১৫ আগস্ট ২০২৬, ২১:৩৩

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে বেগম জিয়া ছিলেন অকুতোভয় বীর সিপাহসালার: খন্দকার মারুফ

বক্তব্য রাখছেন ড. খন্দকার মারুফ  © সংগৃহীত

বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট ড. খন্দকার মারুফ হোসেন বলেছেন, ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের রাহুগ্রাস থেকে দেশ রক্ষা এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন আপোষহীন, অকুতোভয় বীর সিপাহসালার। একটি উন্নত সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গঠনে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অসামান্য অবদান জাতি গভীর শ্রদ্ধায় চিরকাল স্মরণ রাখবে।

আজ শনিবার (১৫ আগস্ট) বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিনে কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি এবং মেঘনা উপজেলায় পৃথক দুটি মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এইসব কথা বলেন।

ড. খন্দকার মারুফ বলেন, বেগম খালেদা জিয়া দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হয়ে নারী শিক্ষার প্রসার,গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, মজবুত অর্থনীতি ও দেশের উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছেন। ‘৮২ সাল থেকে দীর্ঘ ৯ বছর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে বেগম খালেদা জিয়ার আপোষহীন ভুমিকা তাকে ‘দেশনেত্রী’ উপাধিতে ভূষিত করেন। দেশ ও জনগণের স্বার্থ রক্ষায় কোনো ধরনের চাপের মুখে তিনি কখনও আপোষ করেননি, কারও কাছে মাথা নত করেননি। তার এই আপোষহীন দৃঢ় সংকল্প বেগম জিয়াকে বাংলাদেশ এবং  বিশ্ব রাজনীতিতে আপোষহীন নেত্রী হিসাবে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছে।

বিএনপি নেতা খন্দকার মারুফ বলেন, ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের জেল-জুলুম, নিপীড়ন উপেক্ষা করে গণতন্ত্র ও দেশ রক্ষার আন্দোলনে বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন নির্ভীক ও সদা জাগ্রত। দেশের আপামর জনগণের কাছে তিনি হয়েছেন ব্যাপকভাবে প্রশংসিত ও নন্দিত। স্বীকৃতি পেয়েছেন ‘গণতন্ত্রের মাতা’ হিসাবে। আর বিএনপি ও ছাত্র জনতার আন্দোলনের তীব্রতায় ফ্যাসিস্ট  শেখ হাসিনা দেশ থেকে পালিয়ে গিয়ে হয়েছেন গণধিকৃত, নিন্দিত।

ড. খন্দকার মারুফ বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার সুযোগ্য উত্তরসূরী বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী। ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের রেখে যাওয়া ধ্বংসস্তুপের উপরে দাঁড়িয়ে তিনি স্বনির্ভর, সমৃদ্ধ দেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে কাজ করছেন। তারেক রহমানের গতিশীল নেতৃত্বে আগামী দিনে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশ শির উঁচু করে দাঁড়াবে, ইনশাআল্লাহ। আমরা হবো উন্নয়নের রোল মডেল।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী গত ৬ মাসে দেশ ও জনগণের কল্যাণে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে মানুষের দৃষ্টি কেড়েছেন। এটি এখন জনগণের কাছে প্রমাণিত যে, আইনের শাসন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, বাংলাদেশের উন্নয়ন ও উৎপাদনের রাজনীতিতে তারেক রহমানের কোনো বিকল্প নেই।

ড. খন্দকার মারুফ হোসেন দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করতে শহীদ জিয়া এবং বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে সাংগঠনিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে নেতাকর্মীদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।

দাউদকান্দি সদরে ‘মারুফ ভিলা’ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত দোয়া অনুষ্ঠানে পৌর বিএনপির আহবায়ক নূর মোহাম্মদ সেলিম সরকার এবং মেঘনায় ভাওরখোলা প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে উপজেলা বিএনপির আহবায়ক রমিজ উদ্দিন লন্ডনী সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠানে বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়েছে।

এইসব অনুষ্ঠানে দাউদকান্দি উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার একেএম শামসুল হক, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক এমএ লতিফ ভূইয়া, সদস্য সচিব ভিপি জাহাঙ্গীর আলম, দাউদকান্দি পৌর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক পিটার চৌধুরী, সদস্য সচিব কাউসার আলম সরকার, মেঘনা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব সালাহউদ্দিন সরকার, যুগ্ম আহবায়ক দিলারা শিরীন, যুবদল নেতা ভিপি শাহাবুদ্দিন ভুইয়া, শরীফ চৌধুরী, শাহ্ আলম সরকার ও রোমান খন্দকার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।