২১ জুলাই ২০২৬, ১৯:৪৯

জামায়াত এমপি গাজী নজরুল কি ‘হানি ট্র্যাপে’র শিকার

জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম  © টিডিসি সম্পাদিত

দক্ষিণের জেলা সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) থেকে নির্বাচিত জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধীদল জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে ভাইরাল হওয়া একটি আপত্তিকর ভিডিও দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। ব্যক্তিগত নৈতিকতা, রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা এবং দলের আদর্শিক অবস্থান—তিনটি বিষয়ই এখন আলোচনার কেন্দ্রে।

ভিডিও প্রকাশের পর এমপি, তার প্রথম স্ত্রী, ভিডিওতে থাকা তরুণী মরিয়ম, মরিয়মের পিতা এবং দলীয় কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব আলাদা আলাদা ব্যাখ্যা দিয়েছে। এসব বক্তব্যের পাশাপাশি রাজনৈতিক অঙ্গনে আরেকটি প্রশ্নও ঘুরপাক খাচ্ছে—এটি কি পরিকল্পিত কোনো ফাঁদ বা তথাকথিত 'হানি ট্র্যাপ', নাকি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ঘটনার রাজনৈতিক প্রতিফলন? এদিকে, বিষয়টি ব্যক্তিগত হলেও তা রাজনৈতিক সংকট বা ইস্যুতে পরিণত হয়েছে কারণ ব্যক্তি একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। তবে রাজনৈতিক অঙ্গনে আরেকটি প্রশ্নও ঘুরপাক খাচ্ছে—ঘটনাটি কি পরিকল্পিত কোনো ফাঁদ বা তথাকথিত 'হানি ট্র্যাপ', নাকি এটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত একটি ঘটনার রাজনৈতিক অভিঘাত?

এদিকে, ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেমন ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়, তেমনি রাজনৈতিক মহলেও বিষয়টি নিয়ে নানা ধরনের ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ সামনে আসে। কেউ এটিকে একজন জনপ্রতিনিধির ব্যক্তিগত জীবনের বিষয় হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ বলছেন, ব্যক্তিগত আচরণ তখনই রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে ওঠে, যখন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি রাষ্ট্রের একজন নির্বাচিত প্রতিনিধি এবং তার দল নৈতিকতা ও ইসলামী মূল্যবোধকে রাজনৈতিক পরিচয়ের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরে।

ঘটনার পর গাজী নজরুল ইসলাম নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন। একই সময়ে তার প্রথম স্ত্রীও পৃথক বক্তব্য দিয়েছেন। ভিডিওতে থাকা তরুণী মরিয়মও নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন। কেন্দ্রীয় জামায়াতও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়ে ঘটনাটিকে ঘিরে দলের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছে। তবে চার পক্ষের বক্তব্যে বিভিন্ন বিষয়ে মিল-অমিল থাকায় জনমনে প্রশ্ন আরও বেড়েছে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অনেকে মনে করছেন।

ভিডিওতে সংশ্লিষ্ট নারীকে এমপি নজরুল তার দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে স্বীকার করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বার্তা দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, এই ভিডিও তারই গাড়িচালক ওবায়দুল্লাহ‘র যোগসাজশে একটি সংঘবদ্ধ চক্র ছড়িয়ে দিয়েছে। 

গাজী নজরুল ইসলামের দাবি অনুযায়ী, মরিয়ম বেগম নামের ১৮ বছর বয়সী ওই তরুণী তার দ্বিতীয় স্ত্রী। তরুণীর সঙ্গে তার দ্বিতীয় বিয়ে সম্পন্ন হয় গত মাসের ১৭ জুন। প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে শ্বশুরবাড়িতে এই বিবাহ অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

তবে এমপির দাবির বিষয়ে অসংগতি বা ফাঁক ধরা পড়ে ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজের টাইমস্ট্যাম্প থেকে। ফ্যাক্টচেক প্রতিষ্ঠান ‘দ্য ডিসেন্ট-এর বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ছড়িয়ে পড়া আসল ফুটেজটি ২০২৩ সালের জুলাই মাসে ধারণ করা। ফলে এমপির দাবি করা চলতি বছরের ১৭ জুনের বিয়ের তারিখের সঙ্গে সিসিটিভি ফুটেজের ধারণকৃত সময়ের ব্যবধান দাঁড়ায় প্রায় তিন বছর! অর্থাৎ ২০২৩ সালের ভিডিও ঢাকতে ২০২৬ সালের বিয়ের অজুহাত দেওয়া হচ্ছে কি না—তা নিয়ে জনমনে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে।

পাশাপাশি বিয়ের কাবিননামা নিয়েও মেলেছে অস্পষ্টতা। একটি গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে কাবিননামার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে এমপি জানান, কাবিননামা তাদের কাছে নেই, তবে বিবাহ নিবন্ধকের কাছ থেকে ঘণ্টাখানেকের মধ্যে তা সংগ্রহ করে দেওয়া সম্ভব।

অপরদিকে মরিয়মের বাবা মাসুম বিল্লাহ দাবি করেন, ৩ লাখ টাকা দেনমোহরে গত ১৭ জুন তার মেয়ে ও এমপির বিয়ে হয়। ভিডিওটি তার মগবাজারের অফিসের রেস্ট রুমে ধারণ করা এবং এর পেছনে তার (মাসুম বিল্লাহ) শ্যালক ও গাড়িচালক ওবায়দুল্লাহর হাত রয়েছে।

কিন্তু অসঙ্গতির এখানেই শেষ নয়। সংসদ সদস্য নির্বাচনকালে নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামায় নজরুল ইসলাম দ্বিতীয় স্ত্রীর তথ্য জানাননি। এমনকি সাতক্ষীরার স্থানীয় জামায়াত নেতারা জানান, এমপির দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি জানলেও বিয়ের সুনির্দিষ্ট তারিখ বা নথিপত্র সম্পর্কে দল আগে থেকে অবগত ছিল না। জামায়াতে ইসলামী দীর্ঘদিন ধরে নৈতিকতা, ইসলামী মূল্যবোধ ও ব্যক্তিগত চরিত্রকে রাজনৈতিক পরিচয়ের অংশ হিসেবে তুলে ধরে। সেই অবস্থানের সঙ্গে দলীয় এমপি নজরুল ইসলামের নতুন এই বিতর্ক চরম সাংঘর্ষিক। 

এদিকে, ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক অঙ্গনের বিভিন্ন আলোচনায় 'হানি ট্র্যাপ' শব্দটি সামনে এসেছে। কেউ কেউ দাবি করছেন, এটি পরিকল্পিতভাবে সাজানো একটি ফাঁদ হতে পারে। আবার অন্যরা বলছেন, এ ধরনের দাবি অত্যন্ত গুরুতর এবং এর পক্ষে এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনো স্বাধীনভাবে যাচাইকৃত প্রমাণ উপস্থাপিত হয়নি। ফলে তদন্ত বা নির্ভরযোগ্য তথ্য ছাড়া ঘটনাটিকে 'হানি ট্র্যাপ' হিসেবে চূড়ান্তভাবে আখ্যা দেওয়ার সুযোগ নেই।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের রাজনীতিতে ব্যক্তিগত ভিডিও বা অডিও ফাঁস নতুন কোনো ঘটনা নয়। বিভিন্ন সময় নানা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে ঘিরে এমন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তবে প্রতিটি ঘটনার প্রেক্ষাপট আলাদা হওয়ায় নির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া কোনো ঘটনার উদ্দেশ্য বা পরিকল্পনা সম্পর্কে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সমীচীন নয়।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা জামায়াতের জন্য রাজনৈতিক ও নৈতিকতা—দুই ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। দলটি দীর্ঘদিন ধরে ব্যক্তিগত চরিত্র, ধর্মীয় অনুশাসন ও নৈতিক মূল্যবোধকে রাজনৈতিক বক্তব্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে তুলে এসেছে। ফলে দলের একজন সংসদ সদস্যকে ঘিরে এমন বিতর্ক স্বাভাবিকভাবেই দলটির রাজনৈতিক বার্তা ও জনভাবমূর্তির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বিবৃতি সেই ক্ষতি নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

অন্যদিকে, কেউ কেউ মনে করেন, ব্যক্তিগত জীবনের বিতর্ককে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবেও ব্যবহার করা হতে পারে। তবে সেটি প্রমাণ করার দায় যারা এমন দাবি করছেন, তাদেরই বহন করতে হবে। আইনগত তদন্ত, ডিজিটাল ফরেনসিক বিশ্লেষণ এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতেই প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হতে পারে।

দলীয় এমপির নতুন বিতর্ক জামায়াতের রাজনৈতিক আদর্শের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কিনা জানতে চাইলে ঢাবি ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের পিএইচডি গবেষক আব্দুল্লাহ আর রিয়াদ ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, জামায়াতের আদর্শ মূলত এটাই। ওরা যতই নৈতিকতা, ইসলামের কথা বলে কিন্তু সেগুলো ওন করে না। ওদের ইতিহাস খুঁজলে আপনি দেখবেন সেই ’৪৭ থেকেই যখন উপমহাদেশের মুসলমানরা সংগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে পাকিস্তান আন্দোলন বা স্বাধীন পাকিস্তান সৃষ্টির পক্ষে তখনও জামায়াত স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছে। তারা অখণ্ড ভারতের পক্ষ নিয়েছে। আবার ’৭১ সালে আমাদের স্বাধীনতার সময়ও এই দলটি নিজ দেশের স্বাধীনতার বিরোধীতা করেছে। এরপর স্বৈরাচারের সময়ও আমরা তাদের দ্বি-চারিতা দেখেছি। কার্যত, ইসলামকে তারা রাজনৈতিক স্বার্থে অপব্যবহার করে। তাদের মধ্যে ইসলামের নৈতিকতা বলতে কিছু নেই।

আরেক প্রশ্নের জবাবে রিয়াদ বলেন, ‘হানি ট্র্যাপ’ মনে হয় না। যেখানে সেই তরুণী ও তার বাবা এবং এমপি বা অন্যরা বলছেন, তারা বিবাহিত। আমার মনে হয় এই বিবাহটাই অনৈতিকতার ধারাবাহিকতার ফল।

সব মিলিয়ে, গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে ভাইরাল হওয়া ভিডিও এখন আর কেবল একজন ব্যক্তির বিতর্কে সীমাবদ্ধ নেই। এটি নৈতিক রাজনীতি, জনপ্রতিনিধির জবাবদিহি, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, ডিজিটাল নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের কৌশল—এসব বিষয়কে একসঙ্গে সামনে নিয়ে এসেছে। শেষ পর্যন্ত ঘটনাটি কোন দিকে মোড় নেয়, তা নির্ভর করবে তদন্ত, প্রমাণ এবং পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপের ওপর।

বিষয়টি রীতিমতো আলোচনার কেন্দ্রে পরিণত হলে ভিডিওর তরুণীকে নিজ ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’ দাবি করে সংসদ সদস্য ও তার স্বজনেরা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও সিসিটিভি ফুটেজের সময়, বিয়ের দাবি করা তারিখ, হলফনামা ও নতুন নথিপত্র পর্যালোচনায় ফুঁটে উঠেছে চরম অসঙ্গতি ও বৈপরীত্য। নতুন বিতর্ক মরিয়ম খাতুনের নামে ছড়িয়ে পড়া একটি বায়োডাটা। নথির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা না গেলেও দেখা যায়, গত ২২ জুন ওই বায়োডাটায় এমপি গাজী নজরুল ইসলাম সবুজ কালিতে ‘জোর সুপারিশ করছি’ লিখে স্বাক্ষর করেন। সেখানে ১৮ বছর বয়সী ওই তরুণীর বৈবাহিক অবস্থা স্পষ্টত লেখা রয়েছে ‘অবিবাহিত’। এমপির দাবি মতে যদি ১৭ জুন বিয়ে হয়ে থাকে, তবে বিয়ের ঠিক পাঁচ দিন পর নিজের স্বাক্ষরিত চাকরির বায়োডাটায় নিজের স্ত্রীকেই কেন ‘অবিবাহিত’হিসেবে সুপারিশ করলেন, তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

এদিকে, সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী নজরুল ইসলাম ফেসবুকে যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন তার সঙ্গে আরও কিছু ভিডিওর তথ্যে গরমিল পাওয়া গেছে। কয়েকটি ভিডিওতে দেখা গেছে, তিনি নীলা নামে কোনো এক নেত্রীর বাসায় মরিয়ম বেগম নামের ওই তরুণীকে নিয়ে গিয়েছিলেন।

গাজী নজরুল ইসলাম ফেসবুকে মরিময়কে নিজের দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে দাবি করেছেন। পাশাপাশি জানিয়েছেন, দ্বিতীয় শ্বশুরের অফিসে ভিডিওটি তারই গাড়িচালক ও মরিয়মের মামা গোপনে ধারণ করেছেন।

তবে নতুন ভিডিওগুলোতে দেখা গেছে, যারা নজরুল ইসলামকে জেরা করছেন তারা নীলা নামের এক নারীর কথা বলছেন। এভাবে তাদের কথা বলতে শোনা যায়, ‘এই যে এইটা নীলার বাসা। আগে আওয়ামী লীগ করত। এখন দেহ ব্যবসার জন্য বাড়ি ভাড়া দেয়।’

ওই যুবকদের প্রশ্ন করতে শোনা যায়, ‘আগে কয়বার এসেছেন? সত্যি করে বলেন, কয়বার এসেছেন। আমরা কয়েক দিন দেখেছি আপনি এখানে আসেন। ধরতে পারছিলাম না।’

এসময় নজরুল ইসলামকে হাতজোড় করে ক্ষমাও চাইতে দেখা যায়। তিনি বলছেন, আমাদের ছেড়ে দেন। আমরা অন্যায় করেছি। তবে মরিয়ম বেগম বেশ স্থির ছিলেন। তিনি ওই যুবকদের সঙ্গে চড়াও সুরে কথা বলছিলেন।

ভিডিওতে নীলা নামে যে নেত্রীর কথা বলা হচ্ছে, তার সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়নি। ভিডিওর কথোপকথন থেকে বোঝা যায় ঘটনাটি ঢাকায়।

এ বিষয়ে জানতে সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান মাওলানা আজিজুর রহমান জানান, এমপি প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে দ্বিতীয় বিয়ে করার বিষয়টি দলকে নিশ্চিত করেছেন। তবে ভিডিও প্রকাশ ও ছড়িয়ে পড়ার পেছনে কার হাত রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিয়ের নির্দিষ্ট তারিখ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি সুনির্দিষ্ট কোনো তারিখ জানাতে পারেননি।

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, দলের কেউ কোনো অন্যায় করলে আমরা (জামায়াত) ছাড় দেবো না। সে সংসদ সদস্য হোক বা সাংগঠনিক দায়িত্বশীল হোক। 

পাশাপাশি তিনি বলেন, তবে, একজন মানুষের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিষয় যেভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, বা আলোচনার খোড়াকে পরিণত হয়েছে, যাতে পরিবারের অন্য সদস্যরাও হেয় হন, তা কাম্য নয়।

এদিকে, ভিডিওটির আসল সময়কাল (২০২৩ সাল), দাবিকৃত বিয়ের তারিখ (২০২৬ সাল), চাকরির আবেদনে ‘অবিবাহিত’ তথ্য এবং নির্বাচন কমিশনের হলফনামায় গোপনীয়তা। সব মিলিয়ে জামায়াত এমপি গাজী নজরুল ইসলামের এই বক্তব্য ও নথিপত্রের পাহাড়সম অসঙ্গতি দিন দিন ঘটনাটিকে আরও বেশি নাটকীয় ও রহস্যজনক করে তুলেছে।