জুলাইয়ের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সমন্বয়কদের বৈঠক
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণ ও নতুন প্রজন্মের কাছে তা তুলে ধরার লক্ষ্যে জামালপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইউসুফ আলীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়করা। বুধবার (২২ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক প্রধান সমন্বয়ক ও আহ্বায়ক মীর ইসহাক হাসান ইখলাস, সাবেক সমন্বয়ক ও জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিব, সাবেক সমন্বয়ক ফিরোজ রহমান হীরা, সাবেক সমন্বয়ক ও ছাত্র অধিকার পরিষদের সাবেক জেলা সভাপতি সানাউল্লাহ, সমন্বয়ক বিবেকসহ আন্দোলনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
বৈঠকে জুলাই মাসকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন কর্মসূচি আয়োজনের প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে কুইজ প্রতিযোগিতা, রচনা প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভাসহ বিভিন্ন সচেতনতামূলক আয়োজনের পরিকল্পনার কথা জেলা প্রশাসককে জানান তারা। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে জুলাই আন্দোলনের প্রকৃত ইতিহাস নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সাবেক সমন্বয়ক রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, জুলাইয়ের সঠিক ইতিহাস যেন জামালপুরের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়, সে বিষয়টি আমরা জেলা প্রশাসকের কাছে তুলে ধরেছি। ইতিহাস বিকৃত না হয়ে প্রকৃত ঘটনা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছানো জরুরি।
সাবেক প্রধান সমন্বয়ক মীর ইসহাক হাসান ইখলাস বলেন, আমরা জুলাই আন্দোলনে শুরু থেকেই সক্রিয় ছিলাম। যখন অনেকেই নেতৃত্ব দিতে সাহস করেনি, তখন আমরা সমন্বয়ক কমিটি গঠন করে আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়েছিলাম। বর্তমানে জুলাই আন্দোলনের ইতিহাস বিকৃত করার চেষ্টা হচ্ছে। তাই প্রকৃত ইতিহাস সংরক্ষণ ও প্রচারের লক্ষ্যে আমরা জেলা প্রশাসকের সঙ্গে বৈঠক করেছি।
আন্দোলনে নির্যাতিত সমন্বয়ক ফিরোজ রহমান হীরা বলেন, আমি জুলাই আন্দোলনের সময় ১৭ জুলাই রাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলাম এবং দীর্ঘ সময় কারাভোগের পর মুক্তি পাই। আমরা চাই আন্দোলনের প্রকৃত ইতিহাস সংরক্ষিত হোক। এ বিষয়ে কয়েকটি কর্মসূচির প্রস্তাব জেলা প্রশাসকের কাছে দিয়েছি। তিনি ইতিবাচক আশ্বাস দিয়েছেন।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইউসুফ আলী বলেন, জুলাই আন্দোলনের ইতিহাস সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মের কাছে তা সঠিকভাবে তুলে ধরতে যেকোনো ইতিবাচক উদ্যোগকে জেলা প্রশাসন সহযোগিতা করবে। তারা যে কর্মসূচির প্রস্তাব দিয়েছেন, সেগুলো বিধি-বিধান অনুযায়ী বাস্তবায়নের বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে। ইতিহাস সংরক্ষণে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।