১৪ জুলাই ২০২৬, ১৮:২৪

শুল্ক বৃদ্ধির প্রভাবে বেনাপোলে মাছ আমদানিতে ভাটা

মৎস্য মান নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র  © সংগৃহীত

নতুন অর্থবছরের বাজেটে মাছ আমদানির ওপর শুল্ক বাড়ানোর সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়েছে দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোলে। বাজেট কার্যকরের পর থেকেই ভারত থেকে মাছ আমদানি উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। অতিরিক্ত শুল্কের কারণে আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় লোকসানের আশঙ্কায় অনেক আমদানিকারক মাছ আমদানি স্থগিত বা সীমিত করেছেন। এতে ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি বন্দরের শ্রমিক, পরিবহন খাত এবং সরকারের রাজস্ব আদায়েও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মাছ আমদানির মোট শুল্কহার ৪৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭০ শতাংশ করা হয়েছে। নতুন বাজেট কার্যকরের পরদিন থেকেই বেনাপোল কাস্টমস নতুন হারে শুল্ক আদায় শুরু করে। এরপর থেকেই বন্দর দিয়ে ভারতীয় মাছের আমদানি দ্রুত কমতে শুরু করেছে।

বেনাপোল কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, আগে প্রতি কেজি মিঠা পানির মাছ আমদানিতে ৮৬ টাকা ১০ পয়সা শুল্ক দিতে হলেও বর্তমানে তা বেড়ে হয়েছে ১৩১ টাকা ৬০ পয়সা। অর্থাৎ প্রতি কেজিতে প্রায় ৪৬ টাকা বেশি শুল্ক দিতে হচ্ছে। এ ছাড়া সামুদ্রিক মাছ ও রুই মাছের ক্ষেত্রে প্রতি কেজিতে শুল্ক ৪৩ টাকা ১০ পয়সা থেকে বেড়ে ৬৬ টাকা ১০ পয়সা হয়েছে, যা কেজিপ্রতি প্রায় ২৪ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।

মাছ আমদানিকারক ব্যবসায়ীরা জানান, ভারতীয় মাছের দেশে ব্যাপক চাহিদা থাকলেও বাড়তি শুল্কের কারণে আমদানি ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে। এতে লোকসানের ঝুঁকি থাকায় অনেক ব্যবসায়ী মাছ আমদানি কমিয়ে দিয়েছেন। তাদের মতে, বর্তমান শুল্কহার বহাল থাকলে আমদানি আরও কমে যাবে। এতে বাজারে মাছের দাম বাড়ার পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আদায়ও কমে যেতে পারে। তাই দ্রুত শুল্কহার পুনর্বিবেচনার দাবি জানান তারা।

এদিকে মাছ আমদানি কমে যাওয়ায় বন্দরের শ্রমিকদের কাজও কমে গেছে। শ্রমিকরা জানান, আগে নিয়মিত মাছবোঝাই ট্রাক খালাসের কাজ থাকলেও এখন দিনের পর দিন অপেক্ষা করেও কোনো ট্রাক পাওয়া যাচ্ছে না। এতে তাদের আয়-রোজগার কমে গেছে এবং পরিবার নিয়ে দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। একই দাবি জানিয়েছেন ট্রাকচালকরাও। তারা বলেন, শুল্ক কমানো হলে আমদানি আবার স্বাভাবিক হবে।

বেনাপোল ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান বলেন, ট্রাকে থাকা পণ্যের ওজনের পরিবর্তে ট্রাকের চাকার সংখ্যার ভিত্তিতে শুল্ক নির্ধারণের কারণে আগেই মাছ আমদানি কমে গিয়েছিল। নতুন বাজেটে মাছের ওপর আরও শুল্ক বাড়ানোয় ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের সংকটে পড়েছেন।

বেনাপোল স্থলবন্দরের মৎস্য নিয়ন্ত্রণ পরিদর্শক আস-ওয়াদুল ইসলাম জানান, বাজেট ঘোষণার আগে প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০ ট্রাক বিভিন্ন ধরনের মাছ আমদানি হলেও বর্তমানে সেই সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় এক হাজার মেট্রিক টন মাছ কম আমদানি হয়েছে।

বেনাপোল কাস্টমস হাউসের সহকারী কমিশনার মুক্তা চৌধুরী বলেন, আমদানিকৃত মাছের শুল্ক বৃদ্ধির প্রভাব সম্পর্কে আমদানিকারকরাই ভালো বলতে পারবেন। তবে গত অর্থবছরে বেনাপোল কাস্টমস দিয়ে ১ কোটি ১৬ লাখ ৭ টন সুইট ফিশ এবং ৭৪ লাখ ৮১ টন সি ফিশ আমদানি হয়েছে। নতুন বাজেট কার্যকরের পর এ পর্যন্ত ৩৮৬ টন সুইট ফিশ ও ১৯৪ টন সি ফিশ আমদানি হয়েছে।