২৮ জুলাই ২০২৬, ১৫:০২

জামায়াত এমপির বাড়ি ঘেরাও, ‘ভাঙচুর’—পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

যশোর জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক গোলাম রসুলের বাড়ি ঘেরাও, হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ  © টিডিসি ফটো

যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক গোলাম রসুলের যশোর শহরের বাসভবন ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয়রা। এ সময় বিক্ষোভকারীরা যশোর-নড়াইল মহাসড়ক অবরোধ করেন। পাশাপাশি এমপির বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগও উঠেছে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনার পর মব সৃষ্টিসহ পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছে উভয় পক্ষ।

বিক্ষোভকারীদের দাবি, বিরোধপূর্ণ মাদ্রাসা বন্ধ রাখতে বলেছিলেন এমপি। এ ছাড়া তার মেয়ে দুজনকে মারধর করেছেন বলেও অভিযোগ তুলেছেন তারা। তবে এমপির পরিবার ও জামায়াত অভিযোগ অস্বীকার করে বলছে, ‘মেয়েটি সিজোফ্রেনিয়া নামক মানসিক রোগে আক্রান্ত। তার বিরুদ্ধে মব উস্কে দেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়েছে।’ এতে বিএনপির ইন্ধন রয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, যশোর শহরের নীলগঞ্জ এলাকার আল মাদ্রাসাতুশ শারইয়াহ ও সংশ্লিষ্ট মসজিদকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে জেলা জামায়াতের আমিরের পরিবার এবং স্থানীয়দের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। এ বিরোধের জেরে সোমবার (২৭ জুলাই) সকালে সংসদ সদস্য গোলাম রসুল ও তার মেয়ে অনন্যার বিরুদ্ধে মাদ্রাসার শিশু শিক্ষার্থী আয়ান এবং রেক্সোনা নামে এক নারীর ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। জানা যায়, পূর্বের বিরোধ মীমাংসার জন্য সোমবার রাতে দুই পক্ষের মধ্যে বৈঠকও হয়।

মঙ্গলবার সকালে মাদ্রাসা খোলার পর গোলাম রসুল সেটি বন্ধ রাখতে বলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। সকাল ১১টার দিকে তারা একত্রিত হয়ে এমপির বাড়ির সামনে অবস্থান নেন এবং বিক্ষোভ শুরু করেন। বিক্ষোভকারীদের দাবি, মাদ্রাসাটি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। তাদের অভিযোগ, মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে গোলাম রসুল ও তাঁর মেয়ে দীর্ঘদিন ধরে খারাপ আচরণ করে আসছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিক্ষোভ চলাকালে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বিষয়টি মীমাংসার উদ্দেশ্যে গোলাম রসুলের এক স্বজন ঘটনাস্থলে এলে বিক্ষুব্ধ জনতার একাংশ তাঁর ওপর চড়াও হয়। এ সময় তাঁকে মারধরের ঘটনাও ঘটে। পরে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বিক্ষোভকারীরা যশোর-নড়াইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। তারা এমপি গোলাম রসুল ও তাঁর মেয়ের বিচারের দাবিতে সড়কে অবস্থান নেন।

যশোর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুম খান বলেন, ‘দুই পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে অবস্থান করছেন এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।’

এ বিষয়ে যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম রসুলের স্ত্রী শারমিন ভিনা বলেন, তাদের মেয়ে মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। মাদ্রাসা বন্ধ থাকলেও সেখানে শিশুরা বিভিন্ন সময় এসে গোলযোগ সৃষ্টি করে। এর প্রতিবাদ করেছিলেন তার মেয়ে অনন্যা। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাদের সঙ্গে স্থানীয়দের বিরোধ তৈরি হয়েছে। এখন অহেতুকভাবে তাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে মিথ্যা অভিযোগ আনা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

আরও পড়ুন: বিভাগের ৩ অ্যাকাউন্টের ২৪ লাখ টাকার হিসাব না দিয়ে অব্যাহতিপ্রাপ্ত রাবি অধ্যাপক ফিরলেন প্রোভিসি হয়ে

ঘটনার পর সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক গোলাম রসুল ফেসবুকে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় বলেন, ‘এলাকার এই মাদ্রাসাটিতে আড়াইশ থেকে তিনশ শিক্ষার্থী থাকায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভিড়ের কারণে সড়কটিতে সবসময় যানজট ও ভিড় থাকে। বিষয়টি নিয়ে কথা বলায় আমার মেয়েকে মারধর করা হয়েছে।’

এরপর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘আমি বলেছি, আমার মেয়ে মানসিকভাবে অসুস্থ। তারপরও তারা বিষয়টি বিবেচনায় নেয়নি। তারপরও আমি ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি। সবাইকে আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের আহ্বান জানাই।’

ঘটনার পর জামাতের মিডিয়া উইংয়ের ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট করা হয়েছে। সেখানে লেখা হয়েছে, ‘যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম রসুলের মেয়ে মেহজাবিন জান্নাত অনন্যা সিজোফ্রেনিয়া নামক মানসিক রোগে আক্রান্ত। তিনি ভারতের হায়দারাবাদসহ বাংলাদেশে বিভিন্ন মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে দীর্ঘদিন চিকিৎসা নিয়েছেন। একজন মানসিক রোগে আক্রান্ত নারীর বিরুদ্ধে মব উসকে দেওয়া হচ্ছে এবং তাঁর বাসায় হামলা চালানো হচ্ছে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের ইন্ধনে। পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়াজুড়ে চলছে টার্গেটেড অপপ্রচার।‘