হু ইজ হাদি—ফেসবুকে হঠাৎ ভাইরাল কেন?
শহীদ শরীফ ওসমান হাদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয় কবি কাজী নজরুলের পাশে সমাহিত করা উচিত হয়নি দাবি করে জাতির জন্য তার অবদান জানতে চেয়েছেন সরকারের প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর। তিনি প্রশ্ন করেছেন, ‘হু ইজ হাদি?’
সম্প্রতি বেসরকারি একটি টিভি চ্যানেলের টকশোতে শহীদ শরীফ ওসমান হাদিকে কবি কাজী নজরুল ইসলামের পাশে কবরস্থ করার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর। সেখানে তিনি বলেন, না না, কবি নজরুলের পাশে তাকে কবরস্থ করা উচিত হয়নি। আজ থেকে ১০ বছর, না ৫ বছর পরে এটা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে, হু ইজ হাদি? জাতির জন্য তার অবদান কী? রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য তাকে জাতীয় কবির পাশে নিয়ে আসলা। না না এটা উচিত হয়নি।’
এদিকে প্রতিমন্ত্রীর এমন মন্তব্যের পর সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। নুরুল হক নুরের বক্তব্যের প্রতিবাদ করেছেন ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম। তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে নুরুল হক নুরের বক্তব্য সংবলিত একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়। যেখানে প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের বিপরীতে সাধারন মানুষের হাদির সাংস্কৃতিক আগ্রাসন বিরোধী বক্তব্যকে তুলে ধরা হয়।
প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে ইনকিলাব মঞ্চের নেত্রী ও ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক সংগ্রাম বিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা নিজের ফেসবুকে লিখেছেন, ‘গত ২৪ ঘন্টায় ১০-১২ টা ভিডিও সামনে এলো বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী প্রবাসী ভাইদের। তারা প্রতিমন্ত্রীর প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন। যদিও নির্লজ্জ ও টাকার জন্য মেরুদণ্ড বেচা লোকেদের এসবে লজ্জা আসবে প্রত্যাশাও করিনা। তবুও প্রবাসী ভাইদের নিকট অশেষ কৃতজ্ঞতা। দেশের ক্রুশাল মোমেন্টগুলোতে আপনারা বারবার দেশপ্রেমের প্রমাণ দিয়েছেন।শহীদ ওসমান হাদির প্রতি আপনাদের এই ভালোবাসার দায় মেটানোর সামর্থ্য আমাদের নাই। আপনারা আমাদের শ্রদ্ধা নিবেন।’
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর ঢাকার বিজয়নগরে আততায়ীর গুলিতে গুরুতর আহত হন শরীফ ওসমান হাদি। দেশের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার পর পরবর্তীতে সিঙ্গাপুর নেওয়া হলে ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি ।
২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক শহীদ শরীফ ওসমান হাদি। জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে গঠিত রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন 'ইনকিলাব মঞ্চ'-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও মুখপাত্র হিসেবে দেশব্যাপী পরিচিতি লাভ করেন তিনি। ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান এবং আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার আন্দোলনের মাধ্যমে তিনি তরুণ প্রজন্মের মাঝে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি।