আন্দোলন করা সেই কওমি মাদ্রাসায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসার ছাত্র ও শিক্ষকদের সঙ্গে বৈঠক করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি। এ সময় দলটির নেতাকর্মীদের সঙ্গে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের একটি সমঝোতা হয়েছে। বৈঠক শেষ শনিবার (২৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় দলটির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এই তথ্য জানিয়েছেন।
এদিন কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ তাদের কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেয়ায় বিকেলে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে সমাবেশ করে এনসিপি। পরে সন্ধ্যায় জামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসায় গিয়ে কওমি ছাত্র ও শিক্ষকদের সঙ্গে বৈঠক করেন নেতাকর্মীরা।
শনিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে জামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসায় যান নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের আহ্বায়ক আশরাফ উদ্দিন মাহদি, কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আতাউল্লাহ, জাতীয় যুবশক্তির সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার ফরহাদ সোহেল এবং এনসিপির সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জিহান।
তারা জামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসার মুহতামিম ও জেলা হেফাজতে ইসলামের আমির মাওলানা মুবারাকুল্লাহ, জামিয়ার মুহাদ্দিস ও জেলা হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মারুফ কাসেমী, জেলা হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাওলানা শরীফ উদ্দিন আফতাবী এবং জেলা হেফাজতে ইসলামের কোষাধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল হাফিজের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এনসিপির নেতা ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহর পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করেন।
বৈঠক শেষে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, মাদ্রাসার ছাত্র ও শিক্ষকদের সঙ্গে আমাদের গভীর সম্পর্ক ও শ্রদ্ধা রয়েছে। আমরা একসঙ্গে জুলাই আন্দোলন করেছি। ওস্তাদরা আমাদের তালেব মনে করেন। অনেক আলেম আমাদের দুঃখ প্রকাশ করতে বলেছেন। দুঃখ প্রকাশ করলে কেউ ছোট হয় না। তাই আমরা এখানে এসেছি, দুঃখ প্রকাশ করেছি এবং ওস্তাদদের দোয়া নিয়েছি। আমাদের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে।
তিনি বলেন, ছাত্র ভাইয়েরা দাবি জানিয়েছেন, হাসনাত আবদুল্লাহ জাতীয় সংসদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া নিয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন, সে বিষয়ে যেন সঠিক তথ্য আবার সংসদে উপস্থাপন করেন।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, অনেকে বাইরে থেকে উল্লাস করছেন। তাদের বলব, এটা আমাদের ঘরের সমস্যা। এর সমাধান হয়েছে। ভুল-বোঝাবুঝির অবসান হয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সম্প্রতি পুলিশ ও মাদ্রাসাছাত্রদের সংঘর্ষের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, মূল বিষয় ছিল, মাদ্রাসাছাত্ররা পুলিশ লাইন্সে গানের অনুষ্ঠান বন্ধ করেনি। বরং পুলিশ ৩০ জন মাদ্রাসাছাত্রকে আহত করেছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদের সমালোচনা করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা করেছেন। সালাউদ্দিন ভাই বরাবরই এ কাজটি করেন। তিনি যদি মূল ঘটনা জানতেন, তাহলে মাদ্রাসাছাত্রদের পাশে থাকতেন। তার বাবা একজন মাদ্রাসার হুজুর ছিলেন। তিনি মদিনার ইসলামের কথা বলেন, কিন্তু মাদ্রাসাছাত্রদের পাশে দাঁড়াননি।
এর আগে শুক্রবার দিবাগত মধ্যরাতে জামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসা থেকে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। জাতীয় সংসদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া নিয়ে এনসিপির নেতা ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহর দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে এনসিপি ও হাসনাত আব্দুল্লাহকে বয়কটের ঘোষণা দেন তারা।
শনিবার দুপুরে এনসিপির সমাবেশস্থল জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে হামদ-নাত অনুষ্ঠানের ঘোষণা দেয় কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ। এতে শহরে উত্তেজনা দেখা দেয় এবং এনসিপির সমাবেশ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। এর মধ্যে শনিবার দুপুরে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে জাতীয় সংসদে দেয়া বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে ব্যাখ্যা দেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। পরে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ তাদের কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেয়।