১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:২৫

পঞ্চগড়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১৫

আহত নেতাকর্মীরা হাসপাতালে ভর্তি  © সংগৃহীত

পঞ্চগড় জেলা শহরে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে গুরুতর চারজনকে রংপুরে পাঠানো হয়েছে। রবিবার রাত ১০টার দিকে শহরের তেঁতুলিয়া বাসস্ট্যান্ড থেকে বের হওয়া একটি মিছিলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। রাত ১২টা পর্যন্ত থেমে থেমে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ চলে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রবিবার রাত ১০টার দিকে পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মোহাম্মদ নওশাদ জমিরের সমর্থকেরা তেঁতুলিয়া বাসস্ট্যান্ড থেকে একটি মিছিল বের করেন। মিছিলটি শহরের এমআর কলেজ মোড়ে পৌঁছালে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও পঞ্চগড়-২ আসনের সংসদ সদস্য ফরহাদ হোসেন আজাদের সমর্থকদের সঙ্গে তাদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়।

একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় উভয় পক্ষের লোকজন লাঠিসোঁটা হাতে মহাসড়কে অবস্থান নেন। সংঘর্ষের কারণে প্রায় দুই ঘণ্টা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। এতে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। রাত ১২টার পর দুই পক্ষের লোকজনই ঘটনাস্থল থেকে সরে যান।

পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সংঘর্ষে আহত ১৫ জন হলেন—রোকনুজ্জামান জাপান (৩৫), আব্দুল বাতেন (৪০), শামীম (২৮), জীবন (২২), সাফাত কবির (২১), সাক্ষর (১৮), পাক্কু (২২), ময়নুল (২৮), তপু (১৮), মিলন (১৮), সৌমিক (১৯), ফরহাদ (১৮), করিম আখতার (৪৪), জিসান (১৭) ও নুরনবী চৌধুরী (৩৮)।

তারা বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মী বলে জানা গেছে।

পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. রেজওয়ানুল্লাহ বলেন, সংঘর্ষে আহত মোট ১১ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে চারজনকে রংপুরে রেফার করা হয়েছে। আহতদের অনেকে মাথায় আঘাত পেয়েছেন। রাজনৈতিক সংঘর্ষে তারা আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

নেতাকর্মীরা জানান, রবিবার সকালে জেলা বিএনপির কার্যালয়ে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন। সভায় বোদা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শইমী ইমতিয়াজ বলেন, পরিস্থিতি বর্তমানে পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।