৫০ কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ ১০ কোটিতে, বাকি ৪০ কোটি পকেটে—এই চক্রই রাষ্ট্রকে পিছিয়ে দিয়েছে
নির্বাচনে বিপুল অর্থ ব্যয় করে নির্বাচিত হওয়ার পর অনেক জনপ্রতিনিধি উন্নয়ন প্রকল্পের নামে দুর্নীতির আশ্রয় নেন বলে মন্তব্য করেছেন লেখক ও সামাজিক বিশ্লেষক ডা. মাহমুদা মিতু। তার দাবি, এ ধরনের দুর্নীতির চক্র বছরের পর বছর ধরে রাষ্ট্রকে পিছিয়ে দিচ্ছে।
সোমবার (২১ জুলাই) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।
পোস্টে ডা. মাহমুদা মিতু লেখেন, ‘নির্বাচনে ১০ কোটি টাকা খরচ করে এমপি হলো। তারপর ৫০ কোটি টাকার প্রকল্প আনল, কিন্তু কাজ করল মাত্র ১০ কোটির। এলাকার মানুষ বাহবা দিল উন্নয়ন হয়েছে। আর বাকি ৪০ কোটি চলে গেল নিজের পকেটে। দুর্নীতির এই চক্রই আমাদের রাষ্ট্রকে বছরের পর বছর পিছিয়ে দিয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এলাকার মানুষও দেখলো উন্নয়ন হয়েছে, আবার ওই ৪০ কোটি টাকা দিয়ে এমপি বেগমপাড়ায় বাড়িও করে ফেললো।’
নাগরিক অধিকার সম্পর্কে সচেতনতার অভাবের কথাও তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমাদের আরেকটি বড় সমস্যা হলো রাষ্ট্রের কাছ থেকে নাগরিক হিসেবে আমাদের কী কী পাওয়ার অধিকার, তা অনেকেই জানি না।’
তিনি বলেন, ‘যার ফলে দুইটা ইটের রাস্তা, পাঁচটা সুতির শাড়ি বা সামান্য কিছু অনুদান পেলেই মনে হয়, অনেক বড় কিছু পেয়েছি। মনে রাখবেন, এগুলো কোনো জনপ্রতিনিধির ব্যক্তিগত দান নয়। এগুলো জনগণের করের টাকায়, জনগণের সাংবিধানিক অধিকার অনুযায়ী রাষ্ট্রের দায়িত্ব।’
ডা. মাহমুদা মিতু আরও লেখেন, ‘উন্নয়ন কোনো দয়া নয়, এটি আপনার প্রাপ্য অধিকার।’
উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘অনেকেই উন্নয়ন প্রকল্প নেন শুধু এই কারণে যে, এসব দিয়ে নির্বাচনের খরচ উঠানো যাবে। পাশাপাশি ভাই, দুলাভাইদের টেন্ডার ধরিয়ে দিয়ে কোটি কোটি টাকা আয় করা যাবে।’
পোস্টের শেষাংশে তিনি নাগরিকদের উদ্দেশে আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘তোষামোদি বন্ধ করে নিজের অধিকার বুঝে নিন।’