১৭ আগস্ট ২০২৬, ১৮:২৮

‘ব্যাপক জনসম্পৃক্ততা এবং নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়ন’কে সরকারের ১৮০ দিনের সাফল্য দেখছেন মাহদী আমিন

প্রেস কনফারেন্স  © সংগৃহীত

সরকারের প্রথম ছয়মাস অর্থাৎ ১৮০ দিনের বড় সাফল্য হচ্ছে, ‘ব্যাপক জন সম্পৃক্ততা এবং নির্বাচনী অঙ্গীকারগুলো বাস্তবায়ন’। এমনটিই দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। তিনি বলেছেন, গত ছয় মাসের অজস্র জনসম্পৃক্ত কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী দেশ জুড়ে যেখানেই গিয়েছেন ঠিক জনগণের ঢল নেমে এসেছে। জনগণের আস্থা এবং বিশ্বাসকে ধারণ করে বর্তমানে আমাদের যে সরকার সেটি বারবার জনগণের প্রতি দেশের মানুষের প্রতি দায়িত্ব এবং দায়বদ্ধতা নিয়ে এগিয়ে চলেছে।

মাহদী আমিন বলেছেন, সরকারের এই ছয় মাসের সবচাইতে যেটা ডিফারেন্ট একটা বিষয় চোখ করার মত সেটা হচ্ছে, নির্বাচন ইশতিহারকে ধারণ করে সেখানকার প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য অবিরত কাজ করে চলেছে। আমরা দেখেছি এই ছয় মাসে সুদৃঢ় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ কীভাবে সরকারের প্রতিটি কার্যক্রমে অনুমোদিত হয়েছে।

আজ সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের ১৮০ দিনের কার্যক্রম তুলে ধরতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এসব কথা বলেন। তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র ‘শাপলা’য় সরকারের ১৮০ দিন উপলক্ষ্যে এক মতবিনিময়ে মাহদী ‘সরকারের ১৮০ দিনের কার্যক্রম এবং সাফল্যগুলোর একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরেন।

‘সর্বোচ্চ বাকস্বাধীনতা’ নিশ্চিতের কথা জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, গত ছয় মাসে বাকস্বাধীনতা আইন অনুশাসন এবং মানবাধিকারের ক্ষেত্রে আমরা সর্বোচ্চ মানবিক স্থাপন দেখেছি যেখানে একটিবারের জন্য কখনো কোন রাজনৈতিক নিপীড়ন হয়নি। যেখানে আমরা দেখেছি সর্বোচ্চ বাক স্বাধীনতা অনেক সময় সেটা সীমা লঙ্ঘন করেছে।

তিনি বলেন, আমরা দেখেছি কিভাবে উস্কানি দেওয়া হয়েছে অশোভন আচরণ করা হয়েছে কিন্তু তারপরও সরকারের সর্বোচ্চ ধৈর্য এবং সহনশীলতার মাধ্যমে ঠিক যেভাবে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বহুদূরীয় গণতন্ত্র এস্টাবলিশ করেছিলেন সেটিকে ধারণ করে এগিয়ে চলেছে জনগণের সরকার।

মাহদী বলেন, গত ছয় মাসে আমরা দেখেছি অত্যন্ত প্রাণবন্ত এবং সতস্ফুর্ত জাতীয় সংসদ যেখানে সংসদ সদস্যরা একে অপরের আলোচনা করেছেন সমালোচনা করেছেন, যৌক্তিকভাবে বিভিন্ন বিষয় উপস্থাপন করেছেন। দেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন যে সরকার গঠনের পর সংসদের প্রথম অধিবেশনে শতাধিক অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তর করা হয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সে আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে।

তিনি বলেন, সন্ত্রাস বিরোধী সংশোধিত যে অধ্যাদেশ সেটিকে সংসদে আইনে রূপান্তরের মাধ্যমে সন্ত্রাসী একটি রাজনৈতিক সংগঠন যারা ফ্যাসিবাদ কায়েম করেছিল তাদেরকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

‘১৮০ দিন : মানুষের মর্যাদা ও সম্মান প্রতিষ্ঠা’
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী বলেন, বর্তমান সরকার গত ছয় মাসে কী কাজ করেছে সেই উত্তর হচ্ছে, এই রাষ্ট্র সমাজে মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করা, মানুষের সম্মান প্রতিষ্ঠা করা…এগুলো আমরা দেখিনি আগে ছিল না। আপনারা দেখেছেন মিরপুরে যখন শিশু রামিসা হত্যা হত্যা হলো সেই শিশু রামিসার ঘরে প্রধানমন্ত্রী নিজে গিয়েছেন। এর মানে হচ্ছে মজলুমের ঘরে যখন সরকার প্রধান যান তখন বুঝতে হবে যে আসলে এমন বাংলাদেশে আমরা প্রত্যাশা করি যেখানে জনগণের কাছে রাষ্ট্র সরকার দায়বদ্ধ।

শিবলী বলেন, এই যে সরকার জনগণের কাছে দায়বদ্ধ সেই দায়বদ্ধতা থেকে এই রাষ্ট্রের নেতৃবৃন্দ এখানে আছেন, সরকারের উপদেষ্টাগণ এখানে আছেন সেই দায়বদ্ধতা থেকে আপনারা যদি কোন কিছু জানার থাকে নেতৃবৃন্দকে যখন জানাবেন উনারা বলবেন। 

প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখপাত্র ও প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আরও বলেন, গতকাল মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কিশোরগঞ্জ গিয়েছিলেন। আপনারা দেখবেন যে আমাদের একটা বাস আছে। বাসটি ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। আমরা বাসে যাওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী যখন যাচ্ছেন তখন বাস থেকে প্রধানমন্ত্রী খেয়াল করেছেন যে কিছু সময় সম্ভবত রাস্তাটা খুব ক্লিয়ার। উনি সঙ্গে সঙ্গে নোটিশ করলেন এবং কনসার্ন অথরিটিকে বললেন যে সামনের দিকে যেন আর কখনো না হয়। সাধারণ মানুষ যেভাবে যাবে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও সেভাবে যাবেন। এই যে মানুষকে নিজেকে আলাদা করে না রেখে জনগণের সঙ্গে মিশে যাওয়া জনগণের একজন হয়ে যাওয়া এমন বাংলাদেশ কিন্তু আমাদের প্রত্যাশার জায়গা ছিল এবং আমরা সেই বাংলাদেশটা পেয়েছি।

সরকারের ১৮০ দিন: গণমুখী ও বহুমাত্রিক দশ কর্মযজ্ঞ
অনুষ্ঠানে সরকারের ১৮০ দিনের কর্মতৎপরতা তুলে ধরা হয়। এগুলো হচ্ছে-অভূতপূর্ব জনসমর্থন, সুদৃঢ় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন, অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সাফল্য, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন, সকল শ্রেণি পেশার মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন, আর্থিক খাতে সংস্কার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির স্থিতিশীলতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা,অবকাঠামো, পরিবেশ ও টেকসই উন্নয়ন, রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব ও মর্যাদাপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি  এবং প্রধানমন্ত্রীর স্বতন্ত্র ভিন্নমাত্রিক নেতৃত্ব।

মাহাদী আমিন সরকারের ১৮০ দিনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলেন, ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদ-পরবর্তী ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে যে বাংলাদেশকে আমরা নতুন করে পুনর্গঠন করছি, সেখানে মাত্র ছয় মাসে সব সমস্যার শতভাগ সমাধান করে ফেলা হয়ত কিছুটা দুরূহ, তবে একটি বিষয় আজ নিশ্চিতভাবে বলা যায়, প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এই নির্বাচিত, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক সরকারের রয়েছে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা, সর্বোচ্চ দায়বদ্ধতা ও দায়িত্বশীলতা।

তিনি বলেন, আমরা সবাই মিলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সেই গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর, মানবিক, নিরাপদ, মেধাভিত্তিক ও জনকল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ে তুলব, ইনশাআল্লাহ।জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত এই সরকারের ক্ষমতার একমাত্র উৎস জনগণ, অনুপ্রেরণার উৎস জনগণ এবং এই সরকার প্রকৃত অর্থেই জনগণের সরকার।

প্রধানমন্ত্রীর স্বতন্ত্র নেতৃত্বে কথা উল্লেখ করে বলেন, এই বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতোমধ্যে তথাকথিত ভিআইপি সংস্কৃতি সম্পূর্ণ ভেঙে দিয়ে সাধারণ মানুষের মতো করে সাধারণ মানুষের কাতারে নেমে এসেছেন। আমরা দেখেছি, তিনি বারবার তৃণমূলের মানুষের কাছে ছুটে যাচ্ছেন, কোদাল হাতে নিয়ে খাল খনন কর্মসূচিতে নেমে পড়ছেন, স্কুলের কোমলমতি শিশুদের পরম স্নেহে কোলে তুলে নিচ্ছেন।

তিনি বলেন, আমরা প্রত্যক্ষ করেছি তার অত্যন্ত সাদাসিধে ও মিতব্যয়ী জীবনাচার। সামগ্রিকভাবে দীর্ঘদিন পর আজ আমরা এমন একটি সরকার পেয়েছি, যাকে দেশের প্রতিটি মানুষ গভীর আবেগ, অনুভূতি ও ভালোবাসা দিয়ে হৃদয়ে ধারণ করে।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলীর সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ও রুহুল কবির রিজভী, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এবং  প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বক্তব্য রাখেন। এতে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, পররাষ্ট্র  বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারি এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু বিষয়ক বিশেষ সহকারি সাইমুম পারভেজ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক এসএম আব্দুল আউয়াল উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিশেষ সহকারী রাশেদ খান, তথ্য ও সম্প্রচার সচিব মাহবুবা ফারজানা, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমেদ, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাষ্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাছির জামাল, প্রধানমন্ত্রীর স্ক্রিপট রাইটার মাহফুজুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি, মো. সুজাউদ্দৌলা, সহকারি প্রেস সচিব কেএম নাজমুল হক, আবদুল্লাহ আল মাহমুদ শাহরিয়ার ও আশরোফা ইমদাদ উপস্থিত ছিলেন।