২৫ আগস্ট ২০২৬, ১৯:১০

১/১১ কুশীলব আনোয়ার চৌধুরীর সঙ্গে জার্মানিতে বিএনপির একাংশের বৈঠক

বিএনপির ইংল্যান্ড ও জার্মানির নেতাদের সঙ্গে ১/১১’র অন্যতম কুশীলবের সাক্ষাৎ  © সংগৃহীত

বাংলাদেশের রাজনীতিতে কালোমেঘ ডেকে আনা আলোচিত ও কুখ্যাত ১/১১’র অন্যতম কুশীলব হিসেবে পরিচিত ২০০৬ সালে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের সাবেক হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর সঙ্গে একই অনুষ্ঠানে দেখা গেছে খোদ বিএনপির ইংল্যান্ড ও জার্মানির নেতাদের। এছাড়াও সেখানে উপস্থিত ছিলেন জার্মানিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জুলকার নাইন। বিএনপির নেতাদের মধ্যে যুক্তরাজ্য বিএনপির সদস্য সচিব খসরুজ্জামান খসরু, জার্মানি বিএনপির সাবেক সভাপতি আকুল মিয়া, আবু হানিফসহ দলটির নেতারা উপিস্থত ছিলেন। এই ঘটনায় জার্মানির বিএনপির নেতা কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

সোমবার রাতে (২৪ আগস্ট) জার্মানির রাজধানী বার্লিনের একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আনোয়ার চৌধুরী। আর সেখানেই উপস্থিত ছিলেন বিএনপির একাংশের নেতারা।

এই ঘটনায় জার্মান বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বিএনপির চেয়ারম্যানের ফরেন অ্যাফেয়ার্স অ্যাডভাইজরি কমিটির সদস্য দেওয়ান শফিকুল ইসলাম ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, বার্লিনে আজ আমরা যে ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছি, সেটিকে কোনোভাবেই একটি সাধারণ, বিচ্ছিন্ন বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ১/১১ একটি কালো অধ্যায়। আর সেই অধ্যায়ের সঙ্গে যাদের ভূমিকা ও কর্মকাণ্ড নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে, তাদের ঘিরে বিদেশের মাটিতে কোনো ধরনের রাজনৈতিক তৎপরতা দেখা গেলে সেটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা আমাদের দায়িত্ব।

তিনি আরো বলেন, ১/১১-এর সময় বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে যেভাবে বিপর্যস্ত করা হয়েছিল, রাজনৈতিক নেতৃত্বকে যেভাবে নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হতে হয়েছিল এবং একটি অনির্বাচিত সরকারকে রাষ্ট্রক্ষমতায় বসিয়ে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকারকে যেভাবে সংকুচিত করা হয়েছিল, বাংলাদেশের মানুষ সেই ইতিহাস কখনো ভুলবে না। বিশেষ করে বিএনপির ওপর যে নির্যাতন চালানো হয়েছিল এবং ‘দেশবন্ধু’ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে যে নির্মম নির্যাতন ও দীর্ঘ নির্বাসনের শিকার হতে হয়েছিল, তার ক্ষত আজও জাতির স্মৃতিতে গভীরভাবে বিদ্যমান। সুতরাং আজ বিদেশের মাটিতে ১/১১-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে আলোচিত কোনো ব্যক্তিকে ঘিরে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বা অনুষ্ঠানকে আমি কোনোভাবেই হালকাভাবে দেখার পক্ষে নই।

দেওয়ান শফিক বলেন, আমার প্রশ্ন অত্যন্ত পরিষ্কার—এটি কি সত্যিই নিছক একটি সাধারণ অনুষ্ঠান, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে? এ বিষয়টি অবশ্যই খতিয়ে দেখা দরকার।

১/১১ এর মতো এই ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে বিএনপির কোনো নেতাকর্মী প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত কি না। যদি কেউ জড়িত থাকে, তাহলে তার রাজনৈতিক অবস্থান যাই হোক না কেন, বিষয়টি দলীয়ভাবে তদন্ত করা এবং প্রমাণ পাওয়া গেলে যথাযথ সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। আর একটি ১/১১ বাংলাদেশে কখনো ফিরে আসতে দেওয়া যাবে না।