জামায়াত আমিরের বাসায় প্রদর্শনীতে জিয়ার অনুপস্থিতি নিয়ে রিজভীর প্রশ্ন
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমিরের সরকারি বাসভবনে আয়োজিত চিত্র প্রদর্শনীতে শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ, মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই আন্দোলনের বিভিন্ন চিত্র থাকলেও স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানের কোনো ছবি, বক্তব্য বা পোস্টার না থাকার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
আজ শনিবার (৮ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) সাদা দল ও ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইউট্যাব) যৌথ আয়েজনে ‘ফ্যাসিস্ট সরকার পতনে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
রিজভী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণার প্রশ্নটি ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সেখানে সেই অধ্যায়ের অনুপস্থিতি রাজনৈতিকভাবে নানা প্রশ্নের জন্ম দেয়। চিত্র প্রদর্শনীতে শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ, মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন চিত্র এবং জুলাই আন্দোলনের ছবি রয়েছে। কিন্তু জিয়াউর রহমানের কোনো ছবি, বক্তব্য বা পোস্টার রাখা হয়নি।
বিএনপির এই নেতা বলেন, এটি নিছক একটি বাদ পড়া ঘটনা নয়; এর রাজনৈতিক তাৎপর্য রয়েছে। বিষয়টি নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ ও ভবিষ্যৎ অবস্থান নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি করছে।
তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক কিছু বক্তব্য ও রাজনৈতিক তৎপরতার সঙ্গে এ ঘটনার কোনো সম্পর্ক আছে কি না, সেটিও আলোচনার দাবি রাখে।
বিএনপি নেতা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ ও ভয়ের সংস্কৃতির মধ্যে পরিচালিত হয়েছে। তার দাবি, ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যগত স্বায়ত্তশাসন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ভিন্নমত পোষণকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের চাপ, হয়রানি ও শাস্তির মুখে পড়তে হয়েছে।
জুলাই আন্দোলন প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, এটি শুধু শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ছিল না; ছাত্র, শিক্ষক, শ্রমিক, সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তির অংশগ্রহণে এটি একটি গণ-আন্দোলনে রূপ নেয়। বিএনপি শুরু থেকেই আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়েছে এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আন্দোলনের কর্মসূচিগুলোকে সমর্থন ও সমন্বয়ের নির্দেশনা দিয়েছেন।
এদিকে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে একটি আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভার্চ্যুয়াল বক্তব্য দেওয়ার সম্ভাবনার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন রিজভী। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সরকার এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছে। তবে ভারতের অবস্থান জনমনে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক সার্বভৌমত্ব, পারস্পরিক সম্মান ও সমতার ভিত্তিতে হওয়া উচিত। গণহত্যা ও দমন-পীড়নের অভিযোগে অভিযুক্ত একজন পলাতক নেতাকে আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম দেওয়ার চেষ্টা উদ্বেগজনক।