১০ আগস্ট ২০২৬, ১৪:১৮

‘সংঘর্ষের ছবি দেখালে টিভি চ্যানেল বন্ধ’

ওবাদুল কাদের ও আরাফাত   © সংগৃহীত

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সংঘর্ষের ছবি বা ভিডিও প্রচার করলে টেলিভিশন চ্যানেল বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। এ-সংক্রান্ত একটি ফোনালাপে সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এ আরাফাতকে বলতে শোনা যায়, ‘আজকে যদি কোনো সংঘর্ষের মারামারির ভিডিও ফুটেজ বা ছবি দেখায়, ওদের এনিমি অফ দ্য স্টেট হিসেবে ডিক্লেয়ার করা হবে এবং সারা জীবনের জন্য বন্ধ করে দেব।’ সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ও মোহাম্মদ এ আরাফাতের ওই ফোনালাপের রেকর্ড আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করেছে প্রসিকিউশন।

সোমবার (১০ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় চতুর্থ দিনের মতো যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় প্রসিকিউশন এই কল রেকর্ডটি পেশ করে।

বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল বেঞ্চে মামলাটির শুনানি ও যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়। শুনানিতে ওবায়দুল কাদের ও তৎকালীন তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এ আরাফাতের মধ্যে হওয়া টেলিভিশন চ্যানেল বন্ধের হুমকি-সংক্রান্ত ফোনালাপটি বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করা হয়।

ফোনালাপে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এই যে যারা কথা শোনে না, টিভি চ্যানেলের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা...’

জবাবে আরাফাত বলেন, ‘ওই যে অফ করে দিছি গতকাল দুই একটা। আজকেও বলে রাখছি যেগুলো শুনবেন না অফ করে দিতে সাথে সাথে।’

এরপর ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আজকে যেন কোনো সংঘাতের খবর না দেয়।’

জবাবে আরাফাত বলেন, ‘আজকে ওদেরকে বলছি যে, আজকে যদি কোনো সংঘর্ষের মারামারির ভিডিও ফুটেজ বা ছবি দেখায়, ওদের এনিমি অফ দ্য স্টেট হিসেবে ডিক্লেয়ার করা হবে এবং সারা জীবনের জন্য বন্ধ করে দেব......। আর ওই যে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটে বসা রাখছি যে, আপনি কন্সট্যান্টলি দেখবেন যে, টিভি সংঘর্ষের ছবি দেখাবে সাথে সাথে অফ করে দেবেন। আমার কোন পারমিশনের জন্য মেসেজ পাঠাবেন না আপনাকে ঢালাও পারমিশন দিয়ে রাখলাম আর উইদাউট মাই পারমিশন এটা অন করবেন না, আর এই ব্যবস্থা নিয়ে রাখছি কাদের ভাই।’

প্রসিকিউশন জানিয়েছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সরকারের নির্দেশ না মানলে টেলিভিশন চ্যানেল বন্ধ করে দেওয়ার হুমকির বিষয়টি ওই ফোনালাপে উঠে এসেছে। মামলায় এটি প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, এই মামলায় ওবায়দুল কাদের ছাড়াও অভিযুক্ত অন্য আসামিরা হলেন—আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এ আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল এবং ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।