১০ অক্টোবর ২০২৬, ১৩:৫৫

বছরের পর বছর রিক্রুটমেন্ট নেই, আজ যখন পরীক্ষা, তখন প্রশ্নফাঁস, কী নির্মমতা!

সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ  © সংগৃহীত

কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, বছরের পর বছর কোনো সার্কুলার নাই, রিক্রুটমেন্ট নাই। আর যখন একটা এক্সাম হয়, সেখানে ভর করে প্রশ্ন ফাঁসের সিন্ডিকেট! আর কত? আজ শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।

পোস্টে তিনি লেখেন, আজ যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের এক্সাম ছিল। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে ৩ লাখ বেকার চাকরিপ্রার্থী ঢাকায় এসেছিল এই পরীক্ষা দিতে। কেউ টিউশনির টাকা জমিয়ে, কেউ বা ধার-দেনা করে ঢাকায় এসেছে—নিজের মেরিট দিয়ে একটা জব পাওয়ার আশায়।

এনসিপি নেতা লেখেন, অথচ, গতকাল রাত থেকেই ফেসবুকে প্রশ্নপত্র ফাঁস হচ্ছিল। আর আজ? ৩ লাখ ক্যান্ডিডেট যখন ১০০টা পরীক্ষা কেন্দ্রে ঢুকল, পরীক্ষা শুরুর ঠিক ৫ মিনিট আগে ঘোষণা হলো, প্রশ্নফাঁসের সত্যতা পাওয়ায় এক্সাম ক্যানসেল। কী নির্মম রসিকতা! এই ৩ লাখ তরুণ যে হ্যারাসমেন্ট আর আর্থিক ক্ষতির মধ্যে ফেললেন, এর দায় কে নেবে? সরকার আবারও পরীক্ষার আয়োজন করতে ডাবল টাকা খরচ হবে। এই টাকা জনগণের টাকা। এই জবাবদিহিতা কে করবে?

এই সংসদ সদস্য লেখেন, আজ এই ৩ লাখ স্টুডেন্ট চরম ফ্রাস্ট্রেশন নিয়ে বাড়ি ফিরে যাবে। কিছুদিন পর আবার ধার-দেনা করে ঢাকায় আসবে এক্সাম দিতে। কীসের আশায়? আবারও প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার আতঙ্ক নিয়ে? বছরের পর বছর কোনো সার্কুলার নাই, রিক্রুটমেন্ট নাই। আর যখন একটা এক্সাম হয়, সেখানে ভর করে প্রশ্ন ফাঁসের সিন্ডিকেট! আর কত? বেকারদের পকেটের টাকা আর চোখের জল নিয়ে যে সিন্ডিকেট হোলি খেলছে, তাদের পিঠের চামড়া কিন্তু ভুখা তরুণরা তুলে নিবে।

তিনি আরও লেখেন, ২০০+ পদের বিপরীতে পরীক্ষা দিচ্ছিল প্রায় ৩ লাখ পরীক্ষার্থী৷ কী বিপুল বেকার জনগোষ্ঠীর দেশে এইটা ভাবেন! কর্মসংস্থান সৃষ্টির মিথ্যা ব্রিফিং শেষে সরকার গঠন করে কয়টা সরকারি পদও বিক্রি করে দিচ্ছে টাকার বিনিময়ে! সিন্ডিকেটের নৈরাজ্য থামাতে পারছে না! 

হাসনাত আবদুল্লাহ আরও লেখেন, প্রশ্নফাঁসে জড়িত আমলা, সরকারি লোক, দলীয় লোক সবাইকে খুঁজে বের করতে হবে। সংশ্লিষ্টতা থাকলে সরাসরি ফৌজদারি মামলায় গ্রেফতার করতে হবে। গ্রেফতার করে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত বিচার সম্পন্ন করে শাস্তি কার্যকর করতে হবে। আর, সরকারকে জবাবদিহি করতে হবে৷ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীকে দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে সিন্ডিকেটের মূলোৎপাটন করতে না পারলে পদত্যাগ করতে হবে৷ অবশ্য, মন্ত্রী নিজেই সিন্ডিকেটের প্রধান হইলে সিন্ডিকেট উৎপাদন হবে, উৎপাটন হবে না।

এর আগে, আজ শনিবার সকাল ১১টায় অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা (১১তম গ্রেড) পদের নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। ২৪২টি পদের বিপরীতে সারা দেশ থেকে তিন লাখেরও বেশি প্রার্থী এ পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। রাজধানীর প্রায় ১০০টি কেন্দ্রে পরীক্ষা আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল।

তবে পরীক্ষার আগের রাতে সম্ভাব্য প্রশ্নফাঁসের গুরুতর অভিযোগ সামনে আসে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক স্ট্যাটাসে দাবি করা হয়, অধিদপ্তরের একজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা, যিনি নিয়োগ পরীক্ষা কমিটিতেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন, তার এক আত্মীয়সহ অধিদপ্তরের একটি বড় চক্র এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত।

ওই স্ট্যাটাসে আরও দাবি করা হয়, প্রার্থীপ্রতি গড়ে প্রায় ২৫ লাখ টাকায় চুক্তি করা হয়েছে। কথিত প্রশ্ন ও উত্তর রাতভর বিভিন্ন স্থানে পরীক্ষার্থীদের পড়ানো হচ্ছে।