জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে জেএসডির মানববন্ধন
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে জাতীয় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে জেএসডি। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
জেএসডি সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংসদে কার্যকর আলোচনা হয়নি, জনগণের সঙ্গে কোনো অর্থবহ মতবিনিময় হয়নি, এমনকি কোনো গণশুনানির ব্যবস্থাও করা হয়নি। অথচ এই সিদ্ধান্তের অর্থনৈতিক বোঝা সরাসরি বহন করতে হবে সাধারণ মানুষকে।
তিনি বলেন, জ্বালানির দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত শুধু প্রশাসনিক ঘোষণা হতে পারে না। এর কারণ, হিসাব ও দায় জনগণের সামনে স্পষ্ট করতে হবে। যে সিদ্ধান্তের মূল্য জনগণ দেবে, সেই সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যাও জনগণকে দিতে হবে।
স্বপন বলেন, বিপিসি মুনাফাভিত্তিক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, নাকি জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠান—এটি জনগণের কাছে স্পষ্ট করতে হবে। জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠান হলে তার লক্ষ্য শুধু মুনাফা হতে পারে না। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলে অর্জিত মুনাফা জনগণের সুরক্ষায় কাজে লাগাতে হবে; দাম বাড়লেই পুরো বোঝা জনগণের ওপর চাপানো ন্যায়সংগত নয়।
জেএসডি সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিপিসির অতীত মুনাফা, অর্থের ব্যবহার এবং বর্তমান আমদানি ও পরিচালন ব্যয়ের পূর্ণ হিসাব প্রকাশ করতে হবে। আন্তর্জাতিক মূল্য, বিনিময় হার, পরিবহন ব্যয় ও বিপিসির লাভ-লোকসান বিবেচনায় স্বচ্ছ ও নিয়মিত মূল্য-সমন্বয় করতে হবে। মূল্যবৃদ্ধি অনিবার্য হলে তার অর্থনৈতিক ভিত্তি ও বিকল্পও জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে।
তিনি আরও বলেন, জ্বালানি মূল্য মানুষের জীবনযাত্রা ও সামগ্রিক অর্থনীতিকে সরাসরি প্রভাবিত করে। জ্বালানি নীতিতে শুধু আমলাতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত নয়—ভোক্তা, কৃষক, শ্রমজীবী, পরিবহন, শিল্প ও সংশ্লিষ্ট পেশার প্রতিনিধিত্ব সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় থাকতে হবে।
সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. সিরাজ মিয়া বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির বোঝা সাধারণ ও সীমিত আয়ের মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও কঠিন করে তোলে। রাষ্ট্রীয় মূল্যনীতিতে শুধু হিসাবের ভারসাম্য নয়, সামাজিক ন্যায় ও মানুষের বহনক্ষমতাকেও গুরুত্ব দিতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে মহানগর যুগ্ম সমন্বয়ক কামাল উদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি পরিবহন, কৃষি, পণ্য উৎপাদন ও বাজারমূল্যে সরাসরি প্রভাব ফেলে। এর শেষ বোঝা গিয়ে পড়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর।
মানববন্ধনে আরো বক্তব্য রাখেন সহ-সভাপতি এড. কেএম জাবির, বীর মুক্তিযোদ্ধা মাইনুর রহমান, এড. সৈয়দ বেলায়েত হোসেন বেলাল, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ নাসিম, নুরুল আমিন,এস এম সামছুল আলম নিক্সন,কামরুল আহসান অপু,বোরহান উদ্দিন চৌধুরী রোমান,আজম খান, ফারহান হাবিব,এম এ আউয়াল,আবুল হোসেন মিয়া,নেক মোহাম্মদ,মো. তোফাজ্জল হোসেন,শাহানা সুলতানা, ইলোরা খাতুন সোমা।
বক্তারা বলেন, জ্বালানির মূল্য বাড়ানো সহজ সমাধান হতে পারে না। অপচয়, অদক্ষতা ও অস্বচ্ছ ব্যবস্থাপনার দায় সাধারণ মানুষের ওপর চাপানো গ্রহণযোগ্য নয়।
মানববন্ধনে বক্তারা জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি প্রত্যাহার, বিপিসির আয়-ব্যয় ও লাভ-লোকসানের হিসাব জনসমক্ষে প্রকাশ এবং জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে স্বচ্ছ ও নিয়মিত মূল্য-সমন্বয় ব্যবস্থা চালুর দাবি জানান।