২৪ আগস্ট ২০২৬, ১৭:৪৩

সরকারের ১৮০ দিনের সফলতার বিপরীতে ১৮০ দিনের ব্যর্থতার পরিসংখ্যান তুলে ধরল এনসিপি

সরকারের ১৮০ দিনের সফলতার বিপরীতে ১৮০ দিনের ব্যর্থতার পরিসংখ্যান তুলে ধরেছে এনসিপি  © টিডিসি সম্পাদিত

তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের ১৮০ দিনের সফলতার বিপরীতে ১৮০ দিনের ব্যর্থতার পরিসংখ্যান তুলে ধরেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। আজ সোমবার (২৪ আগস্ট) বিকেলে বাংলা মোটরে এনসিপির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ‘সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ১৮০ দিন’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে ব্যর্থতার এসব দাবি উত্থাপন করা হয়। এ সময় এনসিপি আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় হুইপ নাহিদ ইসলাম দাবি করেন, চলমান জ্বালানি সংকট, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগে নিরপেক্ষতা বজায় রাখাসহ ২৯ বিষয়ে বর্তমান সরকার ব্যর্থ।

একই সঙ্গে ‘পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি থেকে পুরোনো রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তন: অব্যবস্থাপনা, অদক্ষতা, পরিকল্পনাহীনতা’ শিরোনামে একটি বুকলেট প্রকাশ করেছে এনসিপি।

সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম বলেন, এ সরকার ক্ষমতায় আসার পর দেশে জ্বালানির বাজার, সারের সংকট ও আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার চরম অবনতি হয়েছে। তারা বলেছিল নির্বাচন হলে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হবে। কিন্তু আমরা দেখছি এখন সেটা আরও উল্টো খারাপ হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, সারাদেশে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী পদের জন্য বিএনপির দলীয় সংগঠনের লোকেরা মারামারি করছে। ইউএনওর অফিসে গিয়ে মারধর করছে। সরকারের সমালোচনা করায় একজন বিচারককে আদালতের এজলাসে মারধর ও অফিস কক্ষ ভাঙচুর করা হয়েছে। ঢাকা কলেজের ফুটপাতে চাঁদাবাজি নিয়ে তাদের অন্যান্য সংগঠনের নেতাকর্মীরা নিজেদের মধ্যে মারামারি করছে। যার কোনো বিচার আমরা হতে দেখিনি।

নির্বাচিত সরকারের প্রথম বৈদেশিক সফর নিয়ে তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে মালয়েশিয়া সফর অত্যন্ত সফল হয়েছে। কিন্তু তথ্য বলছে চলতি বছরের মার্চ থেকে জুলাই পর্যন্ত বিদেশে শ্রমশক্তি রপ্তানির পরিমাণ কমেছে। সেখানে মালয়েশিয়ার  শ্রমবাজারে বাংলাদেশি শ্রমিকরা যেতে পারছেন না। এছাড়া আমরা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে জনশক্তি রপ্তানির কাজটি সিন্ডিকেট প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে করা হচ্ছে।

জুলাই গণহত্যার বিচারের প্রশ্নে চিফ হুইপ বলেন, জুলাই গণহত্যা নিয়ে সরকারের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ আমরা দেখছি না। বরং অন্তর্বর্তী সরকারের আমলের করা নানান সংস্কারকে দুর্বল করা হচ্ছে। পাশাপাশি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাসকে দলীয়করণ করা হচ্ছে। জুলাই আহতদের পুনর্বাসনে তেমন কোনো অগ্রগতি দেখছি না।

সরকারের বৈদেশিক নীতি নিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, সরকারের বৈদেশিক নীতির মধ্যে আমরা একধরনের দ্বিধান্বিত পররাষ্ট্রনীতি, আত্মবিশ্বাসহীন পররাষ্ট্রনীতি দেখতে পাচ্ছি। সরকার কখনো প্রবল আত্মবিশ্বাসে বিবৃতি দিচ্ছে আবার কখনো দেখি কর্তব্যবিমুখ। সীমান্ত হত্যা বন্ধে সরকার অনেক বড় বড় বিবৃতি দিয়েছে, কিন্তু জুলাই জাদুঘরে ফেলানির স্মারকটি সরানো হয়েছে। যাতে ভারত অখুশি না হয়। এছাড়া ভারত সফর নিয়ে একটা দ্বিধার মধ্যে আছে। শেখ হাসিনাকে ফেরানো নিয়ে ভারতের সঙ্গে কোনো ফলপ্রসূ আলোচনা আমরা দেখিনি।

সংস্কারকে দুর্বল করা নিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, ‘ বিএনপি নিজের ৩১ দফা থেকে বিচ্যুত হয়ে গেছে। সাংবিধানিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে তারা দলীয় লোক নিয়োগ দিচ্ছে। এছাড়া মানবাধিকার কমিশন, দুদক ও ন্যায়পালের মতো বিষয়গুলোকে সরকার উপেক্ষা করে যাচ্ছে। 

এদিকে দলের পলিসি ও রিসার্চ বিষয়ক উপকমিটি থেকে প্রকাশিত ১৬ পৃষ্ঠার বুকলেটে ব্যর্থতার ৯টি ক্ষেত্র তুলে ধরা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে—অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনা, জ্বালানি সংকট ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি; স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা; গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও রাজনৈতিক পরিবেশ; প্রাতিষ্ঠানিক দলীয়করণ ও নিয়োগ-বাণিজ; আইনশৃঙ্খলা, দখল ও চাঁদাবাজি; শিক্ষাঙ্গনে নৈরাজ্য; জুলাই: বিচার, চিকিৎসা ও পুনর্বাসন এবং দ্বিধান্বিত পররাষ্ট্রনীতি।