মিরাজ শেখের পরিবারকে সামনে বসিয়ে গুমের ঘটনা অস্বীকার করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার লিখেছেন, ‘গতকাল (২৯ আগস্ট) গুমের শিকার মিরাজ শেখের পরিবারকে সামনে বসিয়ে রেখে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী (সালাহউদ্দিন আহমেদ) গুমের ঘটনাটি অস্বীকার করলেন।’
আজ রবিবার (৩০ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।
পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘গতকাল গুম প্রতিরোধ দিবসের আলোচনায় মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজের গুমের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছিলেন যা উপস্থিত সকলকে ছুঁয়ে গেছে। তিনি যখন গুম ছিলেন, তখন তার স্ত্রী অভিযোগ করেছিলেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনি তার অভিযোগ আমলে নিচ্ছে না। সাধারণ ডায়েরি পর্যন্ত তিনি করতে পারছেন না। এমতাবস্থায় জনাব সালাহউদ্দিন আহমেদের স্ত্রী স্বাধীন কমিশন বা কমিটির তত্ত্বাবধানে তদন্তের দাবি জানিয়েছিলেন।’
পোস্টে তিনি আরো লিখেন, ‘জনাব সালাহউদ্দিন আহমেদ নিজে এখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। অথচ স্বাধীন তদন্ত কমিশন যেন গুমের অভিযোগের তদন্ত করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে সরকারের মরিয়াপনা চোখে পড়ার মতো। গতকাল গুমের শিকার মিরাজ শেখের পরিবারকে সামনে বসিয়ে রেখে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গুমের ঘটনাটি অস্বীকার করলেন।’
জানা যায়, মিরাজ শেখ (৩০) সুন্দরবনে মাছ ধরার পাশাপাশি ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালান। গত ১০ এপ্রিল কোস্টগার্ড সদস্য পরিচয়ে আসা কয়েকজন ব্যক্তি তাঁকে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর থেকে তিনি নিখোঁজ।
আইন ও সালিশ কেন্দ্র তাদের তথ্যানুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে জানিয়েছে, গত ১০ এপ্রিল সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে সাদাপোশাকে থাকা কোস্টগার্ড সদস্য পরিচয়ধারী কয়েকজন ব্যক্তি জয়মনির ঘোল এলাকার আল আমিনের চায়ের দোকানের সামনে থেকে মিরাজ শেখকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে যান। প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিদের ভাষ্যমতে, পরে তাঁকে কোস্টগার্ডের একটি স্পিডবোটে তোলা হয়, যেখানে পোশাক পরিহিত আরও সাত-আটজন কোস্টগার্ড সদস্য অবস্থান করছিলেন। ভুক্তভোগীর স্ত্রীও দাবি করেছেন, তিনি হারবারিয়া কোস্টগার্ড স্টেশনের পন্টুনে নিজের চোখে তাঁর স্বামীকে কোস্টগার্ড সদস্যদের হেফাজতে দেখতে পান এবং পরে তাঁকে স্পিডবোটে করে নিয়ে যেতে দেখেন।
এদিকে গতকাল (২৯ আগস্ট) রাজধানীর শাহবাগ জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্বজনদের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’ এর আয়োজনে এক আলোচনা অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘ঘটনাটি নিয়ে স্বাধীনভাবে তদন্ত করা হয়েছে। তদন্তে বনদস্যুদের সঙ্গে তাঁর সংশ্লিষ্টতা এবং তাদের অভ্যন্তরীণ বিরোধের বিষয়টি এসেছে। মিরাজ শেখের রেকর্ডও সেই রকম। তাঁর বাবা ও দাদার রেকর্ডও একই রকম। এ বিষয়ে এর বেশি বিস্তারিত আর বলতে চাই না।’