২২ জুলাই ২০২৬, ১৪:৩৯

এমপি গাজী নজরুলের পদত্যাগ দাবিতে উত্তাল শ্যামনগর, অবাঞ্ছিত ঘোষণা

গাজী নজরুল ইসলামের পদত্যাগ দাবিতে ‘শ্যামনগরের সচেতন নাগরিক সমাজ’ ব্যানারে শ্যামনগর বাজার থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়  © টিডিসি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে শ্যামনগর। তার পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন স্থানীয় লোকজন। সমাবেশ থেকে গাজী নজরুল ইসলামকে শ্যামনগরে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করা হয়। এ সময় তার কুশপুত্তলিকাও দাহ করা হয়।

বুধবার (২২ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে ‘শ্যামনগরের সচেতন নাগরিক সমাজ’ ব্যানারে শ্যামনগর বাজার থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। এতে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের স্থানীয় বাসিন্দা, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। মিছিলটি শ্যামনগর বাজারের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়।

বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীদের অনেকের হাতে গাজী নজরুল ইসলামের ছবি ও প্রতীকী ঝাড়ু দেখা যায়। তারা বিভিন্ন প্রতিবাদী স্লোগান দেন। এর মধ্যে ছিল—‘ছি ছি নজরুল, লজ্জায় বাঁচি না’, ‘হই হই রই রই, বট বাহিনী গেলি কই’, ‘শ্যামনগরে হবে না, বট বাহিনীর ঠিকানা’ প্রভৃতি।

মিছিলে অংশ নেওয়া বিভিন্ন ইউনিয়নের কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে একজন জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ অত্যন্ত হতাশাজনক। অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।

মানববন্ধনে উপজেলা মহিলা দলের সভানেত্রী নুরজাহান পারভীন ঝর্ণা বলেন, ‘আমরা নারীদের নিরাপত্তা চাই। শুধু বক্তব্যে নয়, বাস্তবেও নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে সত্যতা প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।’

সমাবেশে পদ্মপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমজাদুল ইসলাম আমজাদ বলেন, ‘দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে মানুষের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পর একের পর এক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পরিবর্তনের আশায় মানুষ ভোট দিয়েছিল, কিন্তু এখন তারা প্রতারিত বোধ করছে। আমরা নিরপেক্ষ তদন্ত চাই। একই সঙ্গে শ্যামনগরের পক্ষ থেকে গাজী নজরুল ইসলামকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করছি।’ তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকারের প্রতি সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও আহ্বান জানান।

নাগরিক নেতা অধ্যাপক আবু সাইদ বলেন, জনগণ যে প্রত্যাশা নিয়ে একজন জনপ্রতিনিধিকে নির্বাচিত করেছিল, তা ভেঙে গেছে। শ্যামনগরের মানুষের সম্মান কোনো ব্যক্তি বা দলের চেয়ে বড়। তাই সত্য উদ্ঘাটন ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

জেলা বিএনপির সদস্য ও নাগরিক নেতা অ্যাডভোকেট আশেক ই এলাহি মুন্না বলেন, প্রথমে একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সেটিকে এআই দিয়ে তৈরি বলে দাবি করা হয়েছিল। পরে একের পর এক ভিডিও প্রকাশের পর সেই দাবি আর শোনা যায়নি। এরপর সংসদ সদস্য নিজেই ফেসবুকে দেওয়া এক বিবৃতিতে সংশ্লিষ্ট নারীকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী বলে উল্লেখ করেন। পরে আরও একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে তাকে একটি বাড়িতে স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়তে দেখা যায় বলে দাবি করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘এসব ঘটনায় সারা দেশে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে এবং শ্যামনগরের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। আমরা সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রতি দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানাই। একই সঙ্গে সরকারের কাছে দাবি জানাই, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে সত্যতা প্রমাণিত হলে তাকে আইনের আওতায় আনা হোক।’

সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সোলায়মান কবির, জেলা বিএনপির সদস্য অ্যাডভোকেট আশেক ই এলাহি মুন্না, উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি মাসুদুল আলম, চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম দুলুসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতারা।

বিক্ষোভ কর্মসূচি চলাকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা এলাকায় অবস্থান নেন। তবে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

এদিকে সমাবেশে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম বা তার পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার প্রতিক্রিয়া মেলেনি।