২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪:০৪

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গড়িমসি হলে সরকার ও সংসদের বৈধতাই প্রশ্নবিদ্ধ হবে: নাজিবুর রহমান এমপি

‘বাংলাদেশ আফটার দ্য জুলাই রেভল্যুশন: মিডিয়া’স রোল ইন রিবিল্ডিং দ্য স্টেট অ্যান্ড ডেমোক্রেসি’ শীর্ষক নীতি সংলাপে কথা বলছেন সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন  © টিডিসি ফটো

জুলাই অভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যে গৃহীত ‘জুলাই সনদ’ দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন বলেছেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে কালক্ষেপণ করা হলে বর্তমান সরকার ও সংসদের বৈধতাই প্রশ্নের মুখে পড়বে। একই সঙ্গে তিনি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, বিচার বিভাগ ও গণমাধ্যমে সংস্কার কার্যক্রমে দৃশ্যমান অগ্রগতির দাবি জানান।

আজ বুধবার (২৯ জুলাই) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে কমিউনিকেশন অ্যান্ড রিসার্চ ফাউন্ডেশন (সিআরএফ) আয়োজিত ‘বাংলাদেশ আফটার দ্য জুলাই রেভল্যুশন: মিডিয়া’স রোল ইন রিবিল্ডিং দ্য স্টেট অ্যান্ড ডেমোক্রেসি’ শীর্ষক নীতি সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন।

ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পর সব রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে ‘জুলাই সনদ’ প্রণয়ন করা হয়েছিল এবং জনগণও এর প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। তাই এই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা বা অযথা বিলম্ব সৃষ্টি হলে তা কেবল রাজনৈতিক সংকটই নয়, বর্তমান রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করবে।

তিনি অভিযোগ করেন, সংস্কারের নামে নতুন করে আলোচনা শুরু করে সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে। অথচ জনগণ জানতে চায়, কবে সনদ বাস্তবায়িত হবে এবং কবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সুস্পষ্ট রোডম্যাপ ছাড়া অনিশ্চয়তা আরও বাড়বে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরপেক্ষতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন নাজিবুর রহমান। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণের অভিযোগ উঠছে। পাশাপাশি বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে পৃথক সচিবালয় গঠনের মতো দীর্ঘদিনের সংস্কারও বাস্তবায়িত হয়নি।

গণমাধ্যম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অতীতে ফ্যাসিবাদকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে গণমাধ্যমের একটি অংশ বিতর্কিত ভূমিকা পালন করেছে। এখনও মালিকানার রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক প্রভাবের কারণে অনেক গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে না। এ কারণে মালিকপক্ষের প্রভাব কমিয়ে স্বাধীন ও জবাবদিহিমূলক গণমাধ্যম গড়ে তুলতে সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রয়োজন বলে তিনি মত দেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনে সোশ্যাল মিডিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ডিপফেক প্রযুক্তির মাধ্যমে অপতথ্য ছড়িয়ে পড়ছে। এটি মোকাবিলায় আইনি ব্যবস্থা প্রয়োজন, তবে সেই আইন যেন মতপ্রকাশের স্বাধীনতা দমনের হাতিয়ার না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে কোনো ধরনের আপস বা সমঝোতার সুযোগ নেই। বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের জন্য জুলাই সনদের প্রতিটি অঙ্গীকার দ্রুত বাস্তবায়নে সরকার, রাজনৈতিক দল এবং গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।