২০ আগস্ট ২০২৬, ১৪:৫২

চার মন্ত্রণালয়ে শনিবারের মধ্যে রদবদলের গুঞ্জন, আলোচনায় বিএনপির চার নেতা

মন্ত্রীসভায় রদবদল  © সংগৃহীত

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপি ও সরকারের ভেতরে বড় ধরনের পরিবর্তনের আলোচনা শুরু হয়েছে। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে তার দলীয় ও সরকারি দায়িত্বে পরিবর্তন আসবে। একই সঙ্গে সরকারের ছয় মাসের কার্যক্রম পর্যালোচনা করে কয়েকটি মন্ত্রণালয়ে রদবদল এবং নতুন কয়েকজনকে মন্ত্রিসভায় যুক্ত করার বিষয়েও আলোচনা চলছে। সবকিছু ঠিক থাকলে শনিবারের (২২ আগস্ট) মধ্যে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে বলে দলীয় ও সরকারি সূত্রে জানা গেছে।

সরকার ও বিএনপির একাধিক সূত্র বলছে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন শেষ হওয়ার এক-দুই দিনের মধ্যেই মন্ত্রিসভা পুনর্গঠন ও দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে। আলোচনায় থাকা প্রস্তাব অনুযায়ী, বান্দরবান থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরীকে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকনকে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী করার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

তবে সাচিং প্রু জেরী ও মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন দুজনই জানিয়েছেন, বিভিন্ন মাধ্যমে তারা এমন আলোচনা শুনেছেন। বুধবার বিকেল পর্যন্ত সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে তাদের এ বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়া বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহধর্মবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে গত ১ জুন তিনি পদত্যাগ করেন। এরপর প্রায় দুই মাস ধরে মন্ত্রণালয়টি পূর্ণ মন্ত্রীশূন্য রয়েছে। বর্তমানে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। একই সঙ্গে তিনি ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করছেন।

এদিকে আজ দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্বাচিত হলে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রীর পদটিও শূন্য হবে। ফলে এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নতুন করে বণ্টনের বিষয়টি সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে।

দলীয় সূত্র বলছে, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নাম জোরালোভাবে আলোচনায় রয়েছে। তাকে ওই মন্ত্রণালয়ে আনা হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নতুন একজনকে দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানির নাম আলোচনায় রয়েছে। পাশাপাশি বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম বকুলের নামও আলোচনায় এসেছে।

তবে মন্ত্রিসভায় রদবদল নিয়ে ছড়িয়ে পড়া খবরের বিষয়ে সম্প্রতি শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি গণমাধ্যমকে বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ কিছু গণমাধ্যমে তাকে নিয়ে প্রকাশিত খবরে তিনি বিব্রত।

সরকারের উচ্চপদস্থ দুজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে সরকারের প্রথম ছয় মাসের কাজ পর্যালোচনা করে কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে রাষ্ট্রপতির শপথের আগে বড় ধরনের মন্ত্রিসভা রদবদলের সম্ভাবনা কম বলেও তারা জানিয়েছেন।


এদিকে মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে বিএনপির মহাসচিব পদটিও শূন্য হবে। এই পদে কে আসছেন, তা নিয়েও দলের ভেতরে আলোচনা শুরু হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে সদ্য জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হওয়া রুহুল কবির রিজভীর নাম সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে।

দলীয় একটি বিশ্বস্ত সূত্রের দাবি, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন শেষ হওয়ার পর রিজভীকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড, দলীয় কার্যালয় পরিচালনা, রাজনৈতিক কর্মসূচি ও গণমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন তিনি। দলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন রিজভী। ফলে অন্তর্বর্তী সময়ে তাকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব করা হলে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমে বড় ধরনের ছন্দপতন হবে না বলে মনে করছেন দলের একাংশের নেতারা।

তবে স্থায়ীভাবে মহাসচিব কে হবেন, সেই প্রশ্নে আরও কয়েকজনের নাম রয়েছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ ও ডা. এজেড এম জাহিদ হোসেনের নাম এ ক্ষেত্রে আলোচনায় রয়েছে। দলীয় পুনর্গঠনের পর আগামী কাউন্সিলে মহাসচিব পদে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে বলেও আলোচনা রয়েছে।

রিজভীকে স্থায়ী কমিটিতে অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে তিনি বলেছেন, দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাদের কাজ করার জন্য নতুন করে স্থায়ী কমিটিতে যুক্ত করেছেন। এ জন্য তিনি দলের চেয়ারম্যানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। দেশের ও দলের জন্য তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন বলেও জানান।

মহাসচিব পদে পরিবর্তনের পাশাপাশি বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব পদেও পরিবর্তনের আলোচনা রয়েছে। এ পদে হাবিব উন নবী খান সোহেল ও আব্দুস সালাম আজাদের নাম আলোচনায় রয়েছে। দলের দপ্তর সম্পাদক পদেও নতুন মুখ আনার আলোচনা চলছে। এ ক্ষেত্রে সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, রকিবুল ইসলাম বকুল, আজিজুল বারী হেলাল, কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীম, মুনির হোসেন, আবদুল লতিফ জনি এবং এবিএম মোশাররফ হোসেনের নাম আলোচনায় রয়েছে।

মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে তার ঠাকুরগাঁও-১ আসনটিও শূন্য হবে। ফলে ওই আসনে উপনির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে তার পরিবারের সদস্যদের নাম নিয়েও আলোচনা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি।

একই সঙ্গে সংসদ উপনেতা কে হবেন, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। পরবর্তী সংসদ অধিবেশনে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে। এ পদে বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রবীণ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও সালাহউদ্দিন আহমদের নাম আলোচনায় রয়েছে।