১৩ আগস্ট ২০২৬, ২০:২৫

এক ফখরুলে অনেক পরিবর্তন বিএনপিতে, দল ও মন্ত্রিসভায় নতুন কয়েক মুখ

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর  © সংগৃহীত

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ার পর বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব ও দলীয় রাজনীতিতে বিশাল এক শূন্যতা এবং নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে আগলে রাখা মহাসচিবের পদ এবং জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যপদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেছেন।

আজ বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদের সভাকক্ষে বিএনপি চেয়ারম্যান এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দলের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী কমিটি জাতীয় স্থায়ী কমিটির ও দলের যুগ্ম মহাসচিবদের ডেকে আলোচনা করে মির্জা ফখরুলকে দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়ার কথা জানান। রাষ্ট্রপতি হিসেবে চূড়ান্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নিয়ম অনুযায়ী মির্জা ফখরুল ওই বৈঠকেই বিএনপির মহাসচিব ও সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রিত্ব থেকেও পদত্যাগ করেন। 

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ওনাকে আমরা রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী মনোনীত করার দায়িত্ব দিয়েছিলাম, উনি আমাদের ডেকে সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন। সেখানে কোনো বৈঠক হয়নি। তবে আলোচনা হয়েছে। সেই আলোচনার পর সিদ্ধান্ত এসেছে।

আরও পড়ুন: চেয়ারম্যান, মহাসচিব, ‘মাননীয় মন্ত্রী’ থেকে ‘মহামান্য’—মির্জা ফখরুলের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন

আজ রাষ্ট্রপতি পদে আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়নপত্র সিইসির কাছে দাখিলের পর তার অবর্তমানে দলীয় ও সরকারি পদে কে আসবেন জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘এটার জন্য অপেক্ষা করেন, পরে জানতে পারবেন।’

এদিকে, এক মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাষ্ট্রপতির আসনে বসার ঘটনায় বিএনপি এবং সরকারে বড় পরিবর্তন আসছে। ২০১১ সাল থেকে ভারপ্রাপ্ত এবং ২০১৬ সাল থেকে পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব হিসেবে দলের চরম সংকটে নেতৃত্ব দেওয়া মির্জা ফখরুলের বিদায়ে বিএনপিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক পদটি এখন ফাঁকা। সরকারের পাশাপাশি দলকে সংগঠিত অবস্থায় ধরে রাখতে শিগ্‌গিরই বিএনপিকে ফখরুলের শুণ্য আসনটি পূরণ করতে করতে হবে। 

বিএনপিতে ফখরুলের উত্তরসূরি নির্বাচন
মির্জা ফখরুলের অনুপস্থিতিতে দল পরিচালনায় সাংগঠনিক গতিশীলতা আনতে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান একজন অত্যন্ত বিশ্বস্ত, নিবেদিতপ্রাণ এবং তুলনামূলক তরুণ নেতাকে দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়ে আনতে চান। দল থেকে মির্জা ফখরুল পদত্যাগ করায় মহাসচিবের এই শূন্য পদ পূরণে ক্ষমতাসীন দল বিএনপির রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ শুরু হয়েছে। দলের নীতিনির্ধারণী মহলে বর্তমানে স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ এবং সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ ও যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেলের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে। সেক্ষেত্রে দলটির জাতীয় কাউন্সিলের আগে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রথমে এসব সিনিয়র নেতাদের মধ্য থেকে ‘ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব’ হিসেবে কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিএনপির মতো একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল যারা বর্তমানে রাষ্ট্রের ক্ষমতাসীন দলের মহাসচিব পদটি কেবল একটি সাংগঠনিক পদ নয়; এটি সরকার ও দলের মধ্যে সমন্বয় সাধনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সেতু।

দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন রুহুল কবির রিজভী। বিএনপির দুঃসময়ের ইতিহাসে তার নাম লেখা থাকবে বলে মনে করেন তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা। বিশেষ করে বিগত দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে চরম রাজনৈতিক সংকটে, পুলিশের ঘেরাওয়ের মুখেও নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় পাহারা দেওয়া, নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিং করে দলের অবস্থান পরিষ্কার করা এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও মাঠের নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত রাখার ক্ষেত্রে রিজভীর ভূমিকায় সাধারণ নেতাকর্মীরা চাঙা থাকতেন। তিনি ছিলেন ‘নয়াপল্টনের অতন্দ্র প্রহরী।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের নামও মহাসচিব হিসেবে অতি জোরালোভাবে আলোচনায় রয়েছে। সাবেক আমলা (সচিবালয়ের কর্মকর্তা) হিসেবে প্রশাসনিক কাঠামো সম্পর্কে তার রয়েছে গভীর ধারণা। পরবর্তীতে রাজনীতিতে এসেও তিনি নিজের মেধা ও প্রজ্ঞার প্রমাণ দিয়েছেন। ২০১৫ সালে গুম হওয়ার পর দীর্ঘ নির্বাসন জীবনেও দলের নীতিনির্ধারণে ভূমিকা রেখেছেন। 

হাবিব উন নবী খান সোহেল। ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন সফলতার সঙ্গে। বর্তমানে বিএনপির অন্যতম যুগ্ম মহাসচিব। বিগত প্রায় দেড় যুগে ফ্যাসিস্ট হাসিনার স্বৈরশাসনামলে সোহেল দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সর্বাধিক প্রায় ৬ শতাধিক মামলার আসামি। দীর্ঘদিন কারাবাসের পাশাপাশি পলাতক জীবন কাটানো বিএনপির এই বাগ্মী নেতা অত্যন্ত আবেগি ও নেতাকর্মীদের কাছে জনপ্রিয়ও বটে। ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে তার অনেক রাজনৈতিক কর্মী দলের মনোনয়ন পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে অনেকেই তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের মন্ত্রিত্বও পেয়েছেন। সেক্ষেত্রে সোহেল ছিলেন মনোনয়ন বঞ্চিত। বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অত্যন্ত স্নেহভাজন হাবিব উন নবী খান সোহেলকে দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব অর্পণের জন্যই দলের চেয়ারম্যান তাকে সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন দেয়া হয়নি বলে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। সেক্ষেত্রে পরবর্তী মহাসচিব হিসেবে সোহেল দলের হাইকমান্ডের অন্যতম বিবেচনায় রয়েছেন বলে সূত্র জানিয়েছে।

জানতে চাইলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেন, দলের নতুন মহাসচিব কে হবেন বিষয়টি নির্ধারণের দায়িত্ব দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দেওয়া হয়েছে। 

তিনি বলেন, সাংবিধানিক ও দলীয় যে প্রক্রিয়া রয়েছে, তা পর্যালোচনা করে দলের চেয়ারম্যান পরবর্তীতে নতুন মহাসচিবের বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবেন। এখন পর্যন্ত বিএনপির নতুন মহাসচিব হিসেবে কারও নাম ঘোষণা করা হয়নি। দলের চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্তের পরই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে।

মন্ত্রিসভায় রদবদল
মির্জা ফখরুল শুধু দলের মহাসচিবই ছিলেন না, তিনি বর্তমান সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী (LGRD) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন। রাষ্ট্রপতি পদে লড়ার কারণে তাকে এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রিত্বও ছেড়ে দিতে হয়েছে। তার পদত্যাগের পর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের হাল কে ধরবেন, তা নিয়ে দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অধীনে মন্ত্রিসভায় নতুন রদবদল আসতে যাচ্ছে। তফসিল অনুযায়ী আগামী ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ কক্ষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সরাসরি তত্ত্বাবধানে এই ভোট অনুষ্ঠিত হবে, যা সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। সংসদে বিএনপির একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় বিএনপির প্রার্থীর বিজয় এখন কেবল সময়ের ব্যাপার। এরপর যেকোনো দিন মন্ত্রিসভার রদ বদল করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব নেওয়ার পর ১৮০ দিনের একটি বিশেষ কর্মপরিকল্পনা (অ্যাকশন প্ল্যান) ঘোষণা করেছিলেন, যার মেয়াদ আগামী ১৬ আগস্ট শেষ হচ্ছে। এই কর্মপরিকল্পনার অধীনে মন্ত্রীদের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করে মন্ত্রিসভায় বড় রদবদল আনার আলোচনা চলছে। 

জানা গেছে, মির্জা ফখরুলের ছেড়ে দেয়া স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন বর্তমান মন্ত্রিপরিষদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। সেক্ষেত্রে সালাহউদ্দিনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় যেতে পারে বর্তমানে পানি সম্পদ মন্ত্রী বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির হাতে।  

এদিকে, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী হিসেবে সালাহউদ্দিনের নাম বেশে আলোচনায় আসলেও মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে ঢাকা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও স্থায়ী কমিটির বর্ষীয়ান সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ও ওই পদের জন্য ব্যাপক আলোচিত নাম বলে বিএনপি সূত্রে জানা গেছে। এই কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের বাইরে শিক্ষা, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়েও পরিবর্তন আসতে পারে। দলের প্রতি নিবেদিতপ্রাণ নেতাদের মধ্যে রুহুল কবির রিজভী ও হাবিবউন নবী খান সোহেলসহ বেশ কিছু নতুন ও তরুণ মুখ মন্ত্রিসভায় যুক্ত হতে পারেন। 

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২,৩৮,৮৩৬ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছিলেন। তিনি রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার পর এই আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হবে। সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সাথে সাথেই সংসদ সচিবালয় তার আসনটি শূন্য ঘোষণা করবে। সেক্ষেত্রে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উপ-নির্বাচন হবে। স্থানীয় ও দলীয় সূত্র জানায়, মির্জা ফখরুলের এই শূন্য আসনে উপ-নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন তার বড় মেয়ে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বিজ্ঞানী ও মানবাধিকার কর্মী ড. শামারুহ মির্জা। 

২০১১ সালে বিএনপির ক্রান্তিকালের মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের মৃত্যুর পর বিএনপির হাল ধরেছিলেন মির্জা ফখরুল। প্রথমে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং পরে ২০১৬ সালের ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পান তিনি।

ফখরুলের অনুসারীদের ভাষ্য, ফ্যাসিবাদের দেড় দশকে বিরোধী দলে থাকা অবস্থায় দমন-পীড়ন, হাজারো মামলা এবং দলের শীর্ষ নেতৃত্বের অনুপস্থিতিতে (খালেদা জিয়ার কারাবাস ও তারেক রহমানের নির্বাসন) তিনি দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে সক্ষমতার পরিচয় দিয়েছেন। তার পরিমিতিবোধ, মার্জিত রাজনৈতিক ভাষা এবং বুদ্ধিবৃত্তিক বক্তব্য শুধু দলের ভেতরেই নয়, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও সুশীল সমাজের কাছেও তাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমান বাস্তবতা ভিন্ন। বিএনপি এখন আর বিরোধী দল নয়, বরং ক্ষমতাসীন দল। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এখন দেশের প্রধানমন্ত্রী। ফলে নতুন যিনি মহাসচিব হবেন, তাকে বিরোধী দলের মতো শুধু রাজপথে স্লোগান দিলে বা আন্দোলন জমালে চলবে না। তাকে সামলাতে হবে রাষ্ট্র পরিচালনার সঙ্গে দলীয় নেতাকর্মীদের প্রত্যাশার চাপ। ক্ষমতাসীন দলের মহাসচিব হিসেবে আন্তর্জাতিক মহলের সঙ্গে কূটনীতি, সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে দলের সমন্বয় এবং লাখ লাখ নেতা-কর্মীকে সুশৃঙ্খল রাখার এক কঠিন পরীক্ষায় অবতীর্ণ হতে হবে নতুন মহাসচিবকে। এসব বিষয় বিবেচনা করে দলের হাইকমান্ড অপেক্ষাকৃত তরুণ, নেতাকর্মীদের মধ্যে জনপ্রিয়, সাংগঠনিক দক্ষতা সম্পন্ন কর্মীবান্ধব নেতাকে পরবর্তী মহাসচিব হিসেবে বেছে নেবে বলে নেতাকর্মীদের বিশ্বাস। 

মহাসচিবের পদত্যাগের পর পরবর্তী প্রক্রিয়া কেমন হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, যেহেতু তিনি (মহাসচিব) পদত্যাগ করে চলে গেছেন এবং এই মুহূর্তে দলের কোনো কাউন্সিল হচ্ছে না, তাই একজন ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। তার (সাবেক মহাসচিবের) পরে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে যিনি আছেন অথবা অন্য কোনো নেতা— অর্থাৎ একজন ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পাবেন।

দলীয় গঠনতন্ত্রের নিয়ম উল্লেখ করে বিএনপির এই ভাইস চেয়ারম্যান আরও বলেন, আমাদের দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সাধারণত পার্টির চেয়ারম্যানই মহাসচিব মনোনীত করেন। পরবর্তীতে সেটি কাউন্সিলে অনুমোদন করিয়ে নেওয়া হয়। কিন্তু যেহেতু এখন কাউন্সিল হচ্ছে না, সেই হিসেবে চেয়ারম্যান যাকে মনোনীত করবেন, তিনিই আগামী কাউন্সিল হওয়া পর্যন্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করবেন।