যে কারণে মাথায় হেলমেট পরে ঢাকা আলিয়ায়, ব্যাখ্যা দিলেন নয়ন
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সদস্যসচিব ও কেন্দ্রীয় যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম নয়ন ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার সামনে মাথায় হেলমেট পরে অবস্থান নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি সমালোচনার জবাব দেন এবং ওই দিনের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন।
ফেসবুক পোস্টে রবিউল ইসলাম নয়ন বলেন, ‘২৪-এর ৫ আগস্টের পর থেকে একটি স্বার্থান্বেষী ও সুবিধাবাদী গোষ্ঠী দ্বারা প্রতিনিয়ত সমালোচনার শিকার হচ্ছি। কখনও কখনও সমালোচনার স্রোত সর্বোচ্চ সীমানা অতিক্রান্ত করে যাচ্ছে। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। ভালো কাজের প্রশংসা হবে, খারাপ কাজের যৌক্তিক সমালোচনা হবে, হওয়া উচিতও। তবে অযৌক্তিক সমালোচনা কখনো কাম্য নয়। এটা একটি নিকৃষ্টতম কাজ যা নিকৃষ্ট চিন্তার মানুষরাই করে।’
তিনি বলেন, ‘এই সমালোচনাকারীরা একটা সময় আওয়ামী লীগের সাথে তাল মিলিয়ে চলত। এরপর ২৪-এর ৫ আগস্টের পর ইউনূস সরকারের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে ধান্দাবাজী করতো, কেউ কেউ বড় পদও বাগিয়ে নিয়েছিল। আবার বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর দেখি এরা বড় বিএনপি হয়ে গেছে। আপনারা ধান্দাবাজী করে চলছেন চলতে থাকেন, আমার সমস্যা নেই কারণ ওটা আপনাদের স্বভাব। কিন্তু দয়াকরে রাজপথের আন্দোলন ও সংগ্রাম নিয়ে কথা বলবেন না। এটা রাজপথে যারা আন্দোলন সংগ্রাম করেন তাদের কাজ। রাজপথের যোদ্ধাদের কাজে আপনাদের কাটা নাক গলাবেন না।’
ছাত্রদলের পাশে দাঁড়ানোর কারণ ব্যাখ্যা করে নয়ন বলেন, ‘এবার আপনাদের অভিযোগ, গতকাল শিবিরকে প্রতিহত করার সময় আমি কেন ছাত্রদলের পাশে দাঁড়িয়েছি। তবে শোনেন বলি- আমি দীর্ঘ সময় ছাত্রদল করে এসেছি। যারা এখন ছাত্রদল করে সবাই আমার ভাই। আমার ভাইদের শিবির আক্রমণ করবে, পিটিয়ে হল থেকে বের করে দিবে সেটা আমি মেনে নিবো কীভাবে? আপনারা তো 'সুবিধাবাদ জিন্দাবাদ' পার্টি করেন, ছাত্রদলের প্রতি কোনো সহানুভূতি থাকার কথা নয়। কিন্তু আমার তো আছে। থাকবেও..’
হাতে লাঠি ও মাথায় হেলমেট পরার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আরেকটি অভিযোগ হলো- ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার সময় আমি কেন হাতে লাঠি ও মাথায় হেলমেট পরেছিলাম। বলি আপনারা তো রাজপথে কখনো আন্দোলন সংগ্রাম করেননি, কীভাবে আন্দোলনের রণকৌশল বুঝবেন? নাকি আপনারা আফসোস করছেন রবিউল ইসলাম নয়নের মাথায় এই হেলমেট থাকার কারণে শিবির গু'লি করে অথবা পাথর ছুড়ে মেরে ফেলতে পারেনি। হয়তো আপনাদের মনের বাসনা পূর্ণ হয়নি বলে ক্ষোভ থেকে আমার সমালোচনায় মেতে উঠেছেন।’
সমালোচনাকারীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, ‘যারা সমালোচনা করছেন প্রত্যেকের ফেসবুক ঘেঁটে দেখলাম। স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের সময় থেকে এখন পর্যন্ত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ কিংবা এখনকার শিবিরের নৃশংসতা- কোনো বিষয়ে কোন পোস্ট নেই। আওয়ামী লীগের সময় শেখ হাসিনা, অন্তবর্তী সরকারের সময় ইউনূস আর এখন দেখি বিএনপি সরকারের চাটুকারিতা করছেন কৃপা পাওয়ার আশায়।’
সাম্প্রতিক সংঘর্ষে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ তুলে নয়ন বলেন, ‘হ্যাঁ, সমালোচনাকারীদের আরেকটি বিষয় জানিয়ে রাখি। আমি নিশ্চিত, তারা আমার মাথায় হেলমেট আর হাতে লাঠি ছাড়া অন্য কিছু দেখেনি। অন্য কোনো খবর তারা জানেও না। গতকাল শিবির সরকারি মাদ্রাসা-ই- আলিয়া ছাত্রদলের সানাউল্লাহ, রুবেল হোসেন মোমেন, আবুসালে হিরোণ, ফাহাদ, তাসনিম আলম, জাহিদ রহমান জয়নাল, সাদ চৌধুরী, মারুফ বিল্লাহ, হাসান হাওলাদর, জহিরুল ইসলাম, রাজ্জাক, ইউসুফ, শাওন, সাজ্জাদ, মুস্তাকিম, বিল্লাল হোসেন জামিল, তানভীর ইসলাম, সিরাজুল ইসলামকে পিটিয়ে জখম করে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এছাড়া দ্বিতীয় দফার হামলায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদলের সভাপতি শামিম মাহমুদ, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রফিক, লালবাগ থানা ছাত্রদলের সদস্য সচিব নেসার হোসেন রাব্বি সহ প্রায় অর্ধ শতাধিক ছাত্রদলের নেতা কর্মীকে পিটিয়ে আহত করে।’
পরিশেষে বলতে চাই. ‘আমার প্রিয় ও স্নেহের ছাত্রদলের ছেলেদের শিবির পিটিয়ে জখম করবে, আহত করবে, আর আমি আপনাদের মতো কফির কাপ হাতে নিয়ে টিভির সামনে চুপ করে দেখব তা তো হতে পারে না। রবিউল ইসলাম নয়ন ইটের জবাব পাটকেল দিয়ে দিতে জানে ও পারে। আপনারা যেমন কলা খাচ্ছেন, কলা খান আর 'সুবিধাবাদ জিন্দাবাদ' বলতে থাকেন।’