২৯ জুলাই ২০২৬, ০৭:৫৫

আজ সারা দেশে বিক্ষোভ করবে এনসিপি

জাতীয় নাগরিক পার্টি লোগো  © সংগৃহীত

হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পদযাত্রা কর্মসূচিতে কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহরে হামলার প্রতিবাদে আজ বুধবার সারা দেশে বিক্ষোভ সমাবেশ করবে এনসিপি। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাতে দলের জরুরি সাংগঠনিক নির্দেশনায় এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

দলের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত নির্দেশনায় বলা হয়, হবিগঞ্জে এনসিপির শান্তিপূর্ণ পদযাত্রায় মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমের গাড়িবহরে বিএনপির সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে বুধবার সারা দেশে দলীয় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হবে।

নির্দেশনায় এনসিপির সব মহানগর, জেলা, উপজেলা ও থানা শাখাকে নিজ নিজ এলাকায় প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সমাবেশ আয়োজনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কর্মসূচি সফল ও সুশৃঙ্খলভাবে বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া এবং নেতা-কর্মীদের যথাসময়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে হবিগঞ্জে ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি শেষে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহরে হামলা ও নেতা-কর্মীদের মারধরের ঘটনা ঘটে। এ হামলার জন্য ক্ষমতাসীন বিএনপিকে দায়ী করেছে এনসিপি। পরে সন্ধ্যায় শহরে এনসিপি প্রতিবাদ মিছিল বের করলে আরেক দফা সংঘর্ষ হয়। এসব ঘটনায় এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমসহ বেশ কয়েকজন আহত হন।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটার দিকে হবিগঞ্জ টাউন হলের সামনে এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা অংশ নেন। সমাবেশ শেষে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর গাড়িবহর সার্কিট হাউসের উদ্দেশে রওনা হলে স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় তার গাড়ি লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। চালক দ্রুতগতিতে গাড়ি চালিয়ে সার্কিট হাউসে পৌঁছে যান।

কিছুক্ষণ পর পেছনে থাকা সারজিস আলমের গাড়িকেও ধাওয়া করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। পরে তার গাড়ি শহরের সোনালী ব্যাংক ভবনে আশ্রয় নেয়। খবর পেয়ে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা ভবনটি ঘেরাও করে বিক্ষোভ শুরু করেন। রাত আটটার দিকে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে সারজিস আলমকে উদ্ধার করে সার্কিট হাউসে নিয়ে যায়।

এনসিপির নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, পুলিশের উপস্থিতিতেই হামলাকারীরা তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। একপর্যায়ে এনসিপির মিডিয়া টিম বহনকারী একটি মাইক্রোবাস সার্কিট হাউসে প্রবেশ করলে হামলাকারীরা সেখানে ঢুকে গাড়ি ভাঙচুর করে। এ সময় সাংবাদিকদের মুঠোফোন ও ক্যামেরাও ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

ঘটনার পর ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করেন, হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের একদল নেতা-কর্মী হকিস্টিক, রামদা, চেইনসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছে। তিনি দাবি করেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ ও র‍্যাব উপস্থিত থাকলেও তারা কার্যকর কোনো ভূমিকা নেয়নি। হামলায় তাদের মিডিয়া টিমের সদস্য, চালক ও স্থানীয় নেতা-কর্মীরা গুরুতর আহত হয়েছেন। কারও হাত-পা ভেঙে গেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এদিকে হামলার খবর পেয়ে প্রতিরোধ করতে গেলে এনসিপি ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া শুরু হয়। এতে অন্তত ১৫ জন আহত হন। সংঘর্ষের সময় শহরের প্রধান সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। 

তবে হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান বলেন, এনসিপি নেতারা সমাবেশে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন। সেই বক্তব্যের কারণে নেতা-কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটে বলে দাবি করেন তিনি।