০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:২১

এমপি রুমিন ফারহানার কড়া সমালোচনা করলেন মনিরা শারমিন

জাতীয় নারী শক্তির আহ্বায়ক মনিরা শারমিন   © সংগৃহীত

বিএনপির রাজনৈতিক ব্যর্থতার সমালোচনা করতে গিয়ে এমন কোনো বয়ান দেওয়া উচিত নয়, যাতে জনগণের কাছে আওয়ামী লীগের শাসনে ‘আগেই ভালো ছিলাম’  মনে হয়—এমন মন্তব্য করে সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার কড়া সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সহযোগী সংগঠন ‘জাতীয় নারীশক্তি’র আহ্বায়ক মনিরা শারমিন। তিনি বলেন, এ ধরনের বক্তব্য অতীতের কর্তৃত্ববাদী শাসনের প্রতি এক ধরনের নীরব বৈধতা তৈরির ঝুঁকি সৃষ্টি করে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ সমালোচনা করেন। পোস্টের শুরুতে রুমিন ফারহানার সংসদীয় ভূমিকার প্রশংসা করলেও পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের পুনরাগমনের সম্ভাবনা নিয়ে তাঁর বক্তব্যের সমালোচনা করেন মনিরা শারমিন। পাঠকের সুবিধার্থে মনিরা শারমিনের ফেসবুক পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো: 

প্রিয় রুমিন ফারহানা আপা,
সংসদে আপনার দৃঢ় বিরোধী অবস্থান, যুক্তিনির্ভর বক্তব্য এবং সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টাকে আমি সবসময়ই শ্রদ্ধা করি। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও একজন কার্যকর সংসদ সদস্য হিসেবে আপনার ভূমিকা প্রশংসিত।
তবে সম্প্রতি "বাস্তবতা" বা "পরিস্থিতির প্রেক্ষাপট" ব্যাখ্যা করতে গিয়ে যেভাবে আওয়ামী লীগের পুনরাগমনের সম্ভাবনাকে স্বাভাবিক ও গ্রহণযোগ্য হিসেবে উপস্থাপন করছেন, সেটি আমাদের দৃষ্টি এড়ায়নি।

আমরা বিএনপির নীতি, কৌশল কিংবা রাজনৈতিক ব্যর্থতার সমালোচনা অবশ্যই করব।কিন্তু যখন সেই সমালোচনা এমন এক বয়ানে রূপ নিতে শুরু করে, যা জনগণকে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছে দেয় যে "আগেই ভালো ছিলাম", তখন সেটি আর শুধু বিএনপির সমালোচনা থাকে না বরং অতীতের কর্তৃত্ববাদী শাসনের প্রতি এক ধরনের নীরব বৈধতা তৈরির ঝুঁকি সৃষ্টি করে।

আমি বিএনপির একজন কট্টর সমালোচক। কিন্তু সেই সমালোচনা কখনোই এমন পর্যায়ে নিয়ে যেতে চাই না, যেখানে গণতন্ত্র, নাগরিক অধিকার ও রাজনৈতিক বহুত্ববাদের সংকটকে ভুলে গিয়ে অতীতের দুঃশাসনকে গ্রহণযোগ্য মনে হয়। মেজর জিয়ার বিএনপি এবং বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বিএনপির যে ঐতিহাসিক ভূমিকা রয়েছে, তার প্রতি আমার যথেষ্ট শ্রদ্ধা আছে।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রয়োজন অতীতকে রোমান্টিসাইজ করা নয় বরং সকল রাজনৈতিক শক্তির জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে একটি উন্নত গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ নির্মাণ করা।