‘ফ্যাসিবাদের শুধু নাম বদলেছে, চরিত্র একই আছে’: মিয়া গোলাম পরওয়ার
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ‘ফ্যাসিবাদের শুধুমাত্র নাম বদলিয়েছে চরিত্র একই আছে। নব্য ফ্যাসিবাদ কায়েম করার জন্য বিএনপি গনভোট ও জুলাই সনদ নিয়ে তালবাহানা শুরু করেছে। মুখে মুখে তারা জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কথা বললেও তার কোন বাস্তবায়ন নেই।’
শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিকালে যশোরের জেলা পরিষদ মিলনায়তনে ‘২০২৪ এর গণঅভ্যুত্থান: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘দেশের ৭০ ভাগ মানুষ গণভোটের পক্ষে রায় দিয়েছে। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে জামায়াত ইসলামী বৃহত্তর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে বলেন মন্তব্য করেন’।
আলোচনা সভার আয়োজন করেন ১১ দলীয় ঐক্য, যশোর জেলা শাখা। জামায়াতে ইসলামীর যশোর জেলা আমীর অধ্যাপক গোলাম রসুল এমপির সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য রাখেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চল পরিচালক মো. মোবারক হোসাইন এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এ.এস.এম শাহরিয়ার কবীর। অনুষ্ঠানে সঞ্চলনা করেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ আবু জাফর সিদ্দিকী।
গোলামা পরওয়ার বলেন, জুলাই আন্দোলনের প্রত্যাশা ছিলো কোন বৈষম্য থাকবে না; ফ্যাসিবাদের চির কবর হবে এবং দুর্নীতিমুক্ত, দলীয়করণমুক্ত, বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ হবে। যার প্রেক্ষিতে জুলাই আন্দোলনে কোন দল নয়, ব্যক্তি নয় সর্বজনীনভাবে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ আন্দোলনে অংশ নেন। কিন্তু বিএনপি সংবিধানের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তন করতে চায় না।
বিএনপি তার ফ্যাসিবাদী চিন্তা বাস্তবায়ন করার জন্য সেইসময়ে শেখ হাসিনার পুতুল রাষ্ট্রপতিকে টিকিয়ে রাখেন। সেইসময়ে বিপ্লবী সরকার গঠন হলে নতুন করে কেউ ফ্যাসিবাদের পথে যাওয়ার সুযোগ পেতন না।
তিনি আরো বলেন, জুলাই আন্দোলনে অন্তত ১৫ থেকে ২০ হাজার শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। কারো চোখ নেই, কারো হাত নেই, কারো পা নেই। কেউ গুলিবিদ্ধ দুর্বিসহ জীবনযাপন করছে। এদের কারো উদ্দেশ্যে ছিলো না রাষ্ট্রক্ষমতায় যাওয়া। আজ তাদের রক্তের বিনিময়ে দেশ উদ্বার হয়েছে। তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায়। অথচ সেই কমলমতি শিক্ষার্থীদের রক্তের সাথে বেইমানি করা হচ্ছে।