২৬ জুলাই ২০২৬, ১৮:৩৩

হাইকমান্ডের দৃষ্টি আকর্ষণে যুবদলের পদবঞ্চিতদের মানববন্ধন গুলশানে

পদ-পদবী থেকে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ তুলে রাজধানীর গুলশানে মানববন্ধন করেছেন যুবদল ও ছাত্রদলের সাবেক নেতারা   © সংগৃহীত

দীর্ঘদিন দলের জন্য কাজ করেও সাংগঠনিক পদ-পদবী থেকে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ তুলে রাজধানীর গুলশানে মানববন্ধন করেছেন যুবদল ও ছাত্রদলের সাবেক নেতারা। গতকাল শনিবার বিকেল থেকে রাত ১১ টা পর্যন্ত গুলশান এলাকায় বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা। মানববন্ধনে বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সাবেক বহু নেতা-কর্মী অংশ নেন।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া নেতাদের দাবি, দলের কঠিন ও দুঃসময়ে তারা রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন। রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে অনেকেই হামলা, মামলা, গ্রেপ্তার, নির্যাতন ও কারাভোগের শিকার হয়েছেন। কেউ কেউ মাসের পর মাস কারাগারে থেকেছেন। তবুও দলের প্রতি আনুগত্য ও আদর্শ থেকে তারা কখনো সরে যাননি।

তাদের অভিযোগ, দীর্ঘ রাজনৈতিক ত্যাগ ও অবদানের পরও সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন সাংগঠনিক কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে তাদের মূল্যায়ন করা হয়নি। বরং অনেক ক্ষেত্রে যোগ্য ও ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে নতুন কিংবা কম সক্রিয় ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হয়েছে। এতে দীর্ঘদিন ধরে দলের জন্য কাজ করা নেতাদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা জানান, তাদের এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য দলের চেয়ারম্যানের দৃষ্টি আকর্ষণ করা। তারা আশা করছেন, দলের শীর্ষ নেতৃত্ব তাদের ত্যাগ, অবদান ও সাংগঠনিক অভিজ্ঞতাকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করবে এবং ভবিষ্যতে পদ-পদবী প্রদানের ক্ষেত্রে যোগ্যতা ও ত্যাগকে প্রাধান্য দেওয়া হবে।

এ সময় বেশ কয়েকজন সাবেক নেতা বক্তব্য দেন। তারা বলেন, বিএনপির সংকটকালীন সময়ে যারা রাজপথে সক্রিয় ছিলেন এবং দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন, তাদের মূল্যায়ন না করলে দলের সাংগঠনিক ভিত্তি দুর্বল হতে পারে। তৃণমূলের ত্যাগী নেতাদের যথাযথ সম্মান ও দায়িত্ব দিলে দল আরও শক্তিশালী হবে বলেও তারা মন্তব্য করেন।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া নেতারা আরও বলেন, তাদের এই কর্মসূচি কোনো ব্যক্তি বা নেতৃত্বের বিরুদ্ধে নয়। বরং দলের অভ্যন্তরে দীর্ঘদিনের বঞ্চনার বিষয়টি শান্তিপূর্ণভাবে তুলে ধরা এবং নেতৃত্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করাই তাদের একমাত্র লক্ষ্য। তারা আশা প্রকাশ করেন, দলের নীতিনির্ধারকরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবেন।

তবে এ বিষয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। 
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মানববন্ধনে অংশ নেওয়া নেতাদের দাবি ও বক্তব্য সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট মহল অবগত রয়েছে। ভবিষ্যতে বিষয়টি নিয়ে দলীয় ফোরামে আলোচনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অংশগ্রহণকারীরা কর্মসূচি শেষে জানান, তারা দলের প্রতি আস্থাশীল এবং ভবিষ্যতেও বিএনপির আদর্শ ও কর্মসূচির সঙ্গে থেকে কাজ করতে চান। তবে দীর্ঘদিনের ত্যাগ ও অবদানের যথাযথ স্বীকৃতি এবং সাংগঠনিক মূল্যায়নের প্রত্যাশা থেকেই তারা এই শান্তিপূর্ণ মানববন্ধনের আয়োজন করেছেন।

মানবন্ধনে উপস্থিত ছিলেন- ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলাম রফিক, সহ সভাপতি হুমায়ুন কবির, সহ সভাপতি সাজ্জাদ হোসেন উজ্জ্বল, যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক গ্রাম বিষয়ক সম্পাদক রিয়ন তালুকদার, মাহফুজুর রহমান মাহফুজ, সাবেক ছাত্রনেতা ইসমাইল খান শাহিন, ছাত্রদলের ঢাকা মহানগর উত্তরের সাবেক সহসভাপতি শরীফ হাফিজুর রহমান হাফিজ,  ছাত্রদলের সাবেক সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক পাটোয়ারী, যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান খান, ছাত্রদল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সহ সভাপতি শরীফ আল ফরহাদ দিপু, সাবেক যুবদল নেতা মাহমুদ খান, আনোয়ার জাহিদ, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক সহ সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আরিফ, সুমন চৌধুরী, সাবেক সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদ সরকার, সাবেক সহ সাংগঠনিক সম্পাদক সবুর খান সাগর, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রোকন, সাবেক বে-সরকারী বিষয়ক সম্পাদক ইয়াকুব রাজু, সাবেক জলবায়ু বিষয়ক সম্পাদক স্বপন কুমার মন্ডল, সাবেক সহ ক্রীড়া সম্পাদক রবিউল হাসান আরিফ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সহ সভাপতি নজরুল ইসলাম নাহিদ, বিশ্বজিৎ ভদ্র, সাবেক সদস্য মহিবুল্লাহ জয়, খলিলুর রহমান জনি, সাবেক ছাত্রনেতা সেলিম রেজা, ঢাবি জহুরুল হক হলের সিনিয়র সহ সভাপতি খসরু আহমেদ হিরন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা খন্দকার আমিনুল হক আকন, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক সহ ক্রীড়া সম্পাদক মাজেদুল ইসলাম মাসুম, ঢাবি সাবেক ছাত্রনেতা জসিম উদ্দিন সিদ্দিকী শোভন, সাবেক যুবদল নেতা মাইন উদ্দিন বেগ সুজন, জবি সাবেক ছাত্রনেতা নজরুল ইসলাম, সাবেক ছাত্রনেতা এমদাদুল হক পারভেজ, সাবেক ছাত্রনেতা জাহিদুল ইসলাম হিরন, সাবেক ছাত্রনেতা আমির হোসেন বাদশা, ঢাকা মহানগর পুর্ব সাবেক ছাত্রনেতা দুলাল মাতব্বর, সাবেক ছাত্রনেতা মাসুদ রানা, সাবেক ছাত্রনেতা মানিক হোসেন প্রমুখ।