২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪৩

ইউএনওকে নিয়ে ফেসবুকে তোলপাড়, জামায়াত এমপির ভাইকে মারধর

বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা  © সংগৃহীত

ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার শহিদুল ইসলাম সোহাগ ‘চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের কর্মী ছিলেন ও তার মামা ফজলুল করিম আরিফ পাটুয়ারি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মামলার বাদী’ বুধবার এমন একটি স্ট্যাটাস ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়। এ ঘটনায় মানববন্ধন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এ সময় ময়মনসিংহ-৬ আসনের এমপি অধ্যক্ষ মুহা. কামরুল হাসান মিলনের ছোট ভাই কিরণকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। 

স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গতকাল বুধবার ‘ভয়েস অব ফুলবাড়িয়া’সহ কয়েকটি ফেসবুক আইডি থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শহিদুল ইসলাম সোহাগের বিরুদ্ধে সার ডিলার নিয়োগে আর্থিক লেনদেন এবং ফ্যামিলি কার্ডের গণনাকারী বাছাইয়ে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলে পোস্ট দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ইউএনওর অপসারণের দাবিতে আজ বৃহস্পতিবার মানববন্ধনের ঘোষণা দেওয়া হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, দুপুর ১২টার দিকে উপজেলা মডেল মসজিদের সামনে থেকে এমপির ভাই কিরণের নেতৃত্বে কয়েকজন যাওয়ার সময় তাদের থামিয়ে দেন বিএনপি নেতারা। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার একপর্যায়ে কিরণসহ কয়েকজন সেখান থেকে সরে যান। এ সময় কিরণের পরনের পাঞ্জাবি ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ ওঠে।

এর কিছুক্ষণ পর দুপুর পৌনে ১টার দিকে চব্বিশে চত্বরে থাকা এমপির একটি বিলবোর্ড ভাঙচুর করা হয়। ঘটনার পর ‘ভয়েস অব ফুলবাড়িয়া’ ফেসবুক আইডি থেকে ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনারের আশ্বাস ও অনুরোধের কথা উল্লেখ করে উপজেলা পরিষদ ঘেরাও কর্মসূচি সাময়িকভাবে স্থগিতের ঘোষণা দেওয়া হয়।

তবে ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের স্থানীয় নেতাদের বক্তব্যে ভিন্নতা দেখা গেছে।

উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ছাইফুল ইসলাম বাদল বলেন, ‘ফুলবাড়িয়া উপজেলা পরিষদ ঘেরাও করতে চেয়েছিল জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা। এর প্রতিবাদে সাধারণ জনগণ ও বিএনপির নেতা-কর্মীরা ঐক্যবদ্ধ হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে যায়। সার ডিলার নিয়োগে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতি হয়নি। জামায়াত-শিবিরের যেকোনো কর্মসূচি রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করা হবে।’

এ বিষয়ে ফুলবাড়ীয়া উপজেলা জামায়াতের আমির ফজলুল হক শামীম জানান, অন্যায়কারী সব সময় অন্যায়কারি। আমরা বিষয়টি উপর নজর রাখছি। 

অন্যদিকে, ফুলবাড়িয়া জামায়াতের শুরা ও পরামর্শ বোর্ডের সদস্য মো. আব্দুল মজিদ বলেন, ‘উপজেলা পরিষদ ঘেরাও জামায়াতের কোনো কর্মসূচি ছিল না। কিরণ আমাদের দলের কেউ নন। তবে এ ধরনের ঘটনা দুঃখজনক।’

ফুলবাড়ীয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো, রাশেদুল হাসান  জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বিরুদ্ধে একটি স্ট্যাটাসকে ঘিরে অপ্রীতিকর একটি ঘটনা ঘটেছে বলে আমি জানতে পেরেছি। আপাতত পরিস্থিতি শান্ত আছে। 

এ ব্যাপারে উপজেলা নিবাহী অফিসারের মোবাইলে ফোন দেয়া হলে তিনি রিসিভ করেননি। তবে তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক আইডিতে লেখেন, সম্প্রতি ফেসবুকে লক্ষ্য করা যাচ্ছে নিম্নে উল্লেখিত ফেসবুক আইডিসহ আরও কয়েকটি আইডি থেকে মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং অসৌজন্যমূলক তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। বিষয়টি অত্যন্ত অপেশাদার এবং ব্যক্তিগতভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার সামিল। এ ধরনের কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের সাথে কোনো সম্পৃক্ততা নেই।