ন্যায়সংগত পরিবেশ প্রতিষ্ঠিত হবে বলে তারা আশা করেছিলেন।

তবে রাজশাহীতে তাফসির মাহফিলের অনুমতি না দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘সরকার পরিবর্তন হয়েছে, কিন্তু সিদ্ধান্ত গ্রহণের মানসিকতা ও পদ্ধতিতে কি সত্যিই পরিবর্তন এসেছে? তার বক্তব্য কোনো ব্যক্তি বা দলের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ানোর জন্য নয়; বরং ধর্মীয় আলোচনা, ন্যায়বিচার ও মানুষের অধিকার নিয়ে কথা বলার সুযোগ সবার জন্য সমান থাকবে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তর চাওয়ার জন্য। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,আশা করি আপনি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবেন এবং জনগণের সামনে এই সিদ্ধান্তের যথাযথ ব্যাখ্যা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন।