৩০ আগস্ট ২০২৬, ১৬:৪৭

গুম-খুনের শিকার ব্যক্তি ও পরিবারের পুনর্বাসনের অগ্রগতি কতটুকু—প্রশ্ন এমপি সানজিদা তুলির

এমপি সানজিদা ইসলাম তুলি  © সংগৃহীত

বিগত ১৭ বছরে বলপূর্বক গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের পুনর্বাস, ক্ষতিপূরণ ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির পরিকল্পনার অগ্রগতি কতটুকু হয়েছে—জাতীয় সংসদে তা জানতে চেয়েছেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ও মায়ের ডাকের প্রধান সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম তুলি। আজ রবিবার (২০ আগস্ট) জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আহমেদ আযম খানের উদ্দেশ্যে এই প্রশ্ন করেন তিনি।

সানজিদা ইসলাম তুলি তার প্রশ্নে বলেন, আজকে গুম হয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের স্মরণে আন্তর্জাতিক দিবস। এই দিবসকে সামনে রেখে আমরা যাদেরকে বিগত ১৭ বছরে বলপূর্বক গুমের শিকার হারিয়েছি—তাদেরকে স্মরণ করছি।

তিনি বলেন, আমরা জানি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি অধিদপ্তর গঠন করা হয়েছে, যা বলপূর্বক গুমের শিকার, বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার সকলের জন্য পুনর্বাসন, ক্ষতিপূরণ ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির জন্য কাজ করে যাচ্ছে। এটার পরিকল্পনা ও অগ্রগতি কতটুকু?

জবাবে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেন, জুলাই আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন, যারা আহত হয়েছেন, যারা বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন—তাদের পুনর্বাসনের জন্য, তাদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির জন্য আমরা ‘জুলাই অধিদপ্তর’ নামে একটি অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা করেছি। আর এই আন্তর্জাতিক গুম দিবসটি পালনের জন্য আমরা মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় আজকে সকালবেলায় একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলাম; যেখানে দল-মত নির্বিশেষে যারা গুমের শিকার এবং যারা গুমের শিকার পরিবার—তাদের সকলের সমন্বয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী কমপ্লেক্স হলে অনেক বড় পরিসরে একটি অনুষ্ঠান করেছি।

তিনি বলেন, সেখানেও আমরা অঙ্গীকারাবদ্ধ হয়েছি এবং এই গুম, খুন; ১৭ বছরের নির্যাতনে বিএনপি-জামায়াতসহ যে সমস্ত রাজনৈতিক দলের নেতারা গুমের শিকার হয়েছেন, খুনের শিকার হয়েছেন, নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, পঙ্গু হয়েছেন, আহত হয়েছেন—তাদেরকে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য এবং তাদের পুনর্বাসনের জন্য আমরা নতুন আরেকটি অধিদপ্তর করার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।

মন্ত্রী বলেন, সেই উদ্যোগ গ্রহণ এবং সেটাকে বাস্তবায়ন করে যারা গুমের শিকার, গুম পরিবার, যারা খুন হয়েছে এবং খুনের পরিবার, যারা ১৭ বছরে নির্যাতিত হয়েছে—বিএনপি, জামায়াত, এনসিপিসহ, সকল রাজনৈতিক দলের নির্যাতিত নেতাকর্মীসহ সকলকেই আমরা রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি দিতে চাই, মূল্যায়ন করতে চাই। আর সেজন্যই আমাদের এই উদ্যোগ। এটা প্রতিষ্ঠা করে স্বীকৃতি দিয়ে এই ১৭ বছরে যাদের অবদান, তাদেরকে আমরা স্মরণ করব।