১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫৯

মারা গেলেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রোটন

মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন  © সংগৃহীত

ছাত্রলীগের (বর্তমানে নিষিদ্ধ) সাবেক কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন মারা গেছেন। ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল ৭টায় ভারতের কলকাতার একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

আজ শনিবার সকালে কার্যক্রম নিষিদ্ধ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে রোটনের মৃত্যুর তথ্য জানান।

স্ট্যাটাসে আমিনুল ইসলাম রোটনের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন। তিনি লেখেন, ‘রোটনের অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক। অনুজ প্রতিম মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন। ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে যার সাথে আমার পরিচয়। মনে পড়ে ৯৬-এর আন্দোলনের সময় ঢাকা শহর জুড়ে বিভিন্ন লড়াই সংগ্রামে এক সাথে কাজ করার স্মৃতি।’

রোটনের রাজনৈতিক জীবনের কথা স্মরণ করে তিনি আরও লেখেন, ‘মুজিবাদর্শের নিখাদ কর্মী হিসেবে রাজনীতির পথচলা শুরু তারপর দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। ছিলেন প্রতিটি লড়াই সংগ্রামে।’

রোটনের মৃত্যুর সময় ও চিকিৎসার বিষয়ে আমিনুল ইসলাম স্ট্যাটাসে লেখেন, ‘মরণ ব্যাধি ক্যানসারের সাথে দীর্ঘ লড়াই শেষে আজ সকাল ৭ টায় কোলকাতার একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। মহান আল্লাহর দরবারে তার জন্য জান্নাতুল ফেরদৌসের প্রার্থনা রইল। হে রাব্বুল আলামীন, তার পরিবারকে এই শোক সইবার শক্তি দান করুন। আমীন।’

এর আগে, ভারতের কলকাতায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ছিলেন রোটন। তিনি সেখানকার অ্যাপোলো হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন।

জানা যায়, শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় গত ৪ অক্টোবর রাতে তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত রোটন চিকিৎসার জন্য দুই বছরের বেশি সময় ধরে কলকাতায় অবস্থান করছিলেন।

মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন ২০০৬ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ওই কমিটির সভাপতি ছিলেন মাহমুদ হাসান রিপন।

ছাত্রলীগের রাজনীতির মধ্য দিয়ে পরিচিতি পাওয়া রোটন পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতেও সক্রিয় হন। চট্টগ্রামের রাউজানের এই রাজনীতিবিদ ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছিলেন। ২০২১ সালে আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) শ্রম ও জনশক্তিবিষয়ক উপকমিটিতে সদস্য হিসেবেও মনোনীত হন তিনি।