স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সীমান্ত হত্যাকে বৈধতা দিয়েছেন—দাবি হাসনাত আব্দুল্লাহর
কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, ‘আমরা প্রত্যাশা করেছিলাম এই সরকার আসলে আমাদের যে পররাষ্ট্রনীতি ও সীমান্তে ভারতীয় যে অপনীতি রয়েছে, সেটির বিরুদ্ধে জাতীয়ভাবে সুস্পষ্ট ও সুদৃঢ় নীতিমালা প্রণয়ন করবে। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আমরা নতজানু নীতির পুনরাবৃত্তি দেখতে পেয়েছি। আওয়ামী লীগ সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী যে ভাষায় কথা বলতেন, ঠিক একই ভাষায় এই সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বর্ডার কিলিংকে বৈধতা দিয়েছেন। তবে আমাদের বিজিবির ভাইয়েরা যেভাবে দৃঢ়তার সঙ্গে তাদের দায়িত্ব পালন করেছেন, সেজন্য এনসিপির পক্ষ থেকে আমরা তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।’
মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় নাগরিক পার্টির চিতলমারী উপজেলা শাখার আয়োজনে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে অনুষ্ঠিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
হাসনাত আব্দুল্লাহ আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি সংকটকালীন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই সময়ে আমরা দেখতে পাচ্ছি, দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসনের পর মানুষের যে আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছিল, তা এখন হতাশায় পরিণত হচ্ছে। শুধু সরকারের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের কারণে আমাদের জাতীয় আত্মবিশ্বাস জাতীয় হতাশায় পরিণত হচ্ছে। আমরা প্রত্যাশা করেছিলাম, এই সরকার একটি শক্তিশালী উপকূলীয় ব্যবস্থা গড়ে তুলবে। আমরা প্রত্যাশা করেছিলাম, সরকারি অফিসগুলো ঘুষ ও দুর্নীতিমুক্ত হবে। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, সরকারি অফিসগুলো এখন পর্যন্ত ঘুষ ও দুর্নীতিমুক্ত হতে পারেনি। আমরা প্রত্যাশা করেছিলাম, সরকার গঠনের পর বিদ্যুতের সমস্যার সমাধান হবে। দুঃখজনক বিষয়, জ্বালানি সংকটকে পুঁজি করে দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ব্যবসায়ীদের সুবিধাভোগী করা হয়েছে। আমরা দেখতে পাচ্ছি, মাঝেমধ্যে বিদ্যুৎ আসে। সরকার জনগণকে লোডশেডিং উপহার দিয়েছে। সরকার গঠনের পর জনগণের হাতে হারিকেন ও মোমবাতি ধরিয়ে দিয়েছে।’
গণভোট ও জুলাই সনদ প্রসঙ্গে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘নির্বাচন চলে গিয়েছে, তারা এখন আর গণভোট মানবেন না। সংবিধানে নাকি গণভোট নেই। তারা বলে, নির্বাচনের স্বার্থে গণভোটের পক্ষে বলেছিলেন। বিএনপি সরকার জনগণের সঙ্গে দ্বিচারিতা করতে পারে, কিন্তু যে জনগণ জুলাইয়ে রাস্তায় নেমে এসেছিল, যে মা তার সন্তানকে হারিয়েছিল, যে বোন তার ভাইকে হারিয়েছে, যে বাবা তার সন্তানকে হারিয়েছিল, সেই জনগণ কখনও পথ হারাতে পারে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচনের পরে নারীদের মূল্যায়ন করা হয় না। রিকশাচালক ও খেটে খাওয়া মানুষদের উদ্দেশে বলতে চাই, আমরা ব্যবসায়ীদের হয়ে কথা বলব না। আমরা আপনাদের অধিকার আদায়ে লড়াই করব। আমরা এমন একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেছি, যে দল সবার অধিকার আদায়ের জন্য কথা বলছে, লড়াই করছে। এজন্য আমরা আপনাদের সহযোগিতা চাই। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এই দেশকে বৈষম্যমুক্ত করার অঙ্গীকার করছি।’
জাতীয় নাগরিক পার্টির চিতলমারী উপজেলা শাখার প্রধান সমন্বয়কারী এফ এম শাহরিয়ার আল ইসলাম জুয়েলের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন বাগেরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা মশিউর রহমান খান, এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, আলী আহসান জুনায়েদ, কেন্দ্রীয় নেতা মহিউদ্দিন রনি, জাতীয় ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক জাহিদ আহসান, খুলনা বিভাগীয় এনসিপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফরিদুল হক, বাগেরহাট জেলা এনসিপির আহ্বায়ক মোর্শেদ আনোয়ার সোহেল, যুগ্ম আহ্বায়ক লাবিব আহমেদ এবং জাতীয় নারীশক্তির নেত্রী আরজিন আরবী নওরীন।
এ সময় বক্তারা বলেন, ‘জান দেব, কিন্তু জুলাই দেব না। বাংলার মাটিতে শেখ হাসিনার দাফন হবে না। কারণ বাংলাদেশের মাটিতে শেখ পরিবারের রাজনীতি শেষ।’
সভার শেষের দিকে এনসিপির নেত্রী ও সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা মিতু সভায় অংশ নেন। এ সময় গণঅধিকার পরিষদের কয়েকজন নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহকে ফুল দিয়ে এনসিপিতে যোগ দেন। চিতলমারীর পথসভা শেষে সন্ধ্যায় ফকিরহাট উপজেলা সদরের ডাকবাংলা মোড়ে আরেকটি পথসভায় যোগ দেন এনসিপির নেতারা।