২২ জুলাই ২০২৬, ১৮:০২

দল থেকে বহিষ্কারের পর নজরুলের এমপি পদ কি থাকছে?

গাজী মো. নজরুল ইসলাম  © সংগৃহীত

সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি গাজী মো. নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে জামায়াতে ইসলামী। আজ বুধবার (২২ জুলাই) বিকেলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগ থেকে প্রেরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি থেকে এ তথ্য জানানো হয়। দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—তিনি কি সংসদ সদস্য (এমপি) পদে বহাল থাকবেন, নাকি তার আসন শূন্য হবে?

আইন ও সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল রাজনৈতিক দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ায় কোনো সংসদ সদস্যের পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয় না। বাংলাদেশের সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে সংসদ সদস্যের আসন শূন্য হওয়ার নির্দিষ্ট কিছু কারণ উল্লেখ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—কোনো সদস্য নিজ দল থেকে পদত্যাগ করলে বা সংসদে দলের সিদ্ধান্তের বিপক্ষে ভোট দিলে তার আসন শূন্য হতে পারে। তবে কোনো সংসদ সদস্যকে দল থেকে বহিষ্কার করা হলে তার সদস্যপদ বাতিল হবে কি না, সে বিষয়ে সংবিধানে সরাসরি কিছু বলা নেই।

আইনজীবীদের মতে, এ কারণে কোনো রাজনৈতিক দল কাউকে বহিষ্কার করলে তার সংসদ সদস্য পদ বহাল থাকার সুযোগ রয়েছে। অতীতে দল থেকে বহিষ্কৃত হয়েও কয়েকজন সংসদ সদস্যের পদ বহাল থাকার নজির রয়েছে।

এ বিষয়ে ব্যারিস্টার মোস্তফা শাকের উল্লাহ গণমাধ্যমে বলেন, দলীয় বহিষ্কার বা সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হলে ৭০ অনুচ্ছেদের অধীনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংসদ সদস্য পদ বাতিল হওয়ার সুযোগ নেই। তবে ফৌজদারি মামলায় তিনি যদি এমনভাবে দণ্ডিত হন, যাতে সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ ও প্রাসঙ্গিক আইনের অধীনে তিনি সংসদ সদস্য থাকার অযোগ্য হয়ে পড়েন, তখন বিষয়টি সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি হবে। আসন শূন্য হওয়ার প্রশ্ন দেখা দিলে সংবিধানের ৬৭(২) অনুযায়ী বিষয়টি রাষ্ট্রপতির নিকট যাবে এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কমিশনের মতামত গ্রহণ করে সিদ্ধান্ত দেবেন।

কেউ নিজে দল থেকে পদত্যাগ করলে সংসদ সদস্য পদ হারানোর বিধান রয়েছে। এর আগে দশম জাতীয় সংসদে সরকারদলীয় সংসদ সদস্য আবদুল লতিফ সিদ্দিকী দল থেকে পদত্যাগ করায় তার সংসদ সদস্য পদ বাতিল হয়েছিল। সেই হিসেবে গাজী নজরুল ইসলাম জামায়াত থেকে নিজে পদত্যাগ করলে তার সংসদ সদস্য পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে শূন্য হবে। কিন্তু দল তাকে বহিষ্কার করলে বিষয়টি ভিন্ন হতে পারে।

সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোনো সংসদ সদস্যের আসন শূন্য হবে কি না, এ নিয়ে কোনো বিতর্ক দেখা দিলে বিষয়টি শুনানি ও নিষ্পত্তির জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠানো হবে। এ ক্ষেত্রে কমিশনের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে।

অর্থাৎ গাজী নজরুল ইসলামকে জামায়াত বহিষ্কার করার পর নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করার কারণে বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে নির্বাচন কমিশন।