তিন জেলার নেতাদের সঙ্গে সাংগঠনিক বৈঠক শেষে স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বিএনপি চেয়ারম্যান
রাজশাহী বিভাগের নাটোর এবং খুলনা বিভাগের চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর জেলার নেতাদের সঙ্গে সাংগঠনিক সভা শুরু করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে এ সভা শুরু হয়। এই সাংগঠনিক সভা শেষে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বসেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান।
বিএনপি চেয়ারম্যানের গুলশান কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, দলের সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালী করা এবং তৃণমূল পর্যায়ের সংগঠনকে আরও সুসংগঠিত করার লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন সাংগঠনিক জেলার সঙ্গে বৈঠকের ধারাবাহিকতায় এ বিশেষ সভার করা হয়। আজকের সভায় রাজশাহী বিভাগের নাটোর জেলা এবং খুলনা বিভাগের চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর জেলার শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি তৃণমূলের গুরুত্বপূর্ণ নেতারা অংশ নেন।
আসন্ন জাতীয় কাউন্সিল ও সাংগঠনিক পুনর্গঠনকে সামনে রেখে তৃণমূলের নেতাদের মতামত শোনা এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়ার জন্যই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ বৈঠক করছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
স্থায়ী কমিটির বৈঠক
এদিকে, দলের তিন জেলার নেতাদের সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্গঠন ও তৃণমূল পর্যায়কে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ধারাবাহিক আলোচনার পর সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সঙ্গে বৈঠক করছেন বিএনপি চেয়ারম্যান।
বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে গুলশানে দলের চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ বৈঠকে শুরু হয়।
সূত্র জানায়, দলের জাতীয় কাউন্সিলের বিষয়টি নিয়ে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠেয় এই বৈঠকে কাউন্সিলের সম্ভাব্য সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে। পাশাপাশি এই বৃহৎ আয়োজনের জন্য দলের প্রস্তুতি কতটুকু, তা-ও মূল্যায়ন করবেন শীর্ষ নেতারা।
এর আগে ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ সর্বশেষ জাতীয় কাউন্সিল করেছিল বিএনপি। দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, প্রতি তিন বছর অন্তর কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। মূলত এই কাউন্সিলেই দলের বিভিন্ন কমিটি গঠন বা অনুমোদন দেওয়া হয়। এসব কমিটির মেয়াদও থাকে তিন বছর।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, গত ফেব্রুয়ারিতে দলের শীর্ষ নেতাদের অনেকে সরকারে যোগ দেওয়ার পর তৃণমূলের কর্মকাণ্ড কিছুটা ঝিমিয়ে পড়ে। তাই মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের বাইরে নতুন একটি শক্তিশালী নেতৃত্ব কাঠামো গড়ে তোলার মোক্ষম সুযোগ হিসেবেই আসন্ন এই কাউন্সিলকে দেখা হচ্ছে।
শনিবার অনুষ্ঠেয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে কেবল কাউন্সিলই নয়, আরও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু স্থান পাবে। এর মধ্যে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি, বিরোধী দলের কর্মকাণ্ড, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সংকটসহ দেশের সাম্প্রতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হবে বলে দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে।