০৫ আগস্ট ২০২৬, ১৬:২৬

গণভোটের দাবি থেকে সরে আসতে আমাদেরকে লোভ দেখানো হয়েছে- বিরোধীদলীয় নেতা

১১ দলীয় ঐক্যের গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াত আমীর  © সংগৃহীত

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘গণভোটের দাবি থেকে সরে আসতে আমাদেরকে লোভ দেখানো হয়েছে, চাপও দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু কোনো লোভ কিংবা চাপ আমাদেরকে জনগণের গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের দাবি থেকে একচুলও সরাতে পারবে না। প্রয়োজনে জীবন যাবে তবুও জনগণের সাথে সরকারের মতো বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারব না, করবও না।’

আজ বুধবার (৫ আগস্ট) জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন ও জুলাই গণহত্যায় জড়িতদের বিচারের দাবিতে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেইটে ১১ দলীয় ঐক্যের গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, আজকের প্রধানমন্ত্রী নিজেও নির্বাচনের আগে সংস্কারের পক্ষে দেশবাসীকে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। কিন্তু ক্ষমতা গ্রহণের দিনেই বিএনপির চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রীসহ তাঁর দলের সকল সংসদ সদস্য জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকা করেছে। তাঁরা গণভোটের রায় মেনে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণ করেননি। এর মাধ্যমে তারা শুধু জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকাই করেননি, তাঁরা জাতির সঙ্গে ধোঁকাবাজিও করেছেন।  

তিনি আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনের নেতৃত্বের ক্রেডিট তরুণ প্রজন্মের। দেশবাসীর জীবন ও রক্তের ফসল হচ্ছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান। এই আন্দোলনে একক কোনো ব্যক্তি বা দল মাস্টারমাইন্ড দাবি করলে জাতি সেটি মানবে না, বরং ঘৃণার সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করবে। তিনি আরও বলেন, আমরা জুলাই যোদ্ধাদের বিভাজন চাই না। তাদেরকে নিয়ে রাজনীতি করা পছন্দ করি না। এখনো হাসপাতালে জুলাই যোদ্ধারা কাতরাচ্ছে, ঘরে বিছানায় পড়ে কাতরাচ্ছে কিন্তু তাদের দিকে সরকার তাকাচ্ছে না। শহীদ পরিবারের দায়িত্ব ও আহতদের পুনর্বাসন করা রাষ্ট্রের কর্তব্য। কিন্তু সরকার সেই কর্তব্য পালনের পরিবর্তে ভিন্ন পথে হাঁটছে। তিনি আরও বলেন, সরকার বলছেন, মাত্র ৫ মাসে আমরা (বিরোধী দল) এতো ব্যস্ত হলাম কেন? আমি তাদের পাল্টা প্রশ্ন করবো, মাত্র ৫ মাসে আপনারা এত বিশ্বাসঘাতকতা করলেন কেন? কেন ফ্যাসিবাদের ফটোকপি হিসেবে আবির্ভূত হলেন? এজন্যই আরেকটি বিপ্লব অনিবার্য। 

তিনি সরকারের উদ্দেশে বলেন, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই হবে আপসহীন, তীব্র এবং বিজয় ছিনিয়ে আনার। জনগণের অধিকার হরণ হলেই অগ্নিগিরি হয়ে আমরা জ্বলে উঠব। 

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর আল্লামা মামুনুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত গণসমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- এলডিপির চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, জাতীয় নাগরিক পার্টির মূখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, আমার বাংলাদেশ পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমেদ প্রমুখ।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দিন মানিকের যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠিত গণসমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসেন মিয়াজী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মোহাম্মদ ফয়সাল, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ইকবাল হোসাইন, আমার বাংলাদেশ পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত উল্লাহ টুটুল, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির মহাসচিব নিজামুল হক নাঈম, বাংলাদেশ লেবার পার্টির মুখপাত্র নাজমুল ইসলাম তালুকদার প্রমুখ। 

এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর আব্দুস সবুর ফকির এবং এডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি দেলাওয়ার হোসেন, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মোহাম্মদ কামাল হোসেন এমপি, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীন এমপি, মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য হাফেজ রাশেদুল ইসলাম এমপি। এছাড়াও ১১ দলীয় ঐক্যের কেন্দ্রীয় ও মহানগরীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।