১০ আগস্ট ২০২৬, ১৭:১৭

আপা যে পথে হেঁটেছেন, আপনারাও সেই পথে হাঁটছেন: জামায়াত আমির

সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া কাজী আজহার আলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জনসভা বক্তব্য দিচ্ছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান  © টিডিসি

ক্ষমতাসীনদের উদ্দেশে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আপা যে পথে হেঁটেছেন, আপনারাও সেই পথে হাঁটছেন। এভাবে চললে টিকে থাকতে পারবেন না।’

সোমবার (১০ আগস্ট) গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া কাজী আজহার আলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সাঘাটায় জামায়াত-শিবিরের দুই কর্মী খুনের প্রতিবাদ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির বিরুদ্ধে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

জামায়াত আমির বলেন, ‘জামায়াত ইসলামী রংপুরে বেশিসংখ্যক আসন পাওয়ায় তাদের উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। এটা রংপুরের মানুষ মেনে নেবে না। মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়ার জন্য সামনে দিকে আর হাত বাড়াবেন না, আর পা বাড়াবেন না। পরিণতি ভালো হবে না।’

তিনি বলেন, রংপুর অঞ্চলে জামায়াতে ইসলামী বেশিসংখ্যক আসন পাওয়ায় এই এলাকাকে উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। রংপুরের মানুষ এ বৈষম্য মেনে নেবে না এবং প্রয়োজন পড়লে তারা আবারও রাজপথে নেমে আসবে।

সম্প্রতি সাঘাটায় সন্ত্রাসী হামলায় জামায়াত কর্মী সালাউদ্দিন ও শিবির কর্মী সাইফুল্লাহ বারী নিহত হওয়ার ঘটনা তুলে ধরে জামায়াত আমির আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, ‘আজকে এসে আমি তাদের পরিবারের বুকফাটা কান্নার স্বাক্ষী হয়েছি। আমি চাই, আর কোনো মায়ের কিংবা বাবার বুক খালি না হোক। এই বাংলাদেশকে আমরা সঠিক সমৃদ্ধ বাংলাদেশ হিসেবে দেখতে চাই, যেখানে সবার জীবন ও সম্পত্তি নিরাপদ।’

দুই কর্মী হত্যার তীব্র সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা চাই না, ক্ষমতার লোভে আর কোনো মায়ের কোল খালি হোক। কেউ গায়ে পড়ে ঝগড়া বাধাতে আসবেন না। খুনিদের অবিলম্বে বিচারের আওতায় আনতে হবে।’

ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘সম্প্রতি দেশে ক্ষমতার লোভ, দখলদারি আর মানুষ খুনের ঘটনা বেড়েছে। আমরা কোনো ফ্যাসিবাদীকে বাংলার জমিনে প্রশ্রয় দেব না। বাংলার মাটি ফ্যাসিবাদীদের জন্য নয়।’

কর্মীদের প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘আপনারা তৈরি হোন, যেভাবে ২০২৪ সালে সাধারণ মানুষ প্রাণভয় উপেক্ষা করে রাস্তায় নেমে এসছিলেন, হয়তো আবারও রাস্তায় নামতে হবে। ইতিহাসের প্রয়োজনে আন্দোলন অনিবার্য হয়ে পড়বে।’

বিএনপি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিএনপি হ্যাঁ ভোটের প্রচারণা চালিয়ে ক্ষমতায় গিয়ে জাতির সঙ্গে প্রতারণা শুরু করছে। যারা হ্যাঁ প্রচারণা চালিয়ে এখন না বলছেন, তারাই একদিন এই দেশ থেকে নাই হয়ে যাবেন। জনতার রায়কে অগ্রাহ্য করে অতীতে কেউ টিকে থাকতে পারেনি, সামনেও কেউ টিকতে পারবে না।’

দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জামায়াত আমির বলেন, ‘বর্তমানে সব জায়গায় চুরি-চামারি ও লুটপাট শুরু হয়েছে। চাঁদাবাজদের হাত বন্ধ করতে হবে, দুর্নীতিবাজদের হাত বন্ধ করতে হবে। এ দেশে যদি আইনের শাসন ফিরিয়ে আনা না যায়, তবে উন্নয়ন অর্থহীন।’

তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘দেশের মানুষের বিরুদ্ধে যারাই যাবে, তাদের এই দেশে থাকা হবে না। এই পথ পালানোর পথ। দেশের মানুষ আর দিল্লির খবরদারি মেনে নেবে না। বাংলাদেশ স্বাধীন দেশ, কারও খবরদারি এখানে চলবে না।’

যুব সমাজের ভূয়সী প্রশংসা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যুবকরা এখন প্রতিবাদ করার সাহস শিখিয়েছে। তারাই পারে ভবিষ্যৎ বদলে দিতে। তিনি আরও বলেন, দেশের জন্য একবার নয়, শতবার রাজপথে নামতে প্রস্তুত তারা। অন্যায়ের কাছে মাথানত করতে রাজি নন জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা।

সমাবেশ শেষে ডা. শফিকুর রহমান সাঘাটায় নিহত শিবির কর্মী সাইফুল্লাহ বারী ও জামায়াত কর্মী সালাউদ্দিনের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তাদের কবর জিয়ারত করেন। এ সময় তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং খুনিদের দ্রুত বিচারের আশ্বাস দেন। তিনি পরিবারের সদস্যদের ধৈর্য ধারণের পরামর্শ দেন এবং বলেন, ন্যায়বিচার না পাওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবে।

গাইবান্ধা-৫ আসনের সংসদ সদস্য বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ওয়ারেছের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা, গাইবান্ধা-২ আসনের এমপি আব্দুল করিম, বগুড়া জেলা আমির আব্দুল হক ও গাইবান্ধা জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইউসুফ আল কাজামী প্রমুখ।

উল্লেখ্য, গত ২৪ জুলাই সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া এলাকায় প্রতিপক্ষের সঙ্গে সংঘর্ষে জামায়াত-শিবিরের দুই কর্মী নিহত হন। তাদের অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। এর প্রতিবাদ ও নিহতদের বিচার দাবিতে এই জনসভার আয়োজন করা হয়। সভায় উপস্থিত নেতাকর্মীরা খুনিদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।