১০ আগস্ট ২০২৬, ২০:১২

বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ সিদ্ধান্তে জামায়াতের প্রতিবাদ

জামায়াতে ইসলামী  © ফাইল ছবি

বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় প্রবেশ পর্যায়ে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির হাতে দেওয়ার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার। সোমবার (১০ আগস্ট) সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি দলের পক্ষে এই প্রতিবাদ জানান। 

বিবৃতিতে জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় প্রবেশ পর্যায়ে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির হাতে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। গত ৩ আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এনটিআরসিএ-এর সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত এক সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকারের এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, দলীয় প্রভাব ও ঘুষ-বাণিজ্যের পুরোনো চক্র পুনরায় সক্রিয় হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার অন্যতম প্রধান শর্ত হলো যোগ্য, মেধাবী ও দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ। সেই নিয়োগ প্রক্রিয়ার দায়িত্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির হাতে তুলে দেওয়া হলে শিক্ষক নিয়োগে রাজনৈতিক ও স্থানীয় প্রভাব বিস্তার এবং আর্থিক লেনদেনের সুযোগ তৈরি হবে।

তিনি আরও বলেন, এনটিআরসিএ-এর মাধ্যমে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করার যে প্রক্রিয়া চালু রয়েছে, তা শিক্ষক নিয়োগে মেধা, যোগ্যতা ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাকে অধিকতর গুরুত্ব দিয়েছে। এর ফলে একজন প্রার্থী নিজ যোগ্যতায় শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি অনেকাংশে নিশ্চিত হয়েছে। একই সঙ্গে এই প্রক্রিয়া শিক্ষকদের পেশাগত মর্যাদাও বৃদ্ধি করেছে।

কিন্তু বিদ্যমান নিয়োগ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা ও জটিলতাগুলো দূর করে সেটিকে আরও স্বচ্ছ, কার্যকর ও বাস্তবমুখী করার পরিবর্তে যদি পুনরায় ম্যানেজিং কমিটির হাতে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা দেওয়া হয়, তাহলে তা শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতির সুযোগ অতীতের মতো আবার তৈরি করবে। বিশেষ করে দলীয় প্রভাব, স্বজনপ্রীতি, অর্থের বিনিময়ে নিয়োগ এবং স্থানীয় প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপের অভিযোগ পুনরায় সামনে আসার আশঙ্কা রয়েছে।

সেক্রেটারি জেনারেল আরও বলেন, আমরা মনে করি, শিক্ষক নিয়োগ কোনোভাবেই রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত প্রভাবের বিষয় হওয়া উচিত নয়। একজন শিক্ষককে তাঁর মেধা, যোগ্যতা, দক্ষতা ও পেশাগত সক্ষমতার ভিত্তিতে নিয়োগ দিতে হবে। কারণ যোগ্য শিক্ষক ছাড়া মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

অতএব, বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে প্রবেশ পর্যায়ে শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া চালু করার উদ্যোগ বাতিল করার জন্য আমরা সরকারের প্রতি জোর আহ্বান জানাচ্ছি।

একই সঙ্গে এনটিআরসিএ-এর বিদ্যমান নিয়োগব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ, জবাবদিহিমূলক ও কার্যকর করার দাবি জানাচ্ছি। প্রয়োজনে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) এর মতো একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সাংবিধানিক/প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মাধ্যমে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষক নিয়োগে মেধা ও যোগ্যতার পরিবর্তে কোনো ধরনের রাজনৈতিক, প্রশাসনিক বা আর্থিক প্রভাব যাতে স্থান না পায়-এটাই হওয়া উচিত রাষ্ট্রের নীতিগত অবস্থান। আমরা শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও মেধাভিত্তিক প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করার স্বার্থে সরকারের এই উদ্যোগ পুনর্বিবেচনার জোর দাবি জানাচ্ছি।