ডিসেম্বরে হাসিনাকে ফেরানোর বিষয়ে যা জানাল ভারত
চলতি বছরের ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছিলেন ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে হাসিনাকে আগামী ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফেরানোর বিষয়ে ভারতের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি। দিল্লি জানিয়েছে, হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যেই রয়েছে এবং এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা বলা সম্ভব নয়।
বুধবার (৭ অক্টোবর) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, হাসিনার প্রত্যর্পণ একটি আইনি বিষয়। এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া ও আনুষ্ঠানিকতা রয়েছে এবং সেগুলো অনুসরণ করেই বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
এর আগে গত জুলাইয়ে শেখ হাসিনা নিজেই ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফেরার ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন। সে সময় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছিলেন, হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে ভারতের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন হয়নি। বিষয়টি আইনি ইস্যু হিসেবে বিবেচনা করা হবে বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।
কয়েকদিন আগে একই অবস্থানের কথা জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। গত ৩ অক্টোবর ঢাকায় অনুষ্ঠিত বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন-২০২৬-এর এক অধিবেশনে তিনি বলেন, হাসিনাকে ফেরানোর বিষয়ে ভারতের একটি কাঠামোবদ্ধ আইনি প্রক্রিয়া চলছে। এ প্রক্রিয়ায় আদালতও যুক্ত থাকায় কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা দেওয়া সম্ভব নয়।
দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘একটি সুনির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে এবং বিষয়টি অত্যন্ত কাঠামোগত। এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে বিচার বিভাগ ও আদালত সরাসরি যুক্ত। ফলে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া কারও পক্ষেই সম্ভব নয়।’
এ সময় তিনি আরও বলেন, হাসিনাকে ভারতীয় বিমানবাহিনী বা সেনাবাহিনী ভারতে নিয়ে যায়নি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশের পরিস্থিতির মধ্যে একটি সামরিক বিমানে তিনি ভারতে পৌঁছান। সে সময় তাকে ভারতে অবতরণের অনুমতি দেওয়া ছাড়া ভারতের সামনে খুব বেশি বিকল্প ছিল না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর জন্য ভারতকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত দিল্লি তাকে ফেরানোর কোনো নির্দিষ্ট তারিখ বা সময়সীমা জানায়নি। বরং ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বারবার বলছে, বিষয়টি প্রতিষ্ঠিত আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
একই সঙ্গে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যতমুখী রাখার ওপরও জোর দিয়েছে দিল্লি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে জনগণকেন্দ্রিক ইতিবাচক ও গঠনমূলক সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়াই ভারতের বর্তমান অবস্থানের ভিত্তি।