পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্ধারণের প্রক্রিয়া জানালো বিএনপি
জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। গতকাল শুক্রবার (২৪ জুলাই) অসুস্থতাজনিত কারণে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন সাহাবুদ্দিন। সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর থেকেই স্পিকার দেশের রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
এদিকে, রাষ্ট্রপতির পদ থেকে সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর থেকেই দেশের রাজনৈতিক অঙ্গণে আলোচনা চলছে, কে বা কাকে দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি বানাতে যাচ্ছে ক্ষমতাসীন বিএনপি। যদিও সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ একাধিক সিনিয়র নেতার কাছে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলেও কেউ কোনো মন্তব্য করেননি।
তবে, আজ শনিবার (২৫ জুলাই) আলাদা আলাদাভাবে ও স্থানে বিএনপির সিনিয়র দুই নেতা পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলীয় পদক্ষেপের বিষয় তুলে ধরেছেন। বগুড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমিতে বার্ষিক পরিকল্পনা সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতির নাম ঠিক করা হবে।
কিন্তু দলের ভেতর থেকে না বাইরে থেকে রাষ্ট্রপতি হবেন, সে বিষয়ে কিছু বলতে রাজি হননি মির্জা ফখরুল। এমনকি রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার নাম শোনা যাচ্ছে এবং তিনি আগ্রহী কি না, এ প্রশ্নের জবাবেও তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এদিকে, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হবেন, সে বিষয়ে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিদ্ধান্ত নেবে। যথাসময়ে দলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জাতির সামনে তুলে ধরা হবে।
শনিবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও মোনাজাত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে রিজভী বলেন, তিনি শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছেন এবং আমরা সেটিই বিশ্বাস করতে চাই।
রিজভী আহমেদ আরও বলেন, পদত্যাগকারী রাষ্ট্রপতির বিচারের দাবি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল তুলেছে। এ বিষয়ে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামে আলোচনা হবে এবং পরে দল চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।