২০ জুলাই ২০২৬, ১২:০৬

ব্যবসায়ী ও বালুখেকোদের টাকায় নির্বাচিতরা জনগণের কথা বলেন না: হাসনাত আবদুল্লাহ

পথসভা ও সমাবেশে প্রধান বক্তব্য দিচ্ছেন সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ  © সংগৃহীত

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, ব্যবসায়ী বা বালুখেকোদের টাকায় যারা রাজনীতি করে সংসদে যান, তারা কখনো জনগণের স্বার্থের কথা বলেন না। তারা যাদের অর্থে নির্বাচিত হন, তাদের পক্ষেই অবস্থান নেন।

রবিবার (১৯ জুলাই) বিকেলে ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার বাইপাস মোড়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ঘোষিত কেন্দ্রীয় দেশব্যাপী ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত পথসভা ও সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, নির্বাচনের আগে এনসিপি জনগণের কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, নির্বাচিত হলে সংসদে গিয়ে জনগণের প্রতিনিধিত্ব করবে। সেই প্রতিশ্রুতি কতটা বাস্তবায়ন হয়েছে, তার মূল্যায়ন জনগণই করবেন।

তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের আগে আমরা আপনাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, আমাদের নির্বাচিত করলে আমরা সংসদে গিয়ে আপনাদের প্রতিনিধিত্ব করব। আপনারা মূল্যায়ন করবেন আমরা ব্যবসায়ীদের পক্ষে কথা বলছি, নাকি জনগণের পক্ষে কথা বলছি। যারা ব্যবসায়ীদের টাকায় রাজনীতি করে সংসদে যায়, তারা জনগণের কথা বলে না, ব্যবসায়ীদের কথা বলে। যারা বালুখেকোদের টাকায় নির্বাচিত হয়, তারা কখনো বালুখেকোদের বিরুদ্ধে কথা বলবে না।’

নাগরিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শুধু সমস্যা চিহ্নিত করলেই হবে না, সমাধানের দায়িত্বও নিজেদের নিতে হবে। দেশের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারের পক্ষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজপথে আমরা স্লোগান দিয়েছিলাম— ‘তুমি কে, আমি কে, বিকল্প, বিকল্প’। তখন বলা হয়েছিল আওয়ামী লীগের কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু শিক্ষার্থী, পেশাজীবী, শ্রমজীবী, রিকশাচালকসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ নিজেদের উদ্যোগেই সেই বিকল্প তৈরি করেছিলেন। সেই চেতনা ধরে রেখেই দেশ গঠনে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমাদের নাগরিকের দায়িত্ব আমাদের নিজেদেরই তুলে নিতে হবে। ঠিক একইভাবে এই সরকারের ওপর ভরসা করে আপনারা হাল ছেড়ে দেবেন না। দেশের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে এবং সংস্কারের স্বার্থে কোনো আপস করা যাবে না। নিজেদের দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে তুলে নিতে হবে।’

সংসদে নিজের ভূমিকার প্রসঙ্গ তুলে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘গত পাঁচ মাসে সংসদে কোনো রক্তচক্ষুকে ভয় পাইনি। মিডিয়া মাফিয়া, ভূমিখেকো, ব্যাংক ডাকাত ও ভোটচোরদের বিরুদ্ধে সংসদে ধারাবাহিকভাবে কথা বলে গেছি। সংসদে সবার বিরুদ্ধে কথা বলেছি। কারণ দিন শেষে আমাদের বৈধতা হচ্ছে আমাদের জনতা।’

তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের আগে আমরা বলেছিলাম, আপনারা আমাদের ফ্রিতে ভোট দেবেন, আমরা আপনাদের ফ্রিতে সার্ভিস দেব। সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে আমরা জনগণের পক্ষে কথা বলে যাচ্ছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা জনতার টাকায় নির্বাচন করেছি। জনতা আমাদের ভোট দিয়েছে। দিন শেষে আমাদের ঋণ জনতার কাছে। তাই আমরা বিনয়ের সঙ্গে বলে যেতে চাই, যে নেতা আপনার ভোটে নির্বাচিত হবে, সে আপনাদের ভয় পাবে। আর যে নেতা টাকার জোরে নির্বাচিত হবে, সে কখনো আপনাদের সেবক হবে না, কখনো আপনাদের ভয়ও পাবে না।’

দুর্নীতি ও লুটপাটের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ অভিযোগ করে বলেন, ‘আগে এস আলম ব্যাংক ও দেশের সম্পদ লুট করেছে, কেউ বিদ্যুৎ খাতে দুর্নীতি করেছে। এখন একটি দলের স্থানীয় নেতারা বালু, নদী ও গরু চুরির সঙ্গে জড়িত। জনগণের সম্পদ লুটের এই সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, দুর্নীতি, লুটপাট ও দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। জনগণের সম্পদ রক্ষায় কোনো ধরনের আপস করা হবে না বলেও মন্তব্য করেন।

রাজাপুরের স্থানীয় সমস্যার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘রাজাপুরের মানুষ বালু খায়, নদী খায় এবং গরু চুরি করে খায়। আমাদের প্রার্থী তুহিন ভাই এই সমস্যাগুলোর সমাধান করবেন ইনশাআল্লাহ।’

আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচন প্রসঙ্গে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘আগামীর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আপনাদের সামনে তরুণ প্রজন্ম থেকে আমাদের তুহিন ভাইকে এনসিপি থেকে মনোনীত করছি। আমাদের তুহিন ভাই আপনাদের জন্য নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে যাবেন। আপনারাও নিঃস্বার্থভাবে আপনাদের মূল্যবান ভোট দেবেন। আপনার সিদ্ধান্তে আপনি ভোট দেবেন, কোনো চেয়ারম্যান, মেম্বার বা কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তির কথায় নয়।’

জুলাই আন্দোলনের শহীদদের স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘এই ১৯ জুলাই আমাদের ছোট ভাই নাঈম শহীদ হয়েছেন। আজ তাঁর শাহাদাতের দুই বছর পূর্ণ হয়েছে। এই শহীদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি করবেন না। যে নেতা জনগণের রায়ে নির্বাচিত হয়, সেই নেতা কখনো জনগণের সঙ্গে বেইমানি করবে না।’

সমাবেশে বক্তব্য দেন এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদ সদস্য আলী আহসান জুনায়েদ, কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার তুষার, সংরক্ষিত আসনের নারী সংসদ সদস্য ও দলের রাজনৈতিক পর্ষদ সদস্য ডা. মাহমুদা আলম মিতু, যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক মো. আরিফুর রহমান তুহিন, রাজাপুর উপজেলা এনসিপির সভাপতি শাহরিয়ার শাকিলসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।

সমাবেশে হাসনাত আবদুল্লাহ আনুষ্ঠানিকভাবে এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক মো. আরিফুর রহমান তুহিনকে রাজাপুর উপজেলা চেয়ারম্যান পদে দলের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেন। সমাবেশ শেষে এনসিপির কেন্দ্রীয় ‘জুলাই পদযাত্রা’ রাজাপুরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক অংশ নেন।