১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭:২২

ভাইভার নম্বর বাড়ানো বিএনপি সরকারের নির্লজ্জ দলীয়করণের অশুভ ইঙ্গিত: জামায়াত

বিরোধীদল জামায়াতে ইসলামী  © সংগৃহীত

সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় মৌখিক বা ভাইভার নম্বর বাড়ানো এবং লিখিত পরীক্ষায় পাস নম্বর কমানোর উদ্যোগকে বিএনপি সরকারের ‘নির্লজ্জ দলীয়করণের অশুভ ইঙ্গিত’ বলে আখ্যা দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। একই সঙ্গে ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের নিয়োগে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার নম্বরের ভারসাম্য পরিবর্তনের সরকারি উদ্যোগের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে দলটি।

বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এসব কথা বলেন।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বর্তমান সরকার রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে চরম দলীয়করণ শুরু করেছে। ইতোমধ্যে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, সিটি করপোরেশন, জেলা প্রশাসনসহ সচিবালয়ের গুরুত্বপূর্ণ পদে দলীয় বিবেচনায় মেধাহীন, অযোগ্য ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এসব জায়গায় মেধা ও যোগ্যতার পরিবর্তে দলীয় লোকদের নিয়োগ দিয়ে সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত, ন্যায়ভিত্তিক ও মেধাভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ছিল জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম আকাঙ্ক্ষা। অথচ সরকারি চাকরির নিয়োগব্যবস্থায় এমন একটি বিধিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা মেধার মূল্যায়নকে দুর্বল করে নিয়োগে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি, রাজনৈতিক প্রভাব ও দুর্নীতির পথ উন্মুক্ত করবে।

জামায়াতের এই নেতা বলেন, লিখিত পরীক্ষা একজন প্রার্থীর জ্ঞান, মেধা, বিশ্লেষণী সক্ষমতা ও প্রস্তুতি তুলনামূলকভাবে বস্তুনিষ্ঠভাবে যাচাইয়ের সুযোগ দেয়। লিখিত পরীক্ষার উত্তরপত্র সংরক্ষণ, পুনর্মূল্যায়ন ও অডিট করা সম্ভব। অন্যদিকে, মৌখিক পরীক্ষার মূল্যায়ন অনেকাংশেই বোর্ডের ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ ও বিবেচনার ওপর নির্ভরশীল। ফলে ভাইভার নম্বর অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানো হলে মেধার ব্যবধান কৃত্রিমভাবে পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হবে। এতে লিখিত পরীক্ষায় অর্জিত মেধা ও যোগ্যতার অবমূল্যায়ন এবং যোগ্য চাকরিপ্রার্থীদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সরকারি চাকরির ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের পদগুলোতে বিপুলসংখ্যক তরুণ-তরুণী প্রতিযোগিতা করেন। তাঁদের অনেকেই দীর্ঘদিন প্রস্তুতি নিয়ে সীমিত আর্থিক সামর্থ্যের মধ্যে কঠোর পরিশ্রম করে পরীক্ষায় অংশ নেন। মৌখিক পরীক্ষার অতিরিক্ত নম্বর দিয়ে লিখিত পরীক্ষার ফলাফল সহজেই পরিবর্তনের সুযোগ রাখা উচিত নয়।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, প্রক্সি, জালিয়াতি ও পরীক্ষায় অনিয়ম প্রতিরোধ করা জরুরি। তবে জালিয়াতি বন্ধের অজুহাতে ভাইভার নম্বর বাড়ানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য সমাধান হতে পারে না। প্রযুক্তিনির্ভর পরীক্ষাব্যবস্থা, বায়োমেট্রিক যাচাই, পরীক্ষাকেন্দ্রে কঠোর নজরদারি, প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা, ডিজিটাল মনিটরিং এবং কঠোর শাস্তির মাধ্যমে অনিয়ম প্রতিরোধ করা সম্ভব।

ভাইভার নম্বর বৃদ্ধির বিধিমালা বাতিলের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রভাব, স্বজনপ্রীতি, অর্থের লেনদেন ও সুপারিশের সংস্কৃতি বন্ধ করে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে শতভাগ স্বচ্ছ নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

এছাড়া সচিব কমিটিতে অনুমোদিত খসড়া বিধিমালা বাতিলের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও তরুণদের আন্দোলনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে জামায়াতে ইসলামী।