পরকীয়ার অভিযোগে থানা আমিরকে অব্যাহতি, জামায়াত নেতা বললেন—‘কমিটি গঠনের জন্য সরানো হয়েছে’
চট্টগ্রাম মহানগরীর চান্দগাঁও থানা জামায়াতের আমির মো. ইসমাঈলকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছে দলটি। এক প্রবাসীর সাবেক স্ত্রীর সঙ্গে বিয়ে বহির্ভূত সম্পর্কে জড়ানোর অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ার পর তাকে পদ থেকে সরানো হয়েছে বলে জানিয়েছে দলটির একটি সূত্র। তবে জামায়াতের এক নেতা দাবি করেছেন, সামনে থানা কমিটি নির্বাচন থাকায় কমিটি গঠনের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ইসমাঈলকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তার স্থলে থানা জামায়াতের দায়িত্ব পেয়েছেন নায়েবে আমির অধ্যাপক জসিম উদ্দিন।
বুধবার জামায়াতের মহানগর শাখার আমির নজরুল ইসলাম ইসমাঈলকে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার ঘোষণা দেন। এর আগে জামায়াতের পক্ষ থেকে গঠিত তদন্ত কমিটি সোমবার ইসমাঈলের বিষয়ে প্রতিবেদন জমা দেয়।
ঘটনা সম্পর্কে চট্টগ্রাম মহানগর শাখার আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম এক বিবৃতিতে বলেন, চট্টগ্রাম মহানগরী কর্মপরিষদ সদস্য ও চান্দগাঁও থানা জামায়াতের আমির মো. ইসমাইল থানা সংগঠনের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মহানগরীতে সাবেক ছাত্রবিভাগ ও যুব বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। গত ৭ অক্টোবর ২০২৬ থেকে তাকে থানা সংগঠনের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে চট্টগ্রাম মহানগরী ইউনিটে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। সেশনের বাকি সময়ের জন্য চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত আমির হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বর্তমান থানা নায়েবে আমির অধ্যাপক জসিম উদ্দিন।
তবে পরকিয়ার বিষয়ে জানতে মহানগর সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালীকে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে মহানগর জামায়াতের একটি সূত্র দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে পরকিয়ার অভিযোগে অব্যহতি দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
সূত্র জানায়, ইসমাঈলের সুপারিশে ২০২৩ সালে চিকিৎসা সহকারী হিসেবে চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে (সিআইএমসিএইচ) চাকরি নেন লোহাগাড়ার কলাউজানের এক নারী। চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই ওই নারীর পদোন্নতি হয়। পরে ইসমাঈলের সঙ্গে তার বিয়ে বহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগ ওঠে। তার স্বামীর পরিবারের দাবি, এ সম্পর্কের প্রমাণ পাওয়ার পর ২০২৪ সালের ১৮ ডিসেম্বর ওই নারীকে ডিভোর্স দেওয়া হয়।
এই ঘটনার পর ইসমাঈলের বিষয়ে তদন্ত করতে চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ খায়রুল বাশারের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করে দলটি। কমিটি তদন্ত শেষে গত সোমবার তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়। এর পর বুধবার ইসমাঈলকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নায়েবে আমির অধ্যাপক জসিম উদ্দিনকে চান্দগাঁও থানা আমিরের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
নতুন দায়িত্ব পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অধ্যাপক জসিম উদ্দিন। তিনি বলেন, বুধবার তাকে চান্দগাঁও থানার দায়িত্ব পালন করতে বলা হয়েছে। তবে কেন মো. ইসমাঈলের পরিবর্তে তাকে দায়িত্ব দেওয়া হলো, তার বিস্তারিত কারণ তিনি জানেন না।
মহানগর জামায়াতের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মো. মোরশেদুল ইসলাম চৌধুরী দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, সামনে আমাদের থানা দলীয় কমিটি নির্বাচন। সেই নির্বাচনকে সামনে রেখে আপাতত থানা আমির মো. ইসমাঈলকে অব্যাহতি দিয়ে নায়েবে আমিরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে পরকিয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে জানান।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মো. ইসমাঈলের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কলটি রিসিভ করেননি।