১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৬:৪০

ভারতীয় দূতাবাস ঘেরাওয়ের ঘোষণা জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের

জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের বিক্ষোভ সমাবেশ  © সংগৃহীত

 ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীকে বহিষ্কারের দাবিতে আগামী ২৯ অক্টোবর ভারতীয় দূতাবাস ঘেরাওয়ের কর্মসূচি দিয়েছে জাতীয় বিপ্লবী পরিষদ।   

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে এ ঘোষণা দেন পরিষদের আহ্বায়ক খোমেনী ইহসান।

তিনি বলেন, ১৫ দিন আগে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাও করে সরকারকে ভারতীয় হাইকমিশনারের কথিত অপতৎপরতা বন্ধ এবং ভারতীয় আধিপত্যবাদের অবসান ঘটানোর দাবি জানানো হয়েছিল। কিন্তু সেই দাবি পূরণ হয়নি। উল্টো ভারতীয় মদদে দেশে-বিদেশে ফ্যাসিবাদী শক্তির উত্থান ঘটেছে।

খোমেনী ইহসান বলেন, এ অবস্থায় দিনেশ ত্রিবেদীকে বহিষ্কার করে ভারতকে জবাব দেওয়া সময়ের দাবি। আগামী ২৯ অক্টোবরের ঘেরাও কর্মসূচিতে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ সব দেশপ্রেমিক দলের নেতাকর্মীরা অংশ নেবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক দপ্তর জুলাইয়ের সহিংসতা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে অন্তর্বর্তী সরকারকে অপরাধীদের বিচারের বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে বলেছিল। কিন্তু সরকার জুলাই গণহত্যায় সরাসরি জড়িত ব্যক্তিদের এবং দলগতভাবে আওয়ামী লীগের বিচার না করে সংস্কার কার্যক্রমে সময় ব্যয় করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, এ সুযোগে আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দেশে-বিদেশে দুঃসাহসিক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন। নিউইয়র্কে হুইলচেয়ারে থাকা সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তা করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

এ ছাড়া রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবি অবমাননার অভিযোগে চার জুলাই যোদ্ধাকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন খোমেনী ইহসান। ভারতে অবস্থানরত মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি আওয়ামী লীগকে ফ্যাসিবাদী সন্ত্রাসী দল এবং ভারতকে এর মদদদাতা রাষ্ট্র হিসেবে চিহ্নিত করার দাবি জানান। 

এ বিষয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের মাধ্যমে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

খোমেনী ইহসান জানান, নিউইয়র্কে ড. ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনায় ভারত ও আওয়ামী লীগ সব সীমা অতিক্রম করেছে বলে তারা মনে করেন। এখন তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের সমঝোতার সুযোগ নেই। তাঁর ভাষায়, ‘এখন শুধু প্রতিরোধ হবে।’

তিনি আরও বলেন, ভারতীয় আধিপত্যবাদ ও ফ্যাসিবাদ প্রশ্নে বাংলাদেশের জনগণ, সরকার, বিরোধী দল ও নাগরিক সমাজের উচিত সব অস্পষ্টতা দূর করে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়া।

বিশেষ করে আওয়ামী লীগকে ফ্যাসিবাদী সন্ত্রাসী দল হিসেবে ঘোষণা এবং এ বিষয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ ও যুক্তরাষ্ট্রের মাধ্যমে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মাটি ব্যবহার করে আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ তুলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কাছে জবাবদিহি দাবি করেন তিনি।

নিউইয়র্কে ড. ইউনূসকে হেনস্তার প্রতিবাদ, আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দমন, ভারতীয় হাইকমিশনারের কথিত অপতৎপরতা বন্ধ এবং ভারতের সঙ্গে সম্পাদিত সব অধীনতামূলক চুক্তি বাতিলের দাবিতে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ শামসুদ্দিন, সহকারী সদস্যসচিব গালীব ইহসান ও আব্দুস সালাম, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের নেতা খাইরুল ইসলাম এবং বিপ্লবী ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক আবদুল ওয়াহেদ।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন নবাব সলিমুল্লাহ অ্যাকাডেমির চেয়ারম্যান মো. আবদুল জব্বার, জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. সাইদুল ইসলাম ও সাকিব সামিন এবং বিপ্লবী ছাত্র পরিষদের সহকারী সদস্যসচিব মো. আরিফুল ইসলামসহ অন্য নেতাকর্মীরা।