২৩ আগস্ট ২০২৬, ১৬:৪৩

সংসদীয় কমিটিতে সরকারি দল নিজেদের মতো সিদ্ধান্ত নেয় ও চাপিয়ে দেয়, অভিযোগ হাসনাতের 

কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ।  © ভিডিও থেকে নেওয়া।

সংসদীয় কমিটির বৈঠকে সরকার দল নিজেদের মতো করে সিদ্ধান্ত নেয় এবং তা অন্যদের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার প্রবণতা রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ।

আজ রবিবার (২৩ আগস্ট) সাড়ে তিনটার দিকে অর্থ মন্ত্রনালয়ের এক সংসদীয় মিটিং শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব অভিযোগ তোলেন তিনি। 

এ সময় হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘(সংসদীয়) মিটিংয়ের যে স্ট্রাকচারাল বিষয়গুলো রয়েছে, সেটার কোন মিটিং এখানে হয় না। সরকার দল এক ধরনের নিজের মত করে সিদ্ধান্ত নেয় এবং এক ধরনের চাপিয়ে দেওয়ার প্রবণতা রয়েছে।’

চীফ হুইপের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘এই কমিটির মিটিংয়ে অর্থমন্ত্রী একজন সদস্য। মিটিংয়ের সভাপতি হচ্ছেন মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব মুশফিকুর রহমান। এই মিটিংয়ে আরেকজন সদস্য রয়েছেন চিফ হুইপ (সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম মনি)। যিনি মনে করেন উনিই মিটিংয়ের সভাপতি। দেখা যায়, বেশিরভাগ সময় উনি সভাপতিত্ব করেন। উনিই দেখা যায়, মিটিং শেষ করা, মিটিং শুরু করা এবং এক ধরনের মিটিংকে এক ধরনের প্রেশারাইজ করা, এই কাজগুলো উনিই করেন। প্রত্যেকদিন একটা বিষয় বলেন, প্রস্তুতি নিয়ে আসে নাই। তাড়াতাড়ি করা হোক।’

ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘তো এই জিনিসগুলো হচ্ছে একটা অর্থমন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটির মিটিংয়ে। একটা গুরুত্বপূর্ণ কমিটিতে এ বিষয়গুলো নিয়ে আলাপ আলোচনা মানে করা হবে না, টেকনিক্যাল বিষয়গুলো নিয়ে আলাপ আলোচনা করা হবে না, সেটা খুবই দুঃখজনক।’

এর আগে কাস্টমসের অব্যবস্থাপনা, ঘুষ এবং অটোমেশনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কথা বলেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। তিনি বলেন, আপনি ডেনমার্ক থেকে একটা প্রোডাক্ট নিয়ে এসেছেন। প্রোডাক্টটা যদি আপনার বন্দরের মধ্যে ২ মাস ফেলে রাখা হয়। প্রত্যেকদিন যদি ৫ হাজার ডলার করে জাহাজ ভাড়া দিতে হয়, দুই মাসে ৩ লক্ষ ডলার জাহাজ ভাড়া হয়।  তখন ব্যবসায়ী মনে করে আমি ৩ লক্ষ ডলার এই জাহাজ ভাড়া না দিয়ে বরং এক লক্ষ ডলার ঘুষ দিয়ে পণ্যটি নিয়ে আসি।’

তিনি বলেন, ‘এ কারণে ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করতে অনুৎসাহিত হয়। ব্যবসায়ীরাও পরবর্তীতে কাস্টম না দিতে উৎসাহিত হয়। আমরা আমাদের প্রস্তাব করেছি এই পুরো প্রসেসটা যেন অটোমেটিক করে ফেলা হয়। হ্যান্ড টাচের বাহিরে যেন নিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। (মিটিংয়ে) আমাদের এনবিআর এর স্ট্রাকচারাল রিফর্মেশন নিয়ে কথা হওয়ার কথা ছিল। এই জায়গাগুলো নিয়ে কথা হয় নাই। আল্টিমেটলি এই কমিটিগুলাকে যদি এভাবে ডিসফাংশনাল (অকার্যকর) করে রাখা হয়, সেটা আমাদের জন্য দুঃখজনক হবে। একটা হাউস (সংসদীয়) কমিটি করা হয়েছিল। হাউস (সংসদীয়) কমিটির মিটিং হয়েছে দুইটা। আর বাকি জিনিসগুলো হচ্ছে সরকার দল নিজের মত করে করে। কোন মিটিং ডাকা হয় না।’