০৩ আগস্ট ২০২৬, ১১:১৩

৫ আগস্ট সেনাসদরের বৈঠকে কী হয়েছিল, জানালেন মির্জা ফখরুল

বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর  © সংগৃহীত

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দিন সেনাসদরে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে জাতীয় সরকারের প্রস্তাব উঠেছিল বলে জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তবে বিএনপি সেখানে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষে অবস্থান নেয় বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে সেদিনের ঘটনাপ্রবাহ, সেনাপ্রধানের ভূমিকা এবং বঙ্গভবনের আলোচনার নানা দিক নিয়ে দেশের একটি শীর্ষ স্থানীয় গণমাধ্যমে একান্ত সাক্ষাৎকারে কথা বলেন মির্জা ফখরুল আলমগীর। 

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সকালে তিনি বাসায় ছিলেন। এর আগে থেকেই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিএনপির যোগাযোগ ছিল। সকাল ১১টার দিকে অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল ফজলে এলাহি আকবর তাকে জানান, সেনাপ্রধান ফোন করবেন। পরে সেনাপ্রধান ফোন করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করতে চান। এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করতে চান তিনি। রাস্তায় মানুষের ঢল থাকায় সেনাপ্রধান তার জন্য গাড়ি পাঠান। বৈঠকে যাওয়ার আগে তিনি লন্ডনে থাকা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনা করে দলের অবস্থান ঠিক করেন।

সেনাসদরে গিয়ে তিনি দেখেন, তিন বাহিনীর প্রধান, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের, আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, মুজিবুল হক চুন্নু, জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান, হামিদুর রহমান আজাদ, মাহমুদুর রহমান মান্না, জোনায়েদ সাকি, মাওলানা মামুনুল হকসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তবে তখন পর্যন্ত ছাত্রনেতাদের কেউ সেখানে ছিলেন না।

মির্জা ফখরুল বলেন, বৈঠকে জাতীয় সরকার গঠনের আলোচনা উঠেছিল। তবে বিএনপি আগেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তারা জাতীয় সরকারের অংশ হবে না। তারা অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষে মত দেয়। কে জাতীয় সরকারের প্রস্তাব তুলেছিলেন, তা স্পষ্ট মনে নেই। তবে মাহমুদুর রহমান মান্না বা অন্য কেউ বিষয়টি উত্থাপন করে থাকতে পারেন।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার পরই সেনাপ্রধান জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে অন্তর্বর্তী সরকারের কথা বলেন। সেনাপ্রধান রাজনৈতিক নেতাদেরও সঙ্গে রাখতে চাইলেও বিএনপি তাতে রাজি হয়নি। তারা মনে করেছিল, ওই মুহূর্তে সেনাপ্রধানের একাই বক্তব্য দেওয়া উচিত।

আরও পড়ুন: এক দফা দাবি ও অসহযোগ আন্দোলনের ঘোষণা দেন বৈষম্যবিরোধী নেতারা

সেনাবাহিনীর ভূমিকা প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, সেনাপ্রধান অত্যন্ত সক্রিয় ছিলেন। তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করে সবাইকে একত্র করেছিলেন এবং সংকটের রাজনৈতিক সমাধান চেয়েছিলেন। বৈঠকের একপর্যায়ে সেনাপ্রধান জানান, শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে চলে গেছেন। সেই মুহূর্তটি তাদের কাছে অলৌকিক ঘটনার মতো মনে হয়েছিল। কারণ, ১৭ বছরের আন্দোলনের পর এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল।

পরে সবাই বঙ্গভবনের উদ্দেশে রওনা হন। কিন্তু মানুষের ঢলের কারণে সেখানে পৌঁছাতে প্রায় তিন ঘণ্টা সময় লাগে। ক্যান্টনমেন্টের গেট থেকে গাড়ি বের করা কঠিন হয়ে পড়ে। এ সময় রাস্তার পাশে ড্রামের ওপর দাঁড়িয়ে মাহমুদুর রহমান মান্না, মির্জা ফখরুল ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান জনগণকে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানান এবং জানান তারা বঙ্গভবনে যাচ্ছেন।

বঙ্গভবনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, তিন বাহিনীর প্রধান, ডিজিএফআই ও এনএসআইয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে আলোচনার শুরুতেই বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি তোলেন মির্জা ফখরুল। সেনাপ্রধান এতে সম্মতি জানান। রাষ্ট্রপতিও বলেন, সবাই একমত হলে তিনি এ বিষয়ে আপত্তি করবেন না।

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনায় অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নাম প্রস্তাব করেন ছাত্রনেতারা। কোনো রাজনৈতিক দল থেকে তার নাম প্রস্তাব করা হয়নি।