০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪:০১

নিজের আলোচিত সেই ‘গালি’ নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করলেন রাশেদ খাঁন

মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন  © সংগৃহীত

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোওয়ারীকে নিয়ে নিজের দেওয়া অতীতের ‘আলোচিত’ মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন। 

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) এক ফেসবুক পোস্টে নিজের আগের মন্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে ধরে এ অবস্থান জানান রাশেদ খাঁন। স্ট্যাটাসে নিজের দেওয়া সেই বক্তব্যও ডট ডট দিয়ে স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী অফিসের এই সরকারি কর্মকর্তা।

রাশেদ খাঁন লিখেন, এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী কর্তৃক অতীতে জাতীয়তাবাদী আদর্শের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান, তাঁর সহধর্মিণী, কন্যা এবং মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জনাব সালাউদ্দিন আহমেদসহ বিএনপি সরকারের মন্ত্রী ও সিনিয়র নেতাদের নিয়ে তীর্যক, অকথ্য, অশ্রাব্য ও তুইতোকারি ভাষায় গালিগালাজ করার প্রেক্ষিতে বেশ কয়েক মাস আগে আমি অসাবধানতাবশত এক উদাহরণস্বরূপ প্রতিক্রিয়ায় বলেছিলাম, 'রাস্তা দিয়ে যখন কোনো  **** হেঁটে যায়, ওটাকে **** মানুষ মনে না করে *** ওটাই মনে করা উচিত! বর্তমান রাজনীতিতে নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারীর মতো আমরা এমন কিছু ***  লোক দেখতে পাচ্ছি, যারা রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে নোংরা করছে!'

সরকারি এই কর্মকর্তা লিখেন, নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী নুন্যতম পরিশীলিত রাজনীতি করলে, হয়তো কখনোই আমার এমন উদাহরণ দেওয়া লাগতো না। এছাড়া নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী আমাকে নিয়েও অশ্রাব্য ভাষায় অনেক কথা বলায় ব্যক্তিগত সংক্ষুব্ধতা তিক্ততায় রুপ নেয়! এবং এবিষয়ে একে-অপরের বিরুদ্ধে না বলার জন্য সে আমাকে কলও করেছিলো, যে বিষয়ে আমিই আগেই জানিয়েছিলাম। কিন্তু সে ৫-৬ ঘন্টা পর তার কমিটমেন্ট ব্রেক করে। 

রাশেদ আরও লিখেন, সর্বশেষ মহামান্য রাষ্ট্রপতি জনাব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাষ্ট্রপতি হওয়ার যোগ্যতা নিয়েও আপনারা তার মন্তব্য খেয়াল করেছেন। তবুও নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারীর মতো নোংরা ভাষার জবাব নোংরা ভাষায় দেওয়া আমার ঠিক হয়নি এমনটা মনে করেন দেশ বিদেশে অবস্থানরত আমার অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষী! 

আমার প্রতিক্রিয়ার বিষয় ছিলো' টিট ফর ট্যাট' এর মতো। কিন্তু ২০২৪ পরবর্তী রাজনীতির গতি পথে আমরা চেয়েছি দেশ গঠন, মানবিক মর্যাদা আর বৃহত্তর কল্যাণকে প্রাধান্য দিতে। আর একারণে আমার জায়গা থেকে যে অনাকাঙ্ক্ষিত ভাষাগত ভুল হয়েছে, তা আমি প্রত্যহার ও ভবিষ্যতে নিজেকে শুধরিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করছি। আমি বা আমাদের সবারই উচিত গঠনমুলক সমালোচনার পাশাপাশি সহনশীল ও পরিশীলিত রাজনীতির সুযোগ সৃষ্টি করা।

২০১৮ সাল থেকে কোটা সংস্কার আন্দোলন, সংগ্রাম ও  রাজনৈতিক অভিযাত্রায় আমি সবসময় সহনশীল ও ভাষার ব্যবহারে সতর্ক থাকার চেষ্টা করেছি। এই প্রচেষ্টা ও সতর্কতা সবসময় অব্যহত থাকবে, ইনশাআল্লাহ।

রাশেদর লিখেন, আমি মনে করি, ঘৃনা ছড়িয়ে আমরা কেউই লাভবান হতে পারবো না। তাতে কেবল বিরাজনীতিকরণের উদ্দেশ্যে বসে থাকা গোষ্ঠী উপকৃত হবে।