শিক্ষামন্ত্রীকে নিয়ে পাটোয়ারীর পোস্ট করা ছবিটি ২০২৩ সালের একটি টকশোর
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ. ন. ম. এহছানুল হক মিলনকে নিয়ে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরউদ্দীন পাটওয়ারীর ফেসবুক অ্যাকাউন্টে পোস্ট করা ছবিটি বর্তমান সময়ের নয়। ছবিটি ২০২৩ সালের সময় টিভিতে প্রচারিত ‘গণতন্ত্র ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতি’ শীর্ষক একটি টকশো শুরুর আগে তোলা হয়েছে।
এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ফ্যাক্টচেক প্রতিষ্ঠান ‘দ্য ডিসেন্ট’।
আজ ‘দ্য ডিসেন্টে’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়, রবিবার (৯ আগস্ট) এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরউদ্দীন পাটওয়ারী তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি ছবি পোস্ট করেছেন। ছবির ক্যাপশনে লেখা ছিল, ‘‘শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর বিশেষ বৈঠক।’’
ছবিতে দেখা যায়, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান, বর্তমান বিএনপি সরকারের শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন এবং ইউএনবির উপদেষ্টা সম্পাদক ফরিদ হোসেন একটি কক্ষে বসে আছেন।
ছবিটি যাচাই করে দেখা গেছে, এটি মূলত ২০২৩ সালের ৫ এপ্রিল সময় টিভিতে প্রচারিত ‘গণতন্ত্র ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতি’ শীর্ষক একটি টকশো শুরুর আগের সময়ের।
পাটওয়ারীর পোস্ট করা ছবির টাইমলাইন অনুযায়ী, ছবিটি ২০২৩ সালের ৫ এপ্রিল রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে তোলা হয়। অন্যদিকে, সময় টিভিতে ওই সম্পাদকীয় টকশোর সরাসরি সম্প্রচার শুরু হয় রাত ১০টায়। অর্থাৎ, ছবিটি টকশো শুরুর প্রায় ১৫ মিনিট আগে ধারণ করা হয়েছিল।
তাছাড়া পাটওয়ারীর পোস্ট করা ছবিতে থাকা তিনজন যে ধরন ও রঙের পোশাক পরিহিত ছিল, টকশোতেও তাদের একই পোশাক দেখা যায়।
এদিকে আগের টকশোর ছবি ছড়িয়ে ভিন্ন প্রেক্ষাপটে উপস্থাপন করে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি ও অপপ্রচার চালানোর অভিযোগে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ড. আ. ন. ম. এহছানুল হক মিলন মিডিয়া সেল।
নিন্দা বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ছবিটি ২০২৩ সালের ৪ মে, সময় টেলিভিশনের ‘রাতের টকশোর পূর্বে ’-একটি পুরোনো ছবি। অথচ সেই ছবিকে ভিন্ন প্রেক্ষাপটে উপস্থাপন করে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি ও অপপ্রচার চালানোর চেষ্টা করছে একটি স্বার্থান্বেষী মহল। দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসনামলেও ড. আ. ন. ম. এহছানুল হক মিলনের প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর কখনো স্তব্ধ করা যায়নি। তিনি নিয়মিতভাবে ফ্যাসিবাদী অপশাসনের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন এবং গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার পক্ষে সোচ্চার ছিলেন।’
আরো বলা হয়, ‘দেশের উন্নয়ন, বিশেষ করে শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন ও সংস্কারের যে প্রচেষ্টা চলছে, তা বাধাগ্রস্ত করতেই একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গুজব ও অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। পুরোনো ছবি ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে জনমনে অস্থিরতা তৈরির এই অপচেষ্টা কোনোভাবেই কাম্য নয়। পুরোনো একটি ছবিকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে বিভ্রান্তি ছড়ানোর এই অপচেষ্টার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। গুজব নয়—সত্য ও তথ্যের ভিত্তিতেই কথা হোক। অপপ্রচার নয়—দেশ ও শিক্ষার উন্নয়নে সবাই ইতিবাচক ভূমিকা রাখুন।’