বিক্ষোভ শুরুর আগেই সেই মাহদী হাসানসহ আটক ৩
হবিগঞ্জে লোডশেডিং, বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি, গ্যাস–সংকট ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের (বৈছাআ) সদস্যসচিব মাহদী হাসানসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।
সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে শহরের কোর্ট মসজিদ এলাকা থেকে মাহদী হাসানকে আটক করা হয়। এর প্রায় ২০ মিনিট আগে একই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সংগঠনটির নেতা মির্জা সুমন ও রাকিবকে আটক করা হয় বলে জানা গেছে।
আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অসহনীয় লোডশেডিং, বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি, হবিগঞ্জের চলমান গ্যাস–সংকট এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে ‘ছাত্র-জনতা’র ব্যানারে এ বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছিল। কর্মসূচি নিয়ে গত দুই দিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণাও চালানো হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার বিকেলে কর্মসূচিতে অংশ নিতে কয়েকজন কোর্ট মসজিদ এলাকায় জড়ো হওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় পুলিশ মাহদী হাসানকে আটক করে গাড়িতে তুলে নেয়। পরে তাঁকে থানায় নেওয়া হয়। তাঁকে পুলিশের কাছ থেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন তাঁর দুই সহকর্মী—এমনটিও জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা।
তবে তিনজনকে আটকের পর কোর্ট মসজিদ এলাকায় আর উল্লেখযোগ্যসংখ্যক আন্দোলনকারীকে দেখা যায়নি। ফলে পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হওয়ার আগেই কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।
আটকের সময় পুলিশের গাড়িতে থাকা মাহদী হাসান সাংবাদিকদের বলেন, তাঁদের কর্মসূচি রাজনৈতিক নয়। লোডশেডিং, বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি ও গ্যাস–সংকটসহ নাগরিক সমস্যার প্রতিবাদে কর্মসূচিটি আয়োজন করা হয়েছিল।
অন্যদিকে পুলিশ বলছে, প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করা হয়েছিল। এতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা থাকায় কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া হয়নি।
হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল হক বলেন, প্রশাসনের নিষেধের পরও কয়েকজন সেখানে জড়ো হওয়ার চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থল থেকে মাহদী হাসানসহ তিনজনকে থানার হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।