১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮:৪০

রাষ্ট্র পুনর্গঠন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সবার সহযোগিতা প্রয়োজন: খন্দকার মারুফ

বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট ড. খন্দকার মারুফ হোসেন।  © টিডিসি ছবি

রাষ্ট্র কাঠামো পুনর্গঠন, টেকসই গণতন্ত্র ও উন্নয়ন এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় দলমত নির্বিশেষে সবার আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট ড. খন্দকার মারুফ হোসেন। তিনি বলেন, এসব লক্ষ্য অর্জনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের কোনো বিকল্প নেই।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার মুগারচর কেরামত আলী উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে প্রবীণ শিক্ষক মো. রোকনুজ্জামানের অবসরজনিত বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. খন্দকার মারুফ হোসেন বলেন, ‘রাষ্ট্র কাঠামো পুনর্গঠন, পরিবর্তন, টেকসই গণতন্ত্র ও উন্নয়ন এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য দলমত নির্বিশেষে সকলের আন্তরিক সহযোগিতা অপরিহার্য। আর এই লক্ষ্য অর্জনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গতিশীল নেতৃত্বের কোনো বিকল্প নেই। বর্তমান সরকার সেই স্বপ্ন পূরণে কাজ করে যাচ্ছে।’

তিনি বলেন, সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে অনাহুত বিরোধিতা না করে দেশ ও জনগণের স্বার্থে সহযোগিতা করতে সব রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘বিপর্যস্ত ও ধ্বংসাত্মক অবস্থা থেকে প্রতিবারই রাষ্ট্রকে উত্তরণ ঘটিয়েছে বিএনপি সরকার। স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়ার সরকার দেশে টেকসই উন্নয়ন, আইনের শাসন এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আরেকটি দল বাকশাল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাক স্বাধীনতা হরণ, মানবাধিকার ভুলুণ্ঠিত ও গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছে। বিগত ফ্যাসিস্ট হাসিনার রেখে যাওয়া ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সুস্থ ধারার রাজনীতি, টেকসই উন্নয়ন, গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় নিরন্তর কাজ করছেন।’

মেঘনা উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরে ড. খন্দকার মারুফ বলেন, সাবেক মন্ত্রী ও বর্তমান এমপি ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের হাতেগড়া মেঘনায় আগের সরকারের সময়ে উন্নয়নে কোনো কাজ করা হয়নি। নদীবেষ্টিত এই উপজেলার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে তারা কাজ করছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ, পর্যায়ক্রমে জনগণের সকল মৌলিক চাহিদা পূরণ করা হবে।’

উন্নয়নের স্বার্থে বর্তমান সরকার অপরাধ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে বলেও জানান ড. খন্দকার মারুফ। তিনি বলেন, বিএনপিতে অপরাধীর কোনো স্থান হবে না। দেশে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুস্থ ও নতুন ধারার রাজনীতিকে জনগণ বিপুল সমর্থন জানাচ্ছে। দেশকে এগিয়ে নিতে প্রতিহিংসার রাজনীতির পরিবর্তে প্রধানমন্ত্রীর সূচিত সুস্থ ধারার উন্নয়নের রাজনীতি ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।’

২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘২৪এর জুলাই আন্দোলনে সহস্রাধিক ছাত্র-জনতাকে হত্যার পরও আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের সাধ মিটেনি, তাদের অপতৎপরতা থেমে নেই। এখন বিদেশে বসে ককটেল বিস্ফোরণ, যানবাহনে অগ্নিসংযোগসহ নানা সহিংসতার মাধ্যমে দেশে সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও অশান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা করছে।’

তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস ও সহিংস কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেওয়া এবং দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় দলমত নির্বিশেষে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।

শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে ড. খন্দকার মারুফ বলেন, ‘বিএনপি যখনই ক্ষমতায় থাকে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সিট দখল, অবৈধ অস্ত্রের প্রদর্শনী ও রাহাজানি হয় না। লেখাপড়ার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় থাকে, শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন হয়। বিএনপি সরকার সব পাবলিক পরীক্ষা নকলমুক্ত করে শিক্ষাক্ষেত্রে ইতিহাস গড়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার শিক্ষাঙ্গণে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি এবং ঢালাওভাবে পাশের হার বাড়িয়ে শিক্ষা ব্যবস্থাকে সমূলে ধ্বংস করেছে।’

বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. মহিউদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মেঘনা উপজেলা বিএনপি নেতা মো. রমিজউদ্দিন লন্ডনী, এস এম সালাহউদ্দিন সরকার, এম এম মিজানুর রহমান, প্রফেসর শহীদ উল্লাহ, আবু ইউসুব নয়ন, দিলারা শিরীন এবং যুবদল নেতা আতাউর রহমান চেয়ারম্যান প্রমুখ।